নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: পার্টি ও সরকারের মধ্যে সমন্বয়ের অভাব হচ্ছে। সেই ফাঁক দ্রুত পূরণ করতে হবে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর উপস্থিতিতে রবিবার রাজ্য বিজেপি পদাধিকারী উদ্দেশে এই বার্তা দিলেন দলের সর্বভারতীয় সভাপতি নীতিন নবীন। শুক্রবারই নয়া রাজ্য কমিটি ঘোষণা করেছে পশ্চিমবঙ্গের শাসক দল। মূল কমিটির পাশাপাশি সহযোগী সংগঠনের মাথাদের মনোনয়ন হয়ে গিয়েছে। শমীক ভট্টাচার্যের নেতৃত্বাধীন নবগঠিত টিমের সঙ্গে এদিন প্রথম বৈঠকেই প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে চলার পরমার্শ দিয়েছেন নীতিন। উল্লেখ্য, বাংলায় প্রথমবারের জন্য ক্ষমতায় এসেছে। গত পাঁচমাসে বিভিন্ন ইস্যুতে দল ও সরকারের মধ্যে তালমিলের অভাব প্রকট হয়েছে। যার মধ্যে অন্যতম অন্নপূর্ণা যোজনা। নতুন সরকার আসার পর ৩ হাজার টাকা পেতে নতুন করে আবেদন নিয়ে ক্ষোভ তৈরি হয়েছিল। যোগ্য প্রাপকদের বঞ্চিত করা নিয়ে শুভেন্দু অধিকারী সরকারের বিরুদ্ধে মহিলারা রাস্তায় নেমেছিল। কিন্তু কোনো ক্ষেত্রেই সহযোগীর ভূমিকায় দেখা যায়নি বিজেপি পার্টিকে। যদিও ভোটের আগে পার্টির ইস্তাহারেই এই অন্নপূর্ণা যোজনার ৩ হাজার টাকা করার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল।
এই ধরনের বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে দিল্লিতে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের কাছে নালিশ করা হয়েছিল। প্রশাসনের একাংশ পার্টির অভ্যন্তরে এক শ্রেণির নেতাদের ‘অন্তর্ঘাতের’ অভিযোগ তুলেছে। গুরুতর এই ‘রোগ’ সমূলে বিনাশ করতে তাই মরিয়া হয়ে উঠেছেন সর্বভারতীয় সভাপতি। এদিন নীতিন নবীন সাফ জানিয়েছেন, সংগঠন ও জনপ্রতিনিধিদের মধ্যে সমন্বয় রেখে চলতে হবে। দলের রাজ্য কমিটির এক নেতা বলেন, পশ্চিমবঙ্গে আমাদের সরকার এই প্রথম ক্ষমতায় এসেছে। অভিজ্ঞতার অভাব রয়েছে। তাই পার্টি ও প্রশাসনের তালমিলে খানিক সমস্যা হচ্ছে। আমরা বিভিন্ন পর্যায়ে সাংগঠনিকভাবে প্রশিক্ষণ শিবির করছি। ধীরে ধীরে এই সমস্যা কেটে যাবে বলে আশাবাদী ওই নেতা। তবে তাঁর অভিযোগ, বহু জেলা সভাপতি কিংবা দলের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতারা রাজ্যের মন্ত্রী-বিধায়কদের নিয়েই মেতে রয়েছেন। সংগঠনের দিকটি উপেক্ষিত হচ্ছে। পাশাপাশি অনেক বিধায়ক পার্টির শৃঙ্খলা ভেঙে জেলা নেতৃত্বকে এড়িয়ে ‘বেড়ে খেলা’রও চেষ্টা করছেন। সবটাই সুনির্দিষ্ট পর্যায়ে নথিভুক্ত হয়ে সংশ্লিষ্ট নেতৃত্বের গোচরে আনা হচ্ছে। পুজোর পর এই ছন্নছাড়া দশা অনেকটাই কেটে যাবে বলেও মনে করেন তিনি। এদিক, আজ সোমবার নিউ টাউন ও উত্তর ২৪ পরগনায় নীতিন নবীনের একগুচ্ছ দলীয় কর্মসূচি রয়েছে। বিকেলে তাঁর দিল্লি ফিরে যাওয়ার কথা। নিজস্ব চিত্র