Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

নিশুর স্ট্রং নেটওয়ার্ক কলকাতাতেও

বিহারে গ্যাংস্টার চন্দন মিশ্রা খুনে অভিযুক্ত তৌসিফ ও নিশুর কলকাতায় আসা এই প্রথম নয়। এর আগেও তারা কলকাতা ঘুরে গিয়েছে। অভিজাত হোটেল, পানশালায় পার্টি করেছে।

নিশুর স্ট্রং নেটওয়ার্ক কলকাতাতেও
  • ২১ জুলাই, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: বিহারে গ্যাংস্টার চন্দন মিশ্রা খুনে অভিযুক্ত তৌসিফ ও নিশুর কলকাতায় আসা এই প্রথম নয়। এর আগেও তারা কলকাতা ঘুরে গিয়েছে। অভিজাত হোটেল, পানশালায় পার্টি করেছে। পানশালায় যাতায়াত করতে করতেই নিশুর সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা গড়ে উঠেছিল কলকাতার অপরাধ জগতে জড়িত ব্যক্তিদের সঙ্গে। বিহার পুলিসের সঙ্গে গুলির লড়াইয়ে শিরদাঁড়ায় গুলি খাওয়া নিশু এখানকার অপরাধীদের কাছে অস্ত্র সরবরাহ করত। এমনকী এখানকার অপরাধীদের শার্প শ্যুটারের দরকার পড়লে তা জোগানদার ছিল নিশু। তদন্তে নেমে এই তথ্য পেয়েছে  বিহার পুলিস। এখানে কার কার সঙ্গে যোগাযোগ দু’জনের মোবাইলের সূত্র ধরে সেটাই জানার চেষ্টা করছেন তদন্তকারীরা।

Advertisement

পাটনার হাসপাতালে অপরাধের পর নিশু ও তৌসিফ কেন কলকাতায় এল তার উত্তর প্রথম থেকেই খুঁজছিল বিহার পুলিস। তার খোঁজ করতেই জানা যায়, নিশু ও তৌসিফের পার্টি করার অভ্যাস বহু পুরনো। মাঝেমধ্যেই গাড়ি নিয়ে হাজির হতো এই রাজ্যের হাইওয়ে লাগোয়া বিভিন্ন পানশালা। রাতভর পার্টি করে চলে যেত পাটনায়। এই হাইওয়ে পানশালায় অপরাধীদের সঙ্গে পরিচয় হওয়ার পর তাদের অস্ত্র সরবরাহ শুরু করে নিশু। তৌসিফই ভাইকে অস্ত্র সরবরাহ করত। নিশু গাড়িতে করে এই আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে আসত। ধীরে ধীরে কলকাতায় পা রাখা শুরু করে নিশু। বিহার পুলিসের কাছে আসা তথ্য অনুযায়ী তপসিয়া, তিলজলা, পার্ক সার্কাস এলাকায় শক্তিশালী নেটওয়ার্ক গড়ে তোলে। এখানে তার নিজস্ব ছেলে তৈরি করে। তারা বিহার থেকে শুধু অস্ত্রই আমদানি করত না, নিশুর কথামতো বিহারে বিভিন্ন অপারেশনে যাচ্ছে। আবার অপারেশন শেষে ফিরে আসছে শহরে। বছর দুই আগে পুলিসের সঙ্গে গুলির লড়াইতে নিশু গুলিবিদ্ধ হয়। তারপর কলকাতায় আসা বন্ধ হয় তার। বিহার পুলিস সূত্রের খবর, এক মহিলার সঙ্গে অবৈধ সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ার পর ওই মহিলার প্রেমিকা তার শিরদাঁড়া লক্ষ্য করে গুলি চালায়। তাতেও আহত হয় সে।
বিহার পুলিসের দাবি, নিশুর হয়ে যারা কাজ করছে তারা সকলেই পুরুলিয়া জেলে বন্দি শেরুর সঙ্গে যোগাযোগ রেখে চলে। এমনকী, শেরু তাদের ‘মাস মহিনা’ পর্যন্ত দিয়ে থাকে বলে খবর। শেরু এই টাকা জেলে বসেই তোলাবাজি করে জোগাড় করছে। কারা শেরুকে নিয়মিত টাকা দিচ্ছে, তা জানতে শেরুকে হেফাজতে নিয়ে জেরা করতে খুব শীঘ্রই আদালতে আবেদন জানাচ্ছে বিহার পুলিস।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ