সংবাদদাতা, তেহট্ট: তেহট্ট থানার নিশ্চিন্তপুরে গণপিটুনিতে দু’জনের মৃত্যুর ঘটনায় মঙ্গলবার রাতে আরও দু’জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এই নিয়ে বুধবার সকাল পর্যন্ত এই ঘটনায় ধৃতের সংখ্যা বেড়ে দাড়াল ১৫। প্রসঙ্গত, ন’বছরের এক বালককে অপহরণ করে খুন করা হয়েছে, এই অভিযোগে গত ৬ সেপ্টেম্বর শনিবার উত্তাল হয়ে ওঠে নিশ্চিন্তপুর গ্রাম। এই ঘটনার পর উত্তেজিত জনতা ওই বালকের প্রতিবেশী উৎপল মণ্ডল, সোমা মণ্ডল ও তাঁদের বড় বৌমা নিশা মণ্ডলকে বাড়ি থেকে বের করে এনে প্রচণ্ড মারধর করে। তাতে উৎপল ও সোমার মৃত্যু হয়। সেই ঘটনায় পুলিশ স্বতঃপ্রণোদিত মামলা করে ধরপাকড় শুরু করেছে।
পুলিশি ধরপাকড়ের জেরে নিশ্চিন্তপুর বটতলাপাড়া এলাকায় কেউ বাড়িতে থাকছেন না। অনেকে পরিবার নিয়ে চলে গিয়েছে। তার প্রভাব পড়েছে স্কুল থেকে অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রে। নিশ্চিন্তপুর নতুনপাড়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির পড়ুয়া ছিল মৃত স্বর্ণাভ বিশ্বাস। মঙ্গলবার থেকে ৯১ জন পড়ুয়ার কেউই স্কুলে আসছে না। বুধবার সেখানে গিয়ে দেখা যায়, নিস্তব্ধ স্কুল। ৬ সেপ্টেম্বর শনিবার পড়ুয়াদের নীরবতা পালন করে স্কুল ছুটি দিয়ে দেওয়া হয়। সোমবার পঠনপাঠন হয়েছিল। কিন্তু, মঙ্গল ও বুধ এই দু’দিন শিক্ষকরা হাজির থাকলেও কোন ছাত্রছাত্রী স্কুলে আসেনি। স্কুলের ভারপ্রাপ্ত শিক্ষক মানিক সরকার বলেন,আতঙ্কে অভিভাবকরা স্কুলে বাচ্চাদের পাঠাচ্ছেন না। কেউ না আসায় দু’দিন ধরে মিড ডে মিল রান্না হয়নি।
একই অবস্থা ৮০ নং অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রের। শিশু ও প্রসূতি মিলিয়ে মোট ৬২ জন আছে ওই কেন্দ্রে। সেখানকার দিদিমণি অর্চনা মণ্ডল হালদার বলেন,কেউ আসেনি। তাই দুদিন ধরে রান্নাও হয়নি।
তবে বালক খুনের ঘটনায় উৎপল মণ্ডল ,সোমা ও নিশা প্রত্যক্ষভাবে জড়িত ছিল বলে পুলিশ জানিয়েছে। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার(গ্রামীণ) উত্তম ঘোষ বলেন, আপাতত তদন্তে এই তথ্য মিলেছে। আসলে যে দু’জন ঘটনার কথা জানত, তারা মৃত। তবে আরও তথ্য জানার চেষ্টা করা হচ্ছে।