Bartaman Logo
১৪ আগস্ট, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

অভয়া কাণ্ড: বালেশ্বর থেকে ধৃত প্রাক্তন এমএলএ নির্মল, মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশ, চলছে অন্যান্য অভিযুক্তদের খোঁজ

অভয়া কাণ্ডে পানিহাটির প্রাক্তন বিধায়ক নির্মল ঘোষসহ তৃণমূল নেতাদের ভূমিকা নতুন করে খতিয়ে দেখার জন্য বারাকপুরের পুলিশ কমিশনারকে নির্দেশ দেন মুখ্যমন্ত্রী।

অভয়া কাণ্ড: বালেশ্বর থেকে ধৃত প্রাক্তন এমএলএ নির্মল, মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশ, চলছে অন্যান্য অভিযুক্তদের খোঁজ
  • ১৪ আগস্ট, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বরানগর: অভয়া কাণ্ডে পানিহাটির প্রাক্তন বিধায়ক নির্মল ঘোষসহ তৃণমূল নেতাদের ভূমিকা নতুন করে খতিয়ে দেখার জন্য বারাকপুরের পুলিশ কমিশনারকে নির্দেশ দেন মুখ্যমন্ত্রী। তার তিনদিনের মধ্যে ওড়িশার বালেশ্বর থেকে গ্রেপ্তার করা হল নির্মলকে। পুলিশ জানিয়েছে, তাঁকে শুক্রবার বারাকপুর আদালতে তোলা হবে। একই কেসে পানিহাটির প্রাক্তন চেয়ারম্যান সোমনাথ দে এবং প্রাক্তন কাউন্সিলার সঞ্জীব মুখোপাধ্যায় এখনো অধরা। তাঁদের খোঁজেও তল্লাশি চালাচ্ছে পুলিশ। তাঁদের গ্রেপ্তারিও সময়ের অপেক্ষা বলে মত রাজনৈতিক মহলের। নির্মলের পরিবারের দাবি, তিনি রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের শিকার। 

Advertisement

গত রবিবার পানিহাটিতে অভয়াস্মরণ অনুষ্ঠানে যোগ দেন শুভেন্দু অধিকারী। অভয়াকে তড়িঘড়ি দাহ এবং নথিতে তৃণমূল নেতাদের সই নিয়ে সেখানে প্রশ্ন তোলেন তিনি। এরপরই ঘটনার নতুন করে তদন্তের নির্দেশ দেন তিনি পুলিশকে। অভয়ার পরিবার সোমবার খড়দহ থানায় নতুন অভিযোগ দায়ের করে। পুলিশের ভয় দেখানো, বাধাদান, প্রমাণ লোপাটসহ মোট ৯টি ধারায় কেস রুজু হয়েছে। এরপরই মূল অভিযুক্ত নির্মল ঘোষরে খোঁজে হন্যে হয়ে ঘুরছিল পুলিশ। তারা খবর পায়, নির্মল মাসখানেক যাবৎ বাইরে। কিছুদিন আগে সম্বলপুরে গিয়েছিলেন। সেখান থেকে গা ঢাকা দেন বালেশ্বর জেলায় সিমুলিয়া থানার জামুঝাধির একটি হোটেলে। 
বৃহস্পতিবার ভোরে বারাকপুর পুলিশের বিশেষ বাহিনী সেখানে পৌঁছে নির্মলকে গ্রেপ্তার করে। এছাড়া ভোট-পরবর্তী হিংসা এবং তোলাবাজিরও একাধিক অভিযোগ দেওয়া হয়েছে তাঁকে। উল্লেখ্য, ২০২১ ভোট-পরবর্তী হিংসা মামলায় নির্মলের ছেলে তীর্থঙ্কর কিছুদিন আগেই গ্রেপ্তার হন। তিনি এখন জেল হেপাজতে। নির্মল গ্রেপ্তারের খবর ছড়িয়ে পড়তেই এদিন বিজেপি কর্মীরা পানিহাটি পুরসভার সামনে ঢাকঢোল নিয়ে জড়ো হন। গেরুয়া আবির ওড়ানোর পায়াপাশি মিষ্টিমুখসহ বিজয়োল্লাসে মেতে ওঠেন তাঁরা। পুরসভার গেটে নির্মলের ছবিতে জুতোর মালা পর্যন্ত ঝোলানো হয়।
স্থানীয় বিজেপি নেতা জয় সাহা বলেন, পানিহাটিবাসী আজ পুরোপুরি মুক্তি পেলেন। পতন হল দীর্ঘদিনের ঘোষ সাম্রাজ্যের।
নির্মল ঘোষের বড়ো মেয়ে ছন্দা ঘোষ বলেন, বাবার বয়স ৮০। তাঁর ৫৩ বছরের রাজনৈতিক জীবন। এই ঘটনায় ৩০ ঘণ্টা জেরা করেও সিবিআই তাঁকে ছেড়ে দিয়েছিল। এখন মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশেই তাঁকে গ্রেপ্তার করা হল। বাবা রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের শিকার। অপর অভিযুক্ত সঞ্জীব মুখোপাধ্যায় ফোনে বলেন, আমি কাজে বাইরে আছি। আগেও তদন্তে সহযোগিতা করেছি। আবারও ডাকলে যাব। সবরকম সহযোগিতা করব। আমার দুর্ভাগ্য যে, আমি অভয়ার প্রতিবেশী। ডাকে সাড়া দিয়ে শোকাহত পরিবারের পাশে দাঁড়াতে গিয়েছিলাম মাত্র। 
এদিকে গ্রেপ্তার হওয়ার খবর সামনে আসতেই নির্মলের সঙ্গে দূরত্ব তৈরি করল তৃণমূলের দুই শিবির। মমতাপন্থী কালীঘাট তৃণমূলের মুখপাত্র কুণাল ঘোষ বলেন, নির্মল ঘোষকে সমর্থন করার কোনো বিষয় নেই। উনি কী করেছেন, তার যাবতীয় বিষয়ে তিনি বা তাঁর আইনজীবী উত্তর দেবেন। আমরা কোনো মন্তব্য করব না। তবে কুণালের প্রশ্ন, এতদিন পর নির্মল ঘোষ গ্রেপ্তার হলেন! সিবিআই কি ঘুমোচ্ছিল? অন্যদিকে, তৃণমূলের বিদ্রোহী গোষ্ঠীর নেতা তথা রাজ্যের বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, নির্মল ঘোষের সঙ্গে আমাদের দূর-দূরান্তের কোনো সম্পর্ক নেই। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ