নয়াদিল্লি: রাজধানী দিল্লিতে ফের নির্ভয়া কাণ্ডের ছায়া। এবারও বাসের মধ্যে গণধর্ষণের শিকার এক মহিলা। তাঁর অভিযোগের ভিত্তিতে কয়েকঘণ্টার মধ্যে চালক ও কন্ডাকটরকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। রাজধানীর বুকে নারী নিগ্রহের ঘটনার পরই সরব হয়েছে বিরোধীরা। তাদের বক্তব্য, দিল্লিতে ডাবল ইঞ্জিন সরকার রয়েছেন। পুলিশের দায়িত্বে অমিত শাহের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক। তারপরও মহিলাদের নিরাপত্তা দিতে প্রশাসন ব্যর্থ। ২০১২ সালের নির্ভয়া কাণ্ডের প্রসঙ্গ টেনে বিরোধী দল আপ এই ঘটনাকে ‘অত্যন্ত লজ্জাজনক’ বলে কটাক্ষ করেছে। প্রাক্তন উপমুখ্যমন্ত্রী মণীশ সিশোদিয়া এক্স হ্যান্ডলে লিখেছেন, দিল্লিতে ফের নির্ভয়া কাণ্ড। মেয়েরা স্কুল, বাস—কোথাও সুরক্ষিত নয়।
দিল্লি পুলিশ সূত্রে খবর, মহিলার অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ধর্ষণ, গণধর্ষণ সহ ভারতীয় ন্যায় সংহিতার একাধিক ধারায় রানী বাগ থানায় এফআইআর দায়ের হয়েছে। অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারির পাশাপাশি বাসটিকেও বাজেয়াপ্ত করেছেন তদন্তকারীরা। তদন্ত চলছে। সবদিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, ওই মহিলার বাড়ি পিতমপুরার বস্তি এলাকায়। তিনি বিবাহিত। তিন সন্তান রয়েছে। মঙ্গলপুরীর একটি কারখানায় কাজ করেন। গত ১২ মে রাতে তিনি কর্মস্থল থেকে ফিরছিলেন। সেইসময় সরস্বতী বিহারের বি ব্লক বাসস্ট্যান্ডের কাছে একটি স্লিপার বাস দাঁড়িয়েছিল। বাসে একজনকে দেখতে পেয়ে তাঁর কাছে সময় জানতে চান ওই মহিলা। হঠাৎ সেই ব্যক্তি নীচে নেমে মহিলাকে টেনে-হিঁচড়ে বাসের ভিতরে নিয়ে গিয়ে যায়। তারপর দ্রুত বাসটিকে নানগলোই এলাকায় নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে মহিলাকে ধর্ষণ করে দুই অভিযুক্ত। নিগ্রহের পর মহিলাকে বাইরে ছুড়ে ফেলে দেয় বলে অভিযোগ। অভিযুক্তরা বাসের চালক ও কন্ডাকটর। নির্যাতিতার বয়ান রেকর্ড করেছে পুলিশ। তাঁর শারীরিক পরীক্ষাও হয়েছে। তদন্তকারীদের মতে, এই মামলায় ফরেনসিক ও চিকিৎসকদের রিপোর্ট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সেইসঙ্গে ধৃত দুই ব্যক্তিকে জেরা করা হয়েছে। তাদের বয়ান ও অন্যান্য তথ্যের ভিত্তিতে ঘটনাক্রম তৈরির চেষ্টা চালাচ্ছেন তদন্তকারীরা। পুলিশ জানিয়েছে, ভোর পৌনে পাঁচটা নাগাদ নাঙ্গোলি থানা পিসিআর কল পায়। পরে মামলা রানিবাগ থানায় সরানো হয়। নির্যাতিতার স্বামী জানিয়েছেন, তাঁর স্ত্রী হাতে ও মুখে চোট লেগেছে। তিনি জানিয়েছেন, ‘ওর এক আত্মীয় এস ব্লকের কাছে ছেড়ে দিয়ে যায়?তখনই আমরা নির্যাতনের বিষয়টি জানতে পারি। তিনি আরও বলেছেন, থানায় যাওয়ার পর তাঁর স্ত্রী কর্তব্যরত অফিসারের সাহায্য পান। ওই পুলিশ অফিসাররা নির্যাতিতা হাসপাতালে নিয়ে যান। তাঁর বয়ান রেকর্ড করেন। ওই বাসের মালিক জানিয়েছেন, ঘটনার কথা জানার পর তিনি পুলিশকে চালকের বাড়িতে নিয়ে যান। সেখান থেকেই ওই অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়।