নিজস্ব প্রতিনিধি, চুঁচুড়া: আজ, বৃহস্পতিবার হুগলির বাঁশবেড়িয়ায় নিরঞ্জনের শোভাযাত্রা। গত কয়েকদিন ধরে পুজো উদ্যোক্তাদের মধ্যে এ নিয়ে চরম ব্যস্ততা। বুধবার তা তুঙ্গে ওঠে। প্রশাসন ও কেন্দ্রীয় পুজো কমিটি সূত্রে জানা গিয়েছে, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার মুখে শুরু হবে শোভাযাত্রা। চুঁচুড়া ও বাঁশবেড়িয়া মিলে ৪৫টি পুজো অংশ নেবে। পথে নামবে প্রায় ১৫০ সুসজ্জিত গাড়ি। থাকবে ১০০টিরও বেশি ব্যান্ড। রাজ্য, দেশ ও বিদেশ থেকে ব্যান্ড আনা হবে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন উদ্যোক্তারা। এবার পুজোর সঙ্গে শোভাযাত্রার বহরও বেড়েছে। জানা গিয়েছে, আড়ম্বর সমেত উৎসব উদযাপন দেখা যাবে কার্তিক নগরী বাঁশবেড়িয়ায়।
অন্যদিকে কার্তিক পুজোর শেষদিনেও ভিড়ের দাপট কম ছিল না বাঁশবেড়িয়ায়। শেষপর্বের পুজো দেখতে কার্যত জনস্রোত ভেঙে পড়ে। বিকেল থেকে কার্তিক নগরীতে ভিড় জমেছিল আমজনতার। ভিড় ছিল মূলত বহিরাগতদের। সন্ধ্যার পর রাস্তায় নামে হুগলি, বাঁশবেড়িয়ার বাসিন্দাদের ভিড়। দফায় দফায় শহর স্তব্ধ হয়ে যায়। শীতের রাতেও ভিড় সামলাতে ঘাম বেরিয়ে যায় স্বেচ্ছাসেবক ও পুলিশের। জানা গিয়েছে, প্রতিবছর শোভাযাত্রা দেখতে বাঁশবেড়িয়ায় আত্মীয়দের বাড়ি ভিড় জমান অন্য জেলা বা হুগলি জেলার বিভিন্ন প্রান্তের মানুষ। তাঁরা শোভাযাত্রার আগের দিন প্রতিমা দর্শন করতে বেরন। সেই ভিড় প্রতিবছর চমক জাগায়। এবার ভিড়ের দাপট গত কয়েকবছরের তুলনায় অনেকটাই বেশি। তার জেরে বারবার স্তব্ধ হয়েছে কার্তিক নগরী। বাঁশবেড়িয়ার কেন্দ্রীয় কার্তিক পুজো কমিটির সদ্য প্রাক্তন সভাপতি আদিত্য নিয়োগী বলেন, ‘শোভাযাত্রা ও তার আগের দিন উপচে পড়া ভিড় হয়। এটা পুজোর মতোই ভিড়ের ঐতিহ্য। তবে এবার বুধবার রাতের ভিড় অতীতের সমস্ত নজির ছাপিয়ে গিয়েছে। শোভাযাত্রা সুষ্ঠুভাবে করার জন্য আগেই বৈঠক করা হয়েছিল। প্রশাসন ও উদ্যোক্তারা খুবই আন্তরিকভাবে কাজ করছেন। ফলে বৃহস্পতিবার আড়ম্বরের সঙ্গে বেনজির শোভাযাত্রা হবে।’ উদ্যোক্তাদের সূত্রে জানা গিয়েছে, দু’টি জায়গা থেকে শোভাযাত্রার গাড়িগুলি পরিক্রমায় নামবে। একটি ব্যান্ডেল চার্চ ও অন্যটি ধোবাঘাট মোড়। দু’টি পথই হংসেশ্বরী মন্দির হয়ে গিয়ে মিলবে কল্যাণী সেতুর কাছে। তারপর সেখান থেকে একটি সরাসরি ঘাটে চলে যাবে। অন্যটি কেওটা হয়ে নিরঞ্জন ঘাটে ঢুকবে। বিপুল সংখ্যক গাড়ির বহর ও ভিড়ের দাপট সামাল দিতে বুধবার রাত থেকে পুলিশ, প্রশাসন বাড়তি সক্রিয় হয়ে উঠেছে। নিরাপত্তার জন্য জল-সড়ক ও ট্রেন পথে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। বুধবার রাতে একদিকে শোভাযাত্রার শেষপর্বের প্রস্তুতি যেমন চলেছে তেমনই শেষদিনের পুজোকে ঘিরে উপচে পড়া ভিড়ের দাপট দেখেছে কার্তিক নগরী। বাঁশবেড়িয়ার জ্যাংড়া কার্তিক। (নীচে) প্রতিমা নিরঞ্জনের শোভাযাত্রার ট্যাবলো। -নিজস্ব চিত্র