Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

৪০০ পাটকাঠির মশাল জ্বেলে কাটোয়ার মুস্থুলী গ্রামের বোলতলা কালীকে নিরঞ্জন

বিসর্জনের আগেই গ্রামের সমস্ত বাড়িতে বিদ্যুতের আলো নিভিয়ে দেওয়া হয়। কারণ মা গ্রাম প্রদক্ষিণ করবেন। ৪০০ পাটকাঠির মশাল জ্বেলে মাকে বিসর্জন করা হয়।

৪০০ পাটকাঠির মশাল জ্বেলে কাটোয়ার মুস্থুলী গ্রামের বোলতলা কালীকে নিরঞ্জন
  • ২২ অক্টোবর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, কাটোয়া: বিসর্জনের আগেই গ্রামের সমস্ত বাড়িতে বিদ্যুতের আলো নিভিয়ে দেওয়া হয়। কারণ মা গ্রাম প্রদক্ষিণ করবেন। ৪০০ পাটকাঠির মশাল জ্বেলে মাকে বিসর্জন করা হয়। গ্রামের আট থেকে আশি হাতে মশাল নিয়ে গ্রামের রাস্তায় ঘোরেন। সেই আলোতে আলোকিত হয়ে ওঠে পুরো গ্রাম। গ্রামের বুড়ো শিবের সঙ্গে দেখা করিয়ে মশালের আলোতেই বিসর্জন দেওয়া হয় দেবীকে। এই মায়াবী দৃশ্যের সাক্ষী থাকতে কাটোয়ার মুস্থুলী গ্রামে বহু ভক্ত হাজির হন।

Advertisement

কাটোয়া-২ ব্লকের জগদানন্দপুরের মুস্থুলী গ্রামে বোলতলা কালীর অধিষ্ঠান। প্রায় ৩০০ বছর ধরে চলে আসছে এই বোলতলা কালীর আরাধনা। জনশ্রুতি আছে, এক সাধক ওই এলাকায় একটি বকুল গাছের নীচে মা কালীর আরাধনা শুরু করেন। তাঁর আরাধ্য ছিলেন এই দেবী। সেই সাধকের মৃত্যুর পর প্রথমে এলাকার জমিদার এবং পরে এলাকারই এক বাসিন্দাকে পুজোর দায়িত্ব নেন। তবে, বর্তমানে গ্রামবাসীরা এই পুজো চালিয়ে যাচ্ছেন। সাধকের মৃত্যুর পর তাঁর ইচ্ছা অনুযায়ী মন্দিরের কাছেই তাঁকে সমাধিস্থ করা হয়েছে। বকুলতলার কালী থেকেই বোলতলা কালী নামটি এসেছে বলে মনে করা হয়। এই পুজোয় নানান রীতি আছে। মায়ের পুজোর দিন দুপুরে এলাকার মহিলারা মেতে ওঠেন সিঁদুর খেলায়। পুজো শুরু হয় রাত ১২ টার পর। প্রতিমা রঙ করা হয় পুজোর দিন রাতেই। পুজো হয় তন্ত্রমতে। প্রচুর ছাগ বলি হয় পুজোয়। স্থানীয়রা জানান, প্রাচীন সব নিয়ম মেনেই আজও এই পুজো চলে আসছে।
তবে, সবচেয়ে আকর্ষণীয় হল দেবীর বিসর্জন। প্রতিমাকে মন্দির থেকে বের করার পরই গ্রামের সমস্ত আলো নিভিয়ে দেওয়া হয়। এলাকাবাসীর হাতে হাতে জ্বলে ওঠে পাটকাঠির মশাল। কোনও গাড়িতে না চাপিয়ে কাঁধে তুলে নেওয়া হয় দেবীকে। তারপরই দেবীকে কাঁধে নিয়ে শুরু হয় দৌড়। দেবীর সঙ্গে ছুটতে থাকে সারি সারি মশালের আলো। সেই সঙ্গে চলে দেবীর জয়ধ্বনি। এলাকার বাসিন্দারা জানান,  হেঁটে হেঁটে নিয়ে যাওয়া যায় না দেবীকে। তার বদলে কাঁধে প্রতিমা নিয়ে ছুটে যাওয়াই এই পুজোর নিয়ম। প্রতিমা নিয়ে যাওয়া হয় পাশের গ্রাম আমডাঙায়। সেখানে আছেন বুড়ো শিব। তাঁর সঙ্গে দেখা করেন দেবী। দেখা করার পর্ব মিটলে আবার একইভাবে দৌড়ে গ্রামে ফিরিয়ে নিয়ে আসা হয় দেবীকে। পরে মন্দিরের পাশের একটি পুকুরে বিসর্জন করা হয় প্রতিমা। 
বোলতলা পুজো কমিটির কোষাধ্যক্ষ নিতাইচন্দ্র ঘোষ বলেন, গ্রামের ৪০০জন পাটকাঠির গোছায় আগুন লাগিয়ে মশাল বানান। সেই আলোয় মাকে বিসর্জন করা হয়। আর বিসর্জন দেখতে গ্রামে বহু মানুষের সমাগম হয়। সে সময় গ্রামের বাসিন্দারা তাঁদের বৈদ্যুতিক আলো নিভিয়ে দিয়ে মাকে সম্মান জানান বাসিন্দারা। পাটকাঠির মশালের আলোতেই মাকে বিসর্জন করা হয়। পুজো কমিটির আর এক সদস্য সীমন্ত মণ্ডল বলেন, মায়ের বিসর্জনই মূল আকর্ষণ। রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তের মানুষ এসে ভিড় জমান।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ