দশমীর রাত থেকেই সতর্ক নজরদারিতে বারাকপুর ও বারুইপুরে প্রতিমা নিরঞ্জন
  • ২৩ অক্টোবর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাকপুর ও সংবাদদাতা, বারুইপুর: দশমীর রাত থেকে প্রতিমা বিসর্জন শুরু হয়েছে। কোথাও তা শুক্রবার পর্যন্ত চলবে। কোথাও শনিবার বিসর্জন শেষ হবে। বারুইপুরে বিসর্জন ঘিরে চূড়ান্ত সতর্কতা অবলম্বন করেছে বারুইপুর পুলিশ জেলা ও বারুইপুর মহকুমা প্রশাসন। সদাব্রত ঘাটে আদি গঙ্গায় চলছে প্রতিমা বিসর্জন। বুধবার প্রায় ৫০টি প্রতিমা নিরঞ্জন হয়েছে। বৃহস্পতিবারও ২০টির বেশি প্রতিমা নিরঞ্জন হয়েছে। প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, শনিবার পর্যন্ত বিসর্জন চলবে।  

Advertisement

নজরদারির জন্য বারাকপুর থেকে আনা হয়েছে এসডিআরএফ (বিপর্যয় মোকাবিলা টিম)। আদি গঙ্গায় বোটে চেপে তাঁরা নজরদারি চালাচ্ছে। ওড়ানো হচ্ছে ড্রোন। বারুইপুরের সদাব্রত ঘাটেই মূলত বারোয়ারি ও বনেদি বাড়ির প্রতিমা বিসর্জন হয়। এছাড়াও বারুইপুরের জোড়ামন্দির ঘাটেও চলছে বিসর্জন। সদাব্রত ঘাটে লাগানো হয়েছে তিনটি সিসি ক্যামেরা। বারুইপুর মহকুমা প্রশাসন থেকে ৩০ জনের সিভিল ডিফেন্স টিম নামানো হয়েছে। বারাকপুর থেকে আটজনের এসডিআরএফের টিম এসে বোটে চেপে নজরদারির কাজ করছে। বারুইপুর পুলিশ জেলা থেকে পর্যাপ্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এছাড়াও মেডিকেল ক্যাম্প করা হয়ছে। যদিও এবারে ঘাটে কোনো ক্রেনের ব্যবস্থা করা হয়নি। পুজো কমিটির লোকজনকে দায়িত্ব নিয়ে ঘাটে নেমে প্রতিমা বিসর্জন করতে হচ্ছে। বিপর্যয় মোকাবিলা দপ্তরের টিম দুর্ঘটনা রুখতে মাইকে বার বার মানুষজনকে সতর্ক করছেন। গঙ্গায় যে কাঠামো পড়ছে, তা ধারে সরিয়ে দেওয়ার কাজও করছে এস ডি আর এফের টিম। বুধবার রাতে বারুইপুরের মহকুমা শাসক মুদ্রা গাইরোলা ও বারুইপুর পুলিশ জেলার সুপার অরবিন্দ আনন্দ ঘাটে গিয়ে প্রশাসনের অন্য আধিকারিকদের সঙ্গে কথা বলেন। পুলিশ সুপার বলেন, সবরকম ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। কোনো দুর্ঘটনা যাতে না হয় সেইদিকে কড়া নজর রাখা হচ্ছে। বারাকপুরেও গঙ্গার ঘাটগুলিতে কড়া পাহারার মধ্য দিয়ে বিসর্জন চলছে। দশমীতে অধিকাংশ প্রতিমা বিসর্জন হয়। টিটাগড়ের রাসমণি ঘাট, বারাকপুরের মঙ্গল পাণ্ডে ঘাট, হালিশহরের বিসর্জন ঘাট, নৈহাটি রামঘাট বুধবার রাতে একের পর এক প্রতিমা বিসর্জন হয়। ঘাটগুলি ঘুরে দেখেন মন্ত্রী অর্জুন সিং। সঙ্গে বারাকপুরের মহকুমা শাসক যাদব সূর্যভান আচ্ছেলাল এবং পুলিশকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। যাতে নির্বিঘ্নে বিসর্জন করা যায় তার জন্য সবরকম ব্যবস্থা নেওয়া হয় প্রশাসনের তরফে। বৃহস্পতিবার বিসর্জন হয় না বললেই চলে। বারাকপুর পুলিশ কমিশনারেট এবং প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিসর্জনের শেষ দিন নির্ধারিত হয়েছে আজ শুক্রবার।