Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

বারাসতে বাদুড়ের দেহে মিলল নিপা, রহস্যভেদের দিকে বিজ্ঞানীরা?

বারাসতের কাজিপাড়ার কুবেরপুরের কাছে বাদুড়ের দেহ থেকে সংগৃহীত নমুনা পরীক্ষায় মিলল নিপা ভাইরাসের অস্তিত্ব।

বারাসতে বাদুড়ের দেহে মিলল নিপা, রহস্যভেদের দিকে বিজ্ঞানীরা?
  • ২০ জানুয়ারি, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

বিশ্বজিৎ দাস, কলকাতা: ঠিক কোথা থেকে রাজ্যে ছড়িয়েছিল নিপা, তা আরও নির্দিষ্টভাবে জানতে বাদুড় নিয়ে সমীক্ষা শুরু করলেন আমেদাবাদের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব ওয়ান হেলথের (এনআইওএইচ) বিজ্ঞানীরা। শুরুতেই মিলল সাফল্য। বারাসতের কাজিপাড়ার কুবেরপুরের কাছে বাদুড়ের দেহ থেকে সংগৃহীত নমুনা পরীক্ষায় মিলল নিপা ভাইরাসের অস্তিত্ব। এরপর বিজ্ঞানীদের লক্ষ্য নদীয়ায় ভারত-বাংলাদেশ সীমানায় বাদুড় সমীক্ষা করার।

Advertisement

নদীয়ার কৃষ্ণগঞ্জে ভারত-বাংলাদেশ সীমানার গ্রাম গুগড়াগাছি থেকেই ছড়িয়েছে নিপা ভাইরাস, এমনটাই আশঙ্কা করা হয়েছিল। সেই গ্রামেই একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে যোগ দিতে গিয়েছিলেন ওই তরুণী নার্সিং কর্মী। পরে এনসেফেলাইটিসে আক্রান্ত ৫৫ বছরের এক মহিলার মৃত্যুর খবর পাওয়ার পর ধন্দ বাড়ে। বারাসতের কাজিপাড়ার বাসিন্দা ওই মহিলার উপসর্গ এবং বিভিন্ন পরীক্ষার রিপোর্ট দেখে চিকিৎসক ও বিজ্ঞানীমহলের একাংশের ধারণা হয়, সম্ভবত ওই মহিলাই প্রথম নিপা রোগী। যদিও নিপা টেস্ট না হওয়ায় সেই অনুমানকে খুব বেশি গুরুত্ব দেয়নি বিজ্ঞানী-চিকিৎসকদের একাংশ। এবার সমীক্ষায় কাজিপাড়ায় ওই মহিলার বাড়ির আশপাশের বাদুড়ের নমুনা পরীক্ষায় নিপা ভাইরাস মেলায় দু’য়ে দু’য়ে চার করছেন অনেকে।

চিকিৎসক-বিজ্ঞানীমহল সূত্রের খবর, আমেদাবাদের এনআইওএইচ-এর ৭ জন টেকনোলজিস্ট এসেছেন, যাঁরা জাল পেতে বাদুড় ধরে তাদের শরীর থেকে নমুনা সংগ্রহে পারদর্শী। তাঁরাই জিও লোকেশন ধরে ওই মহিলার কাজিপাড়ার বাড়ির কাছেই কুবেরপুর এলাকায় জাল পেতে ন’টি বাদুড় ধরেন। তাদের একটির দেহে নিপার অ্যান্টিবডি মিলেছে। অর্থাৎ কোনো না কোনো সময় সে নিপায় আক্রান্ত হয়েছিল। তবে মহিলার বাড়ির আশপাশের এলাকা থেকে সংগৃহীত খেজুরের রসের ২৪টি নমুনাই নেগেটিভ এসেছে। সূত্রের খবর, রাজ্যের কাছ থেকে বিজ্ঞানীরা কাজিপাড়া ও সন্নিহিত এলাকা থেকে ১০০টি বাদুড়ের নমুনা সংগ্রহ ও পরীক্ষার অনুমতি পেয়েছিল। এবার বাংলাদেশ সীমানাবর্তী বিভিন্ন এলাকা থেকে বাকি বাদুড় ধরে পরীক্ষা করবেন তাঁরা।

এদিকে, সোমবার থেকে পুরোদমে চালু হল বারাসতের সেই বেসরকারি হাসপাতাল। দুই নিপা রোগীএখানেই ভর্তি রয়েছেন। পুরুষনার্সের শারীরিক অবস্থার উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। ভেন্টিলেটরথেকে বেরনোর পর স্বাভাবিক হাঁটাচলা, কথা বলা, খাওয়াদাওয়া করছেন। আক্রান্ত তরুণীর শারীরিক অবস্থার সামান্য উন্নতি হলেওএখনও তিনি আশঙ্কাজনক। যাঁর অধীনে তাঁরা ভর্তি, সেই সিসিইউ ইনচার্জ ডাঃ স্বরূপ পাল বলেন, ছেলেটির এইভাবে উন্নতি হলে, কোয়ারেন্টাইন পর্ব শেষে ছুটিদেওয়ার কথা ভাবব। তার আগে অবশ্য দু’বার নিপা টেস্ট নেগেটিভ আসা দরকার। মেয়েটির দীর্ঘকালীন চিকিৎসা জরুরি।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ