নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: আগে গ্যারাজে গাড়ি সারানোর কাজ করতেন। কয়েক বছরের মধ্যে সেই মেকানিকই চারটি বাইকের শোরুমের মালিক! সঙ্গে পুরনো গাড়ির কেনাবেচা, ভেড়ির ব্যবসা। দত্তপুকুরের বামনগাছির মুরারি রাকিবুল ইসলামের ‘রকেট গতি’তে উত্থান নিয়ে এলাকায় চর্চা ছিলই। এবার বুধবার রাতে তাঁর গাড়ি থেকে বিস্ফোরক তৈরির সামগ্রী উদ্ধারের পর সেই উত্থানের নেপথ্য খতিয়ে দেখতে শুরু করেছেন তদন্তকারীরা। নজরে এসেছে, তাঁর বিপুল সম্পত্তি বৃদ্ধির বিষয়টিও। পাশাপাশি, বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে রাকিবুলের বাংলাদেশ-যোগের সূত্র মিলেছে বলে খবর।
এদিকে ২০১৭ সালের আমডাঙায় তাঁর এক বন্ধুর সঙ্গে যৌথভাবে তৈরি বাইকের একটি শো-রুমে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে বলে সূত্রের দাবি। তাহলে কি সেই ঘটনার পুনরাবৃত্তি হতে চলেছিল? চর্চা দত্তপুকুর জুড়ে। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, গাড়ির মেকানিক হিসাবে কাজ করতেন রাকিবুল। ২০১৮ সালের পর থেকে ব্যবসার পরিধি দ্রুত বাড়ে। দত্তপুকুর, দেগঙ্গা সহ মোট চারটি বাইকের শোরুমের মালিক তিনি। রাকিবুলকে ঘিরে বিস্ফোরক-কাণ্ডের সূত্র অবশ্য একেবারে নতুন নয়। ২০১৭ সালে আমডাঙায় তাঁর একটি বাইকের শো-রুমে বিস্ফোরণের অভিযোগ উঠেছিল। পুলিশের একটি সূত্রের দাবি, ব্যবসার অংশীদারদের সঙ্গে বিবাদের জেরেই সেই ঘটনা ঘটেছিল। প্রায় ন’বছর পর ফের তাঁর গাড়ি থেকে বিস্ফোরক তৈরির উপাদান উদ্ধারের ঘটনায় পুরনো ঘটনাটিও তদন্তের আলোচনায় উঠে এসেছে। তবে দু’টি ঘটনার মধ্যে কোনো যোগ রয়েছে কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়। বুধবার রাতেই পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে তাঁর বাংলাদেশে যাতায়াতের বিষয়ে কিছু তথ্য পেয়েছেন তদন্তকারীরা। রাকিবুল ঘনঘন বাংলাদেশে যেতেন বলেও জানতে পেরেছেন তাঁরা। সেই যাতায়াতের উদ্দেশ্য কী ছিল, তার সঙ্গে বিস্ফোরক উদ্ধারের কোনও সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। স্থানীয় বাসিন্দা অমিত দাস ও রাজু দাসের কথায়, পুলিশ তদন্ত করলেই আসল ঘটনা সামনে আসবে। তবে ছেলের সম্পত্তি বৃদ্ধিতে অস্বাভাবিক কিছু দেখছেন না রাকিবুলের বাবা ফকির আলি। তাঁর দাবি, ছেলে ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে ব্যবসা করেছেন। ঋণ নিয়েই ভেড়ির ব্যবসাও শুরু করেন। রাকিবুলের কাকা আমিন আলির আবার বক্তব্য, বাইকের শো-রুমের পাশাপাশি পুরানো গাড়ি কেনাবেচা এবং ভেড়ির ব্যবসাও করতেন ভাইপো। বুধবার রাত ১১টা নাগাদ পুলিশ, এনআইএ এবং এনএসজি কমান্ডোরা বাড়িতে এসে তল্লাশি চালান। কী ঘটনা, আমরা বুঝতে পারছি না। এক সময়ের গাড়ির মেকানিকের একাধিক ব্যবসার মালিক হয়ে ওঠা, বিপুল সম্পত্তি বৃদ্ধি, পুরানো শো-রুমে বিস্ফোরণে, এ বার গাড়ি থেকে বিস্ফোরক তৈরির উপাদান উদ্ধার—সব মিলিয়ে রাকিবুলকে ঘিরে তদন্তের পরিধি বাড়ছে। সেই সঙ্গে সামনে এসেছে বাংলাদেশে যাতায়াতের সূত্রও। এই সব সূত্র একে অপরের সঙ্গে সম্পর্কিত কি না, এখন সেটাই খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।



