নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: গুকেশ নাম প্রত্যাহার করে নেওয়ায় টুর্নামেন্টে আমন্ত্রণ পেয়েছিলেন নিহাল সারিন। সুযোগের পূর্ণ সদ্ব্যবহার করে টাটা স্টিল র্যাপিড দাবায় চ্যাম্পিয়ন কেরলের ২১ বছর বয়সি দাবাড়ু। শেষ রাউন্ডে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার জন্য তাঁর দরকার ছিল ড্র। অন্যদিকে, খেতাবের দৌড়ে থাকা বিশ্বনাথন আনন্দকে শেষ গেমে জিততেই হত। এই অবস্থায় তাঁদের দ্বৈরথ কার্যত ফাইনালের রূপ নেয়। আর তাতে শেষ হাসি হাসলেন নিহালই। রক্ষণ জমাট রেখে ড্র ছিনিয়ে নেন তিনি (৬.৫ পয়েন্টে)। মরিয়া চেষ্টা করেও জয়ের দেখা পাননি আনন্দ। আসরে তাঁর সংগ্রহ ৬ পয়েন্ট। এর আগে ২০২২ সালেও এই আসরে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিলেন নিহাল।
বৃহস্পতিবারই মাতামহ প্রয়াত হয়েছেন নিহালের। পাঁচ বছরের ডানপিটে নাতিকে শান্ত করতে তিনিই শিখিয়েছিলেন চৌষট্টি খোপের খেলা। এই সাফল্য প্রয়াত দাদুকেই উৎসর্গ করলেন নিহাল। বললেন, বললেন, ‘উনিই দাবা খেলতে শিখিয়েছিলেন। আমি ছোটবেলায় মারাত্মক দুষ্টু ছিলাম। শান্ত করার জন্য দাবার আশ্রয় নেন তিনি। আমার দাবাড়ু হওয়ার একমাত্র কারণ দাদুই। এই ট্রফি তাঁকেই উৎসর্গ করছি।’ সেই সঙ্গে তিনি যোগ করেন, ‘শেষ গেমে আনন্দকে রুখে দিতে পারাটা দ্বিগুণ বাড়িয়েছে সাফল্যের স্বাদ। এই বয়সেও তাঁর পারফরম্যান্স রীতিমতো মুগ্ধ করেছে আমাকে।’ ম্যাচ শেষে ভিশিও প্রশংসায় ভরিয়েছেন তরুণ এই দাবাড়ুকে। উল্লেখ্য, দু’রাউন্ড আগেও নিহালের সঙ্গে যুগ্মভাবে শীর্ষে ছিলেন আনন্দ। কিন্তু এদিন তিনটি গেমেই ড্রয়ে সন্তুষ্ট থাকতে হয় তাঁকে। অন্যদিকে, আনন্দ ও প্রজ্ঞার সঙ্গে ড্রয়ের পাশাপাশি অষ্টম রাউন্ডে ওয়েসলি সো’কে হারান নিহাল। সেটাই তফাত গড়ে দেয়। মহিলাদের র্যাপিডে চ্যাম্পিয়ন ক্যাটরিনা (৬.৫ পয়েন্ট)।