নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ২০২২ সালের মার্চ থেকে বাংলার জন্য ১০০ দিনের কাজের টাকা দেওয়া বন্ধ করে রেখেছে মোদি সরকার। বকেয়া সাড়ে সাত হাজার কোটি টাকা দেওয়াই হয়নি, উল্টে এ রাজ্যের জন্য নতুন করে শ্রমদিবস বরাদ্দও করেনি কেন্দ্র। এই পরিস্থিতিতে উপকূল রক্ষা করতে ১০০ দিনের কাজের টাকায় ম্যানগ্রোভ বসানোর নিদান দিল কেন্দ্র। এই মর্মে গত ২০ মে রাজ্যকে চিঠি পাঠিয়েছে কেন্দ্রীয় গ্রামোন্নয়ন মন্ত্রক। প্রসঙ্গত, সুন্দরবনের উপকূল রক্ষার জন্য এই ম্যানগ্রোভ বসানোর কাজ বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। রাজ্যের পঞ্চায়েতমন্ত্রী প্রদীপ মজুমদার বলেন, ‘ওরা যা যা চেয়েছে, আমরা সমস্ত তথ্য দিয়েছি। রাজনৈতিক কারণেই কেন্দ্র বকেয়া মেটাচ্ছে না। কিন্তু নিত্যনতুন নিয়ম এনে রাজ্যকে তা মেনে চলার নির্দেশ দিচ্ছে। এটা সত্যিই অদ্ভুত এবং হাস্যকর।’
১০০ দিনের কাজের ২০২৪-২৫ সালের অ্যানুয়াল মাস্টার সার্কুলার অনুযায়ী, গ্রামীণ সড়ক, সেরিকালচার, উদ্যানপালন সহ ১৪টি ক্ষেত্রে অন্যান্য দপ্তরের মধ্যে সমন্বয় সাধন করা যেত। ফলে ‘মনরেগা’ প্রকল্পের অধীনে জবকার্ড হোল্ডারদের কাজে লাগিয়ে এই ১৪টি ক্ষেত্রে কাজ করানো যেত। সেই তালিকায় এবার নতুন সংযোজন ম্যানগ্রোভ বসানো সহ উপকূল রক্ষার বিভিন্ন কাজ। ম্যানগ্রোভ বসানো নিয়ে পশ্চিমবঙ্গ সহ দেশের ৯টি রাজ্যে ‘মিষ্টি’ নামে একটি প্রকল্প রয়েছে কেন্দ্রের। সেক্ষেত্রে এই সমন্বয়ের বিষয়টি বিশেষ গুরুত্বপূর্ন। কিন্তু, গত তিন বছর ধরে বাংলার জন্য শ্রমদিবসই বরাদ্দ না হওয়ায় এমন নিদানের কোনও অর্থই হয় না বলে মনে করছে প্রশাসনিক মহল।
তবে এই বঞ্চনার মাঝেও ম্যানগ্রোভ লাগানোর কাজে যথেষ্ট অগ্রগতি নিশ্চিত করেছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার। দেশের অষ্টম বৃহৎ উপকূলরেখা বাংলায় রয়েছে (প্রায় ১৫৭.৫ কিলোমিটার)। বিশেষ নজর থাকে সুন্দরবনের দিকে। মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে বনদপ্তরের উদ্যোগে সব মিলিয়ে ২০ কোটির বেশি ম্যানগ্রোভ উদ্ভিদ লাগানোর কাজ করেছে রাজ্য। বর্তমানে রাজ্যের নিজস্ব কোষাগার থেকে খরচ করেই একাধিক স্কিম হাতে নেওয়া হয়েছে।