


নিজস্ব প্রতিনিধি, নন্দীগ্রাম: ভোটের মুখে নেতাদের এনআইএ নোটিস পাঠানোয় ক্ষমতার অপব্যবহারের বিরুদ্ধে ক্ষোভে ফুঁসছে নন্দীগ্রাম। সোমবার এনিয়ে নোটিস প্রাপকদের পক্ষ থেকে কলকাতা নগর দায়রা আদালতে মামলাও দায়ের হয়েছে। ২০২৪সালে ৮ডিসেম্বর নন্দীগ্রাম-১ ব্লকের অধীন সামসাবাদ পঞ্চায়েতে কাঞ্চননগর দিদারুদ্দিন বিদ্যাভবনে তমলুক কো-অপারেটিভ এগ্রিকালচার ব্যাঙ্কের নন্দীগ্রাম জোনের ভোট ছিল। সেই ভোটে বোমা পড়েছিল। প্রায় দু’বছর বাদে সেই ঘটনায় তদন্তভার পেয়েছে এনআইএ। শাসকদলের ৪৩জন নেতার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে এনআইএ। তারপর নোটিস পাঠানো শুরু হয়েছে। ইতিমধ্যে তৃণমূলের ব্লক কোর কমিটির সদস্য বাপ্পাদিত্য গর্গ, নন্দীগ্রাম অঞ্চল তৃণমূল সভাপতি শঙ্কু নায়েক, সামসাবাদের পঞ্চায়েত সদস্যা সোনালি বিবির স্বামী শেখ সেলিম সহ বেশ কয়েকজন নোটিস পেয়েছেন। অভিযুক্তদের তালিকায় ব্লকের নেতা শেখ আব্দুল আলিম আলরাজি, জেলা পরিষদের জনস্বাস্থ্য কর্মাধ্যক্ষ সামসুল ইসলাম, ভেকুটিয়া অঞ্চল তৃণমূল সভাপতি রাখহরি ঘড়া সহ মোট ৪৩জনের নাম আছে।
ভোটের মুখে তৃণমূল নেতাদের এনআইএর নোটিস পাঠানোকে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা বলে সরব হয়েছেন নন্দীগ্রামের বাসিন্দারা। সামসাবাদ ২০৩নম্বর বুথের শেখ হাবিবুল্লা, শেখ ওহিদুল বলেন, এসআইআরে আমাদের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। আমরা ভোটাধিকার হারিয়েছি। শুধুমাত্র ২০৩নম্বর বুথেই ১৫৪জনের নাম বাদ। এত নাম বাদ যাওয়ার পরও ভয় পাচ্ছে বিজেপি। তাই দু’বছর আগে সমবায় ভোটে একটা বোমা পড়ার ঘটনায় এনআইএ ৪৩নেতাকে নোটিস পাঠিয়েছে। আমরা জানি, বিজেপি জিতলে সরাসরি ডিটেনশন ক্যাম্পে যেতে হবে। তৃণমূল কংগ্রেস জিতলে নো-টেনশন। তাই এলাকার মানুষজনকে শান্তিপূর্ণভাবে গণতান্ত্রিক উপায়ে এর মোকাবিলা করার পরামর্শ দিচ্ছি।
নোটিস পাওয়া শেখ সেলিমের স্ত্রীর সামসাবাদের পঞ্চায়েত সদস্যা সোনালি বিবি বলেন, দু’বছর আগে একটা ঘটনার এনআইএ তদন্ত হল। ওই ঘটনা এত গুরুত্ব থাকলে আগে হল না কেন? তাছাড়া, ভোটের মুখে নোটিস পাঠানো কী রাজনৈতিক প্রতিহিংসা নয়? বিজেপি সরাসরি মোকাবিলা করতে পারছে না। তাই এজেন্সিকে কাজে লাগিয়েছে। তারপরও আমরা জানি, নন্দীগ্রামে বিজেপির হার নিশ্চিত।
সামসাবাদের মীরের বাজারের চায়ের দোকান রয়েছে শেখ জয়নালের। তিনি বলেন, ভোটের মুখে এই নোটিস পাঠিয়ে তৃণমূলকে দমিয়ে দেওয়ার চেষ্টা হচ্ছে। তবে, সেই চেষ্টা বিফলে যাবে। সামসাবাদ পঞ্চায়েতের প্রধান তৃণমূল কংগ্রেস নেতা শেখ আব্দুল মান্নান বলেন, শুধুমাত্র আমাদের গ্রাম পঞ্চায়েতে অ্যাডজুডিকেশন লিস্টে থাকা ৪১৬জনের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়েছে। তারপর নোটিস পাঠিয়ে আরও নেতা-কর্মীর মনোবল ভাঙার চেষ্টা করছে বিজেপি। কর্মীরা সব চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করে পবিত্র করের হয়ে প্রচার চালাচ্ছে। আমরা জানি, অত্যাচার শেষ কথা বলে না। ন্যায়ের জয় হবেই। ৪মে নন্দীগ্রামে সবুজ আবির উড়বে।
বিজেপির জেলা সাধারণ সম্পাদক মেঘনাদ পাল বলেন, কাঞ্চননগরে বোমাবাজির ঘটনায় আমাদের বেশ কয়েকজন জখম হয়েছিলেন। সেই ঘটনায় এনআইএ তদন্তভার পেয়েছে। তারা অভিযোগ দায়ের করে নোটিস পাঠাতে শুরু করেছে। এরসঙ্গে বিজেপির বিন্দুবিসর্গ যোগ নেই। নন্দীগ্রামে পরাজয় নিশ্চিত জেনে এখন থেকেই অজুহাত রেডি রাখছে তৃণমূল কংগ্রেস।