নিজস্ব প্রতিনিধি, পুরুলিয়া: পুরুলিয়া জেলায় মোট চারটি মহকুমা রয়েছে। অথচ জেলাজুড়ে ‘বড়’ মাপের হাসপাতাল বলতে মাত্র দু’টিই! একটি পুরুলিয়া দেবেন মাহাত মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, অন্যটি রঘুনাথপুর সুপার স্পেশালিটি হাসপাতাল। মানবাজার ও ঝালদায় মহকুমাস্তরের কোনও হাসপাতালই নেই। জটিল রোগের চিকিত্সা, অস্ত্রোপচার না হয় বাদই গেল, দুই মহকুমার একটি ব্লক হাসপাতালেও প্রসূতিদের ন্যূনতম সিজারের ব্যবস্থাটুকুও নেই! বাধ্য হয়ে ঝাড়খণ্ড লাগোয়া দুই মহকুমার বিস্তীর্ণ অঞ্চলের বহু মহিলাকেই প্রসবের জন্য সেই রাজ্যের কোনও নার্সিংহোমে ভর্তি হতে হয়। দালালদের খপ্পরে পড়ে একদিনে যেমন খরচ হয় কাঁড়ি কাঁড়ি টাকা, তেমনই বেঘোরে যায় প্রাণও!
Advertisement
পুরুলিয়া জেলায় প্রতি বছর প্রায় ৪৫ হাজার প্রসূতি সন্তান প্রসব করেন। তবে, স্বাভাবিক প্রসব ও সিজার দুই ক্ষেত্রেই প্রসবের পরে অনেক ক্ষেত্রেই প্রসূতিদের খিঁচুনি, মাত্রাতিরিক্ত রক্তক্ষরণ, আচমকা উচ্চ রক্তচাপ বেড়ে যাওয়ার মতো সমস্যা দেখা দেয়। কিন্তু, পুরুলিয়া মেডিক্যাল ও রঘুনাথপুর সুপার স্পেশালিটি ছাড়া ব্লকের কোনও হাসপাতালেই সেই রোগের চিকিত্সার মতো পরিকাঠামো নেই। বাধ্য হয়ে ব্লক হাসপাতাল থেকে রেফার করতে হয় রোগীকে। অনেকক্ষেত্রে দেখা যায়, অন্তঃসত্ত্বা মহিলারা রেফারের সময় রাস্তাতেই মারা যান। প্রতি বছর গড়ে জেলার প্রায় ৬০জন প্রসূতির মৃত্যু হয়। বাদ যায় না সদ্যোজাতরাও!
জেলার স্বাস্থ্য আধিকারিকরা মানছেন, অন্যান্য জেলায় একটি মহকুমাতেই দু’টি, তিনটি করে সুপার স্পেশালিটি হাসপাতাল থাকে। কিন্তু, পুরুলিয়ার ঝালদা ও মানবাজার মহকুমায় একটিও বড় হাসপাতাল নেই। যার জেরে দুই মহকুমার ন’টি ব্লকের মানুষকে ব্যাপক ভোগান্তির মুখে পড়তে হয়। শুধু মাত্র প্রসবের ক্ষেত্রেই নয়, বড় কোনও দুর্ঘটনা ঘটলেও ভরসা পড়শী রাজ্যের কোনও বেসরকারি হাসপাতাল। প্রশাসনের এক আধিকারিকের অবশ্য দাবি, এনিয়ে রাজ্যে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক অশোক বিশ্বাস বলেন, মহকুমা হাসপাতাল কবে হবে জানা নেই। তবে দুই মহকুমায় যাতে কম্প্রিহেনসিভ ইমার্জেন্সি অবস্টেট্রিক সার্ভিস বা সিজারিয়ান সেকশন চালু করা যায়, তার জন্য আমরা রাজ্যে প্রস্তাব পাঠিয়েছি। তা হলে প্রসূতিরা ব্যাপক উপকৃত হবে। জেলা স্বাস্থ্যদপ্তর সূত্রের খবর, সিজারিয়ান সেকশন চালুর জন্য সেই মহকুমার ব্লক হাসপাতালেই আইসিইউ, অপারেশন থিয়েটারের মতো পরিকাঠামো গড়ে তুলতে হবে। অত্যাধুনিক যন্ত্রপাতির পাশাপাশি চাই পর্যাপ্ত প্রসূতি বিশেষজ্ঞ, শিশু বিশেষজ্ঞ, অ্যানাস্থেটিস্ট, নার্স ও কর্মী। তবেই সিজার করার মতো পরিকাঠামো তৈরি হবে।
এক স্বাস্থ্য আধিকারিক বলেন, সিজারিয়ান সেকশন চালু না হওয়ায় ঝলদা, বাঘমুণ্ডি, বরাবাজার সহ লাগোয়া ব্লকের বহু মানুষই বাধ্য হয়ে ঝাড়খণ্ডে চলে যান। কারণ পুরুলিয়া থেকে তাঁদের কাছে জামশেদপুর কিংবা রাঁচি অনেক কাছে। দালালদের খপ্পরে পড়ে বহু প্রসূতিই সেই রাজ্যের নার্সিংহোমে ভর্তি হন।
সঠিক চিকিত্সা না পেয়ে মৃত্যু হয়। ওই আধিকারিকের দাবি, পুরুলিয়া জেলার প্রসূতিদের মৃত্যুর যে সংখ্যা, তার অধিকাংশেরই মৃত্যু হয় পড়শী রাজ্যের হাসপাতাল বা নার্সিংহোমে। এই পরিস্থিতিতে মানবাজার ও ঝলদার বাসিন্দাদেরও প্রশ্ন, আর কতদিন উন্নত স্বাস্থ্য পরিষেবা থেকে বঞ্চিত হতে হবে? কবে তৈরি হবে মহকুমা হাসপাতাল?
জেলার স্বাস্থ্য আধিকারিকরা মানছেন, অন্যান্য জেলায় একটি মহকুমাতেই দু’টি, তিনটি করে সুপার স্পেশালিটি হাসপাতাল থাকে। কিন্তু, পুরুলিয়ার ঝালদা ও মানবাজার মহকুমায় একটিও বড় হাসপাতাল নেই। যার জেরে দুই মহকুমার ন’টি ব্লকের মানুষকে ব্যাপক ভোগান্তির মুখে পড়তে হয়। শুধু মাত্র প্রসবের ক্ষেত্রেই নয়, বড় কোনও দুর্ঘটনা ঘটলেও ভরসা পড়শী রাজ্যের কোনও বেসরকারি হাসপাতাল। প্রশাসনের এক আধিকারিকের অবশ্য দাবি, এনিয়ে রাজ্যে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক অশোক বিশ্বাস বলেন, মহকুমা হাসপাতাল কবে হবে জানা নেই। তবে দুই মহকুমায় যাতে কম্প্রিহেনসিভ ইমার্জেন্সি অবস্টেট্রিক সার্ভিস বা সিজারিয়ান সেকশন চালু করা যায়, তার জন্য আমরা রাজ্যে প্রস্তাব পাঠিয়েছি। তা হলে প্রসূতিরা ব্যাপক উপকৃত হবে। জেলা স্বাস্থ্যদপ্তর সূত্রের খবর, সিজারিয়ান সেকশন চালুর জন্য সেই মহকুমার ব্লক হাসপাতালেই আইসিইউ, অপারেশন থিয়েটারের মতো পরিকাঠামো গড়ে তুলতে হবে। অত্যাধুনিক যন্ত্রপাতির পাশাপাশি চাই পর্যাপ্ত প্রসূতি বিশেষজ্ঞ, শিশু বিশেষজ্ঞ, অ্যানাস্থেটিস্ট, নার্স ও কর্মী। তবেই সিজার করার মতো পরিকাঠামো তৈরি হবে।
এক স্বাস্থ্য আধিকারিক বলেন, সিজারিয়ান সেকশন চালু না হওয়ায় ঝলদা, বাঘমুণ্ডি, বরাবাজার সহ লাগোয়া ব্লকের বহু মানুষই বাধ্য হয়ে ঝাড়খণ্ডে চলে যান। কারণ পুরুলিয়া থেকে তাঁদের কাছে জামশেদপুর কিংবা রাঁচি অনেক কাছে। দালালদের খপ্পরে পড়ে বহু প্রসূতিই সেই রাজ্যের নার্সিংহোমে ভর্তি হন।
সঠিক চিকিত্সা না পেয়ে মৃত্যু হয়। ওই আধিকারিকের দাবি, পুরুলিয়া জেলার প্রসূতিদের মৃত্যুর যে সংখ্যা, তার অধিকাংশেরই মৃত্যু হয় পড়শী রাজ্যের হাসপাতাল বা নার্সিংহোমে। এই পরিস্থিতিতে মানবাজার ও ঝলদার বাসিন্দাদেরও প্রশ্ন, আর কতদিন উন্নত স্বাস্থ্য পরিষেবা থেকে বঞ্চিত হতে হবে? কবে তৈরি হবে মহকুমা হাসপাতাল?



