Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

নেই রোগী কল্যাণ সমিতি, অভাব পর্যাপ্ত ডাক্তারের, মেদিনীপুর মেডিক্যালে পরিষেবার মান তলানিতে

নেই রোগী কল্যাণ সমিতি, অভাব পর্যাপ্ত ডাক্তারের, মেদিনীপুর মেডিক্যালে পরিষেবার মান তলানিতে
  • ১৪ জানুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
নিজস্ব প্রতিনিধি, মেদিনীপুর: বিতর্কিত স্যালাইন ব্যবহার ও প্রসূতি মৃত্যুর জেরে এখন গোটা রাজ্যের নজর মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজের উপর। কী কারণে এই ঘটনা তার খোঁজ করতে গিয়ে যা জানা গেল, তাতে চক্ষু চড়কগাছ হতে বাধ্য। এই হাসপাতালে রোগী কল্যাণ সমিতির কোনও অস্তিত্বই নেই। ফলে হাসপাতালের পরিষেবার বিভিন্ন গলদ তুলে ধরার ও সমাধান বাতলে দেওয়ার কেউ নেই। অভিযোগ, রোগীর পরিজনরা কোনও সমস্যার কথা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে জানালে তা ফাইল বন্দি হয়েই পড়ে থাকে। রোগীর পরিজনদের কথায়, মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের সমস্যার কথা তুলে ধরলেই রোষের মুখে পড়তে হয়। সারা দিনে কয়েক হাজার রোগী এলেও, সেই আন্দাজে চিকিৎসকের সংখ্যা নামমাত্র। বেশিরভাগ সময়ে রোগী দেখেন জুনিয়র চিকিৎসকরা। এমনকী অস্ত্রোপচারও অনেকটাই নির্ভরশীল জুনিয়র ডাক্তারদের উপর। এতে চিকিৎসার মান তলানিতে এসে ঠেকেছে বলে মত রোগীর পরিজনদের। 
Advertisement
এদিকে, মৃত প্রসূতি মামণি রুইদাসের (২২) শিশুর শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে শুরু করে সোমবার থেকে। সদ্যোজাতকে ইতিমধ্যেই মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। শিশুটির চিকিৎসার জন্য মেডিক্যাল বোর্ড তৈরি করা হয় বলে জানা গিয়েছে। মৃত প্রসূতির আত্মীয়া রুম্পা দাস বলেন, আচমকা শিশুর শারীরিক সমস্যা দেখা দিয়েছে। হাসপাতালে আনা হয়েছে। 
এদিন মেদিনীপুর বিধানসভার বিধায়ক সুজয় হাজরা বলেন, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশে মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে একাধিক কাজ হচ্ছে। কিন্তু ম্যানেজমেন্টের কোথাও সমস্যা রয়েছে। প্রতিটি হাসপাতালে রোগী কল্যাণ সমিতির প্রয়োজনীয়তা আছে। বহুদিন রোগী কল্যাণ সমিতির কোনও বৈঠকও হয়নি। তবে রোগীদের নানা সমস্যার দ্রুত সমাধান হবে বলেই আশা রাখি।  
উল্লেখ্য, মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে এক প্রসূতির মৃত্যুতে রাজ্যজুড়ে শোরগোল পড়ে যায়। অভিযোগ, বিতর্কিত স্যালাইন ব্যবহারের ফলেই এই পরিণতি। গত বুধবার সিজার করে পাঁচ প্রসূতির প্রসবের পর প্রত্যেকেই অসুস্থ হয়ে পড়েন। একজন মারা যান। রবিবার আশঙ্কাজনক অবস্থায় তিনজনকে কলকাতার এসএসকেএমে স্থানান্তর করা হয়। এই ঘটনার পরেই রোগী পরিষেবা নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠতে শুরু করে। জানা গিয়েছে, আর জি কর কাণ্ডের ঘটনা নিয়ে জুনিয়র ডাক্তারদের ধর্না চলাকালীনই মুখ্যমন্ত্রী ঘোষণা করেন, রাজ্যের সব হাসপাতালের রোগী কল্যাণ সমিতি ভেঙে দেওয়া হবে। নতুন করে ওই সমিতি গঠন হবে। এছাড়াও সেই সময়ে জানানো হয়, সমিতির চেয়ারম্যানের দায়িত্বে থাকবেন হাসপাতালের অধ্যক্ষই। রাজনৈতিক দলের কোনও নেতা চেয়ারম্যানের দায়িত্ব সামলাবেন না। তবে সমিতিতে থাকবেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধি। এছাড়াও সমিতিতে জুনিয়র ও সিনিয়র ডাক্তারদের একজন করে প্রতিনিধি থাকবেন। নার্সদের একজন প্রতিনিধি থাকবেন। হাসপাতালের সুপারও এই সমিতির সদস্য থাকবেন। পাশাপাশি প্রশাসনের কোনও উচ্চপদস্থ আধিকারিকও থাকতে পারবেন সমিতিতে। কিন্তু কয়েকমাস কেটে গেলেও মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে তৈরি হয়নি রোগী কল্যাণ সমিতি। 
স্বাস্থ্যদপ্তরের এক কর্মীর কথায়, মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসকদের মধ্যে লবিবাজিও প্রকট। এক গোষ্ঠীর চিকিৎসক অপর গোষ্ঠীকে পাত্তা দেয় না। বহু চিকিৎসক সময়মতো হাসপাতালে থাকেন না। এছাড়াও হাসপাতালে স্ট্রেচারের সমস্যাও রয়েছে। বহু বিভাগে ন্যূনতম পরিষেবাটুকু পান না সাধারণ মানুষ। জেলা বিজেপির মুখপাত্র অরূপ দাস বলেন, সব জায়গায় দুর্নীতি। এত বড় হাসপাতালে রোগী কল্যাণ সমিতি নেই, এ তো লজ্জার বিষয়। আমাদের প্রশ্ন মুখ্যমন্ত্রী তবে কী করছেন। 
সম্পর্কিত সংবাদ