সংবাদদাতা, কাঁথি: স্কুল চলছে ঠিকই। কিন্তু নিজস্ব ক্লাসরুমে নয়। উম-পুন ঘূর্ণিঝড়ের জেরে স্কুলের জীর্ণ ভবন ভেঙে গিয়েছিল। তারপর ভবনের অভাবে পার্শ্ববর্তী সাইক্লোন সেন্টারই হয়ে উঠেছে কচিকাঁচাদের স্কুল। দু’একদিন নয়, গত পাঁচ বছর ধরে সাইক্লোন সেন্টারেই ক্লাস চলছে। যেখানে রয়েছে পদে পদে সমস্যা এবং বিপদের সম্ভাবনা। এই পরিস্থিতিতে ১৫০জন ছাত্রছাত্রীকে নিয়ে রীতিমতো হিমসিম অবস্থা হয় পাঁচজন শিক্ষক-শিক্ষিকার। দুর্দশার এই বাস্তব ছবি কাঁথির সমুদ্র উপকূলবর্তী বিরামপুট প্রাইমারি স্কুলের। সমস্যা সমাধানের জন্য অবিলম্বে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করার আর্জি জানিয়েছেন শিক্ষক-শিক্ষিকা ও অভিভাবকরা।
Advertisement
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, কাঁথি-১ ব্লকের মাজিলাপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের অধীন বিরামপুট এলাকায় ১৯৯৬সালে প্রতিষ্ঠা হয় এই স্কুলটি। স্কুলে বিরামপুট-চক, রংমালাপুট, জুনপুট প্রভৃতি এলাকার ছেলেমেয়েরা পড়াশোনা করতে আসে। এখানে শিশু শ্রেণি থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত রয়েছে। স্কুলের ভবন দীর্ঘদিন ধরে জীর্ণ অবস্থায় ছিল। গত ২০২০সালে উম-পুন ঘূর্ণিঝড়ে সামুদ্রিক জলোচ্ছ্বাসের জেরে ভবনটি ভেঙে নড়বড়ে হয়ে যায়। তখন ভবনটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়। তারপর থেকে ভরসা পার্শ্ববর্তী মাল্টিপারপাস সাইক্লোন সেন্টারই। সমস্যা হল, নীচের তলায় এবং দোতলায় কোনও রুম নেই। বাধ্য হয়ে তিনতলায় ক্লাস করতে হয়। ছোট্ট পায়ে শিশুদের বারবার ওঠানামা করতে সমস্যা হয়। আবার সেন্টারে যে শৌচালয়গুলি রয়েছে, তা ব্যবহারের যোগ্য নয়। ছাত্রছাত্রীদের শৌচালয় ব্যবহার করতে হলে সেই সিঁড়ি ভেঙে নীচে নেমে আসতে হয়। পানীয় জলের নলকূপ থাকলেও মাঝেমধ্যেই খারাপ হয়ে যায়। সেন্টারটি খোলা পড়ে থাকায় দুষ্কৃতীরা বিভিন্ন সময়ে বিদ্যুতের একাধিক সুইচবোর্ড ভেঙে যন্ত্রাংশ চুরি করে নিয়ে গিয়েছে। এর ফলে সুইচবোর্ডগুলি খোলা এবং অরক্ষিত অবস্থায় পড়ে রয়েছে। ছাত্রছাত্রীরা কখনও হাত দিয়ে ফেললে বড়সড় বিপদ হতে পারে, সেই আশঙ্কায়ও থাকেন শিক্ষকরা। যেহেতু সরকারি কেন্দ্র, তাই বিভিন্ন সময়ে তিনতলার রুমে মিটিং হয়। ভোট এলে কেন্দ্রীয় বাহিনী কিংবা পুলিস কর্মীদের থাকার জায়গা হয় এই সেন্টারই। সাইক্লোন সেন্টারের সামনেই ‘জলজীবন মিশন’ কর্মসূচিতে পানীয় জলপ্রকল্পের রিজার্ভার তৈরির কাজ চলছে। সেই প্রকল্পের কর্মীরাও এখানে যখন-তখন থাকেন। তিনতলার সেন্টারের অধিকাংশ দরজা-জানালা ভাঙা। বৃষ্টি হলেই জল ঢুকে পড়ে তিনতলাতেও। প্রধান শিক্ষক সীতারাম দাস, সহ-শিক্ষক দেবোপম দাস বলেন, এভাবে মাল্টিপারপাস সাইক্লোন সেন্টারে ক্লাস করানো যায় না। বাধ্য হয়েই সবকিছু করতে হচ্ছে। প্রার্থনা, ছুটি কিংবা টিফিনের সময় ছাত্রছাত্রীদের সঙ্গেই আমাদের থাকতে হয়। কারণ কোথাও কিছু বিপদ হলে দায় আমাদের উপরই বর্তাবে। নতুন ভবন তৈরির ব্যাপারে বহুবার ব্লক প্রশাসন, এসআই থেকে শুরু করে সমস্ত মহলে জানিয়েও কোনও কাজ হয়নি। নতুন ভবন তৈরির জন্য সম্প্রতি ২৬লক্ষ টাকার একটি প্রস্তাব তৈরি করে সংশ্লিষ্ট মহলে জমা দেওয়া হয়েছে। এবিষয়ে বিডিও অমিতাভ বিশ্বাস বলেন, বিরামপুট প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পরিস্থিতির কথা আমরা জানি। আমরা এব্যাপারে একটি স্কিম তৈরি করে জেলা প্রশাসন ও শিক্ষাদপ্তরের কাছে পাঠিয়েছি। আশা করছি, প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করা হবে।



