নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ফের বাড়ছে জাতীয় সড়কের টোল ট্যাক্স। ১ এপ্রিল থেকেই বর্ধিত হারে টোল আদায় হবে জাতীয় সড়কগুলিতে। বাদ যাবে না পশ্চিমবঙ্গও। ফলে মূল্যবৃদ্ধির বাজারে জাতীয় সড়ক ব্যবহার করে যাতায়াতের খরচও বাড়তে চলেছে নতুন আর্থিক বছরের শুরু থেকেই। পণ্যবাহী গাড়ি, বাস থেকে শুরু করে ব্যক্তিগত গাড়ির ক্ষেত্রেই চালু হচ্ছে বর্ধিত টোল ট্যাক্স। ফলে এর আঁচ সরাসরি মধ্যবিত্তের জীবনে পড়তে চলেছে বলেও মনে করেছেন আর্থিক বিশেষজ্ঞরা। কারণ, এর জেরে শাকসব্জি, মাছ, ডিমের মতো নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসের পরিবহণ খরচ বাড়বে। তাই নতুন করে মূল্যবৃদ্ধির আশঙ্কা থেকেই যাচ্ছে।
প্রশাসনিক মহলের হিসাব অনুযায়ী, গড়ে প্রতি ৫৮ কিলোমিটারের টোল ট্যাক্স ২২০ টাকা থেকে বেড়ে হচ্ছে ২৫০ টাকা। উদাহরণ স্বরূপ, ১৬ নম্বর জাতীয় সড়কের ডানকুনি থেকে খড়্গপুর বিভাগের অন্তর্গত ১১১.৪ কিলোমিটারের জন্য কার, জিপ, ভ্যান অথবা মোটর যানের একবার যাত্রার জন্য ১৩৫ টাকার টোল ট্যাক্স ধার্য করা হয়েছে। যা হাল্কা বাণিজ্যিক যান ও মিনিবাসের জন্য ২১৫ টাকা, বাস অথবা ট্রাকের জন্য ৪৪০ টাকা, সাতটি বা তার থেকে বেশি অ্যাক্সেলের বড় আকারের যানের জন্য ৮৫৫ টাকা। এই সমস্ত যানের জন্য এক মাসের পাস নিতে খরচ হতে পারে ৪,৫৩৫ টাকা থেকে শুরু করে ২৮,৫৫৫ টাকা পর্যন্ত। এছাড়াও টোল প্লাজার ২০ কিলোমিটারের মধ্যে বসবাসকারী স্থানীয় অবাণিজ্যিক গাড়ির জন্য এক মাসের পাশের জন্য দিতে হবে ৩৫০ টাকা।
জাতীয় সড়কের সম্পূর্ণ দায়িত্বই কেন্দ্র সরকারের। ফলে মোদি সরকারের জাতীয় সড়কের টোল ট্যাক্স বৃদ্ধির সমালোচনা করেছেন রাজ্যের পরিবহণমন্ত্রী স্নেহাশিস চক্রবর্তী। তিনি বলেন, এমনিতেই পেট্রল-ডিজেলের দাম আকাশ ছোঁয়া। তার মধ্যে টোল ট্যাক্স বৃদ্ধি একেবারে অমানবিক সিদ্ধান্ত। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রাজ্য সড়কগুলিতে কোনও টোল না বসিয়েই রাজস্ব বৃদ্ধি সুনিশ্চিত করেছেন। মূলত করে ছাড় এবং সরলীকরণ করেই তা সম্ভব হয়েছে। কেন্দ্রেরও সেই পথেই হাঁটা উচিত।
বাংলায় বাসের ভাড়া বাড়েনি। এই পরিস্থিতিতে জাতীয় সড়কে টোল ট্যাক্স বেড়ে যাওয়ায় বিপাকে পড়বেন বাস মালিকরাও। তাঁদের এই সমস্যার কথা তুলে ধরতে জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষের (এনএইচএআই) সঙ্গে শীঘ্রই তিনি বৈঠকে বসবেন বলেও জানিয়েছেন স্নেহাশিসবাবু। সেই বৈঠকে বাস অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিনিধিরাও থাকতে পারেন বলেও মনে করা হচ্ছে।
জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষের তরফে জানানো হয়েছে, বর্ধিত কর বাবদ আয় মূলত জাতীয় সড়কের রক্ষণাবেক্ষণের জন্য খরচ হবে। তবে এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেছেন আম জনতা থেকে শুরু করে বিভিন্ন বাস ও পরিবহণ সংগঠনও।