Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

নিয়োগপত্র পেয়ে খুশি দেউচা পাচামি প্রকল্পে জমিদাতা ২৮ পরিবার

নিয়োগপত্র পেয়ে খুশি দেউচা পাচামি প্রকল্পে জমিদাতা ২৮ পরিবার
  • ১৪ ডিসেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
সংবাদদাতা, সিউড়ি: সরকারি নিয়োগপত্র হাতে নিয়ে জেলাশাসকের অফিসে দাঁড়িয়েই বাড়িতে ফোন। চোখেমুখে উপচে পড়ছে খুশি। শুক্রবার এই দৃশ্য দেখা গেল বীরভূমের জেলাশাসকের দপ্তরে। দেউচা পাচামি কয়লাখনি প্রকল্পে আরও ২৮ জন জমিদাতা এদিন সরকারি চাকরির নিয়োগপত্র হাতে পেলেন। তাঁদের হাতে জেলা প্রশাসনের গ্রুপ-ডি পদে চাকরির নিয়োগপত্র তুলে দিলেন বীরভূমের জেলাশাসক বিধান রায়, অতিরিক্ত জেলাশাসক (সাধারণ) নিতু শুক্লা, অতিরিক্ত জেলাশাসক (দেউচা পাচামি) বাবুলাল মাহাত প্রমুখরা। 
Advertisement
এর আগেও জমিদাতা পরিবার পিছু একজনকে চাকরি দেওয়া হয়েছে। এখন পর্যন্ত প্রায় এক হাজার ৬২৪ জনের নাম সরকারি চাকরির জন্য রাজ্যের কাছে পাঠানো হয়েছে। তারমধ্যে প্রায় এক হাজার ৪০০ জনের বেশি জমিদাতাকে চাকরির নিয়োগপত্র দেওয়া হয়েছে। এদিন নিয়োগপত্র পাওয়া জমিদাতারা জানান, চাকরি পেয়ে তাঁরা খুব খুশি। খুশির হাওয়া তাঁদের বাড়িতেও। সোঁতশাল, কবিলনগর, বারুইপুর, শালুকা সহ একাধিক গ্রামের জমিদাতারা এদিন নিয়োগপত্র পেয়েছেন। 
চাকরি প্রাপক শ্রাবণী চৌধুরী, শুভদীপ ভাণ্ডারী, দেবজ্যোতি দাস, মতিউর রহমান, হাসিবুর রহমানরা বলেন, আমরা খনি প্রকল্পের জন্য জমি দিয়েছি। তার পরিবর্তে এদিন চাকরির নিয়োগপত্র হাতে পেলাম। আমরা খুব খুশি হয়েছি। জেলাশাসক আমাদের যথেষ্ট সাহায্য করেছেন। জেলাশাসক বিধান রায় বলেন, দেউচা পাচামিতে মানবিক প্রকল্পে সরকারি চাকরির নিয়োগপত্র দেওয়া হয়েছে ২৮ জনকে। এখনও পর্যন্ত প্রায় এক হাজার ৪০০ জনের বেশি জমিদাতাকে নিয়োগপত্র দেওয়া হয়েছে। আগামী দিনেও এই প্রক্রিয়া চলবে। আরও অনেকের নাম রাজ্যের অনুমোদনের জন্য পাঠানো হয়েছে।    
উল্লেখ্য, বীরভূমের দেউচা পাচামি ও দেওয়ানগঞ্জ হরিণশিঙ্গা খোলামুখ কয়লা খনি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের স্বপ্নের প্রকল্প। সেই প্রকল্পে দু’টি কোল ব্লক এলাকায় কয়লা উত্তোলনের প্রাথমিক পর্যায়ের সমীক্ষা সম্পূর্ণ হয়েছে। সেই সমীক্ষা শেষ হওয়ার পাশাপাশি সেখানকার বাসিন্দাদের পুনর্বাসনের জন্য মানবিক প্যাকেজ অনুযায়ী জমির ক্ষতিপূরণ ও সরকারি চাকরি দেওয়া হয়েছে প্রায় অর্ধেকের বেশি জমিদাতাকে। শুধু তাই নয়, খনি এলাকায় জঙ্গল পুনর্বাসন এবং গ্রামবাসীদের পুনর্বাসনেরও প্রস্তুতি শুরু করেছে জেলা প্রশাসন। পুনর্বাসন এলাকায় নতুন করে বাড়ি করে দেওয়া হবে জমিদাতাদের। জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে খুশি এলাকার বাসিন্দারা। জেলাশাসক দাবি করেছেন, এই কয়লা খনি প্রকল্প তৈরির প্রতিটি পর্যায়ে স্থানীয় গ্রামবাসীদের সঙ্গে আলোচনা করে তবেই কাজ এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, গ্রামবাসীদের সুবিধা, অসুবিধা এবং আদিবাসীদের আবেগকে প্রাধান্য দিয়ে পদক্ষেপ করা হচ্ছে। কোথাও প্রাথমিক বিদ্যালয় সরানোর দরকার হলে অন্য জায়গায় নতুন করে সেই প্রাথমিক বিদ্যালয় তৈরি করে দেওয়া হচ্ছে। শুধু সরকারি চাকরি নয়, ওই এলাকার বাসিন্দাদের পুনর্বাসন দেওয়ার পাশাপাশি সব রকমের প্রয়োজনীয় সুযোগ সুবিধা, অর্থাৎ হাসপাতাল, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে শুরু করে সমস্ত কিছু করে দেওয়া হবে। মুখ্যমন্ত্রীর স্বপ্নের এই প্রকল্প গোটা দেশের কাছে দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে। 
সম্পর্কিত সংবাদ