Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

নিয়োগপত্র হাতে নিয়েও যোগ দেননি একাধিক শিক্ষক! মিলবে না ৫ বছর আবেদনের সুযোগ

নিয়োগপত্র হাতে নিয়েও যোগ দেননি একাধিক শিক্ষক! মিলবে না ৫ বছর আবেদনের সুযোগ
  • ৩ মার্চ, ২০২৫ ০০:০০
Prefer us on Google
ব্রতীন দাস, জলপাইগুড়ি: কাউন্সেলিংয়ে হাজির হয়েও অনেকে স্কুলের নাম শুনেই ভ্রু কুঁচকে নিয়োগপত্র গ্রহণ করেননি! অনেকে আবার হাসিমুখে প্রধান শিক্ষকের নিয়োগপত্র হাতে নিয়েও শেষমেশ যোগ দেননি সংশ্লিষ্ট স্কুলে। আর এরই জেরে ১২ বছর পর জলপাইগুড়ি জেলায় সম্প্রতি প্রাথমিকে প্রধান শিক্ষক নিয়োগ হলেও প্রায় একশোটি স্কুলের ভাগ্যে শিকে ছেড়েনি। অর্থাৎ ওই স্কুলগুলি আগের মতো প্রধান শিক্ষক শূন্য হিসেবে থেকে গিয়েছে। গোটা ঘটনায় যথেষ্টই ক্ষুব্ধ জেলা প্রাথমিক বিদ্যালয় সংসদের সভাপতির পাশাপাশি জেলা প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিদর্শক। আর সেকারণে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যাঁরা নিয়োগপত্র হাতে নিয়েও সংশ্লিষ্ট স্কুলে প্রধান শিক্ষক হিসেবে যোগ দেননি, তাঁরা আগামী পাঁচ বছর প্রধান শিক্ষক হিসেবে আর আবেদন করতে পারবেন না। 
Advertisement
এদিকে, জেলায় শ’খানেক স্কুলে প্রধান শিক্ষকের চেয়ার ফাঁকা থেকে যাওয়ায় নতুন করে কাউন্সেলিংয়ের ব্যাপারে রাজ্য শিক্ষাদপ্তরের কাছে আর্জি রাখার সিদ্ধান্ত হয়েছে। সেক্ষেত্রে ওয়েটিং লিস্টে থাকাদের কাউন্সেলিংয়ের জন্য ডাকা হবে বলে জানিয়েছেন জেলা প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিদর্শক শ্যামলচন্দ্র রায়। তিনি বলেন, ৭৩টি প্রাথমিক স্কুলে প্রধান শিক্ষকের জন্য কেউ নিয়োগপত্র নিতে চাননি। এছাড়া নিয়োগপত্র গ্রহণ করার পর ১৫ দিনের মধ্যে সংশ্লিষ্ট স্কুলে প্রধান শিক্ষক হিসেবে যোগ দিতে বলা হয়েছিল। সেক্ষেত্রেও জনা ২৫ শিক্ষক যোগ দেননি। তাঁরা আগামী পাঁচ বছর প্রধান শিক্ষকের জন্য আর আবেদন করতে পারবেন না। 
জেলা প্রাথমিক বিদ্যালয় সংসদের সভাপতি লৈক্ষ্যমোহন রায় বলেন, আমাদের জেলায় ১২১৪টি প্রাথমিক স্কুল। এর মধ্যে ৮৯৩টি স্কুলের জন্য প্রধান শিক্ষক নিয়োগ করা হয়। কিন্তু শেষপর্যন্ত দেখা যাচ্ছে, অনেক স্কুলেই প্রধান শিক্ষক ফাঁকা থেকে গিয়েছে। আমরা শিক্ষাদপ্তরের সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করছি, যাতে ওয়েটিং লিস্ট ধরে রি-কাউন্সেলিং করা যায়। জেলার সব প্রাথমিকে প্রধান শিক্ষক দেওয়াই আমাদের লক্ষ্য। নিয়োগপত্র হাতে নেওয়ার পরও ঠিক কতজন সংশ্লিষ্ট স্কুলে প্রধান শিক্ষক হিসেবে যোগ দেননি, এসআই’দের কাছে সেই সংখ্যাটা জানতে চাওয়া হয়েছে। কিন্তু এখনও পর্যন্ত ওই রিপোর্ট আমার হাতে এসে পৌঁছয়নি। তবে নিয়োগপত্র হাতে নেওয়া একশো শতাংশ শিক্ষক যে প্রধান শিক্ষক হিসেবে সংশ্লিষ্ট স্কুলে যোগ দেননি, তা নিশ্চিত। 
জেলা শিক্ষাদপ্তর সূত্রে খবর, প্রধান শিক্ষক পদে নিয়োগের দাবিতে দীর্ঘদিন ধরে সরব হলেও যখন কাউন্সেলিং সেরে হাতে নিয়োগপত্র ধরানো হয়, তখন অনেক শিক্ষকই বেঁকে বসেন। ঠারেঠোরে তাঁরা বুঝিয়ে দেন, স্কুল পছন্দ হয়নি। কেউ কেউ আবার প্রকাশ্যে বলে দেন, বাড়ি থেকে স্কুল দূরে হয়ে যাচ্ছে। ফলে সেখানে যোগ দেওয়া সম্ভব নয়। এরই জেরে শ’খানেক স্কুল প্রধান শিক্ষকবিহীন অবস্থাতেই থেকে গিয়েছে।
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ