নিউ জার্সি: মরিসটাউনের রেড বুল ট্রেনিং ফেসিলিটি! গেটের সামনে রীতিমতো ভিড়। বেশিরভাগ মানুষই হলুদ জার্সিধারী। আর হাতে ব্রাজিলের পতাকা। যা দেখে মনের মধ্যে প্রশ্ন জাগতেই পারে, মাঠটা সাও পাওলোয় না নিউ জার্সিতে? আসলে ব্রাজিল টিম প্র্যাকটিস করছে এখানেই। নেইমার-ভিনিসিয়াসরা পৃথিবীর যে প্রান্তেই যান না কেন, পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের ঘিরে উন্মাদনার শেষ নেই। আমেরিকাতেও তার অন্যথা হচ্ছে না। টিম বাস গেটের সামনে আসতেই সাম্বা নাচ শুরু সেলেকাওদের। বিশেষ করে পিছনের সিটে নেইমারকে দেখতেই ‘ওয়ান লাস্ট ড্যান্স’ বলে আকুতি অনুরাগীদের। ব্রাজিলের ‘নম্বর ১০’ও তাঁদের দিকে হাত নাড়িয়ে অভিবাদন জানালেন। কিন্তু বাস স্টেডিয়ামে ঢুকতেই তাঁর চোখেমুখে অন্য অভিব্যক্তি। জেদও বলা যেতে পারে। হ্যাঁ, চোট সারিয়ে মাঠে নামার ছটপটানি।
ব্রাজিলের বিশ্বকাপ দলের নেইমারের সুযোগ নিয়ে কম জল্পনা চলেনি। চোটই তাঁর প্রধান শত্রু। অনেক নাটকের পর তিনি সুযোগ পেলেও ‘শত্রু’ পিছু ছাড়েনি। আবার কাফ মাসলে চোট পেয়েছেন তিনি। চিকিত্সক রডরিগো লাসমারের বিবৃতি অনুযায়ী, আগামী দু’সপ্তাহ তাঁর মাঠে নামার সম্ভাবনা কম। আর্থাত্, রবিবার মিশরের বিরুদ্ধে প্রস্তুতি ম্যাচে তিনি নেই। এমনকি, মরক্কোর বিরুদ্ধে বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচেও অনিশ্চিত। কিন্তু নেইমার বদ্ধপরিকর। যেনতেনপ্রকারেণ মরক্কোর বিরুদ্ধে মাঠে নামতে চাইছেন তিনি। তাই বাস থেকে নেমেই তিনি হাঁটা দিলেন জিমে। সেখানে কিছুক্ষণ রিহ্যাব এক্সারসাইজ ও সামান্য স্ট্রেন্থ ট্রেনিংয়ের পর মাঠে এলেন। সবুজ গালিচায় অল্প রানিং ড্রিলও চলল। তাঁর উপর সতর্ক নজর ছিল কোচ কার্লো আনসেলোত্তির। মাঠের বাইরের প্রবল চাপে নেইমারকে দলে নিতে বাধ্য হয়েছেন তিনি। মাঠের অন্য প্রান্তে তখন পুরোদমে অনুশীলনে ব্যস্ত রাফিনহা-ভিনিসিয়াসরা। দুই প্রান্ত থেকে এই দুই উইঙ্গার সাম্বা ম্যাজিকে রীতিমতো খাবি খাওয়াচ্ছিলেন রক্ষণে মার্কুইনহোস, গ্যাব্রিয়েলদের। আনসেলোত্তি তখন নিশ্চয় ভাবছেন, এই দলে নেইমারের মতো ক্রিয়েটিভ খেলোয়াড় থাকলে ফুল ফোটাবে ব্রাজিল।
সুস্থ নেইমারকে দলে পেতে আশাবাদী কোচও। তাঁর কথায়, ‘নেইমারকে নিয়ে ঝুঁকি নেব না। ও ক্রমশ উন্নতি করছে। আশা করি, দ্রুত পুরোদমে ট্রেনিং করবে।’ আর ব্রাজিলের ‘হেক্সা’ জয় প্রসঙ্গে ব্রাজিলের কোচের সংযোজন, ‘বিশ্বকাপে কোনো টিমই ফেভারিট নয়। কিছু শক্তিশালী দল রয়েছে। তবে তাদের টেক্কা দিতে আমরা তৈরি। আর ব্রাজিলকে ঘিরে মানুষের প্রত্যাশা সর্বদাই বেশি থাকে। তা পূরণ করতে চেষ্টায় খামতি থাকবে না।’