Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

মার্কিন সংস্থায় লগ্নির ফাঁদে উধাও সাড়ে ২১ কোটি! প্রতারিত নিউটাউনের ব্যবসায়ী

এভাবেই মার্কিন সংস্থার মাধ্যমে বিনিয়োগের নামে টোপ দিয়েছিল প্রতারকরা।

মার্কিন সংস্থায় লগ্নির ফাঁদে উধাও সাড়ে ২১ কোটি! প্রতারিত নিউটাউনের ব্যবসায়ী
  • ৭ অক্টোবর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বিধাননগর: অনলাইনে শেয়ার বাজার ট্রেডিং। মিলবে মোটা রিটার্ন। এভাবেই মার্কিন সংস্থার মাধ্যমে বিনিয়োগের নামে টোপ দিয়েছিল প্রতারকরা। সেই ফাঁদে পা দিয়ে সাড়ে ২১ কোটি টাকা খোয়ালেন নিউটাউনের এক ব্যবসায়ী। প্রথমে তিনি ২ কোটি টাকা বিনিয়োগ করেছিলেন। মুনাফা সহ তা নাকি ৪০ কোটি হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু, প্রতারকরা বলে, অ্যাকাউন্ট লক হয়ে গিয়েছে। সেই লক খুলতে তিনি আরও প্রায় ২০ কোটি টাকা দিয়ে ফেলেন! কিন্তু, তারপর বুঝতে পারেন, সম্পূর্ণ বিনিয়োগ করা অর্থ গিয়েছে জলে! তিনি প্রতারকদের ফাঁদে পড়েছেন। হারানো টাকা ফিরে পেতে ওই ব্যবসায়ী রবিবার বিধাননগর সাইবার ক্রাইম থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।

Advertisement

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রতারিত ব্যবসায়ীর বয়স ৫১। নিউটাউনের বাসিন্দা। গত জুলাই মাসে তিনি প্রথম প্রতারকদের খপ্পরে পড়েন। প্রতারকরা নিজেদের মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন ডিসিতে অবস্থিত একটি বিনিয়োগ পরামর্শদাতা সংস্থার প্রতিনিধি বলে পরিচয় দিয়েছিল। সেই মার্কিন সংস্থার মাধ্যমেই বিনিয়োগ করতে বলা হয়েছিল। এমনকী, প্রতারকরা জানিয়েছিল, এই সংস্থাটি সেবি অনুমোদিত। মুম্বইয়েও অফিস রয়েছে। প্রতারকরা ওই সংস্থাটিকে আন্তর্জাতিক ট্রেডিং প্ল্যাটফর্ম বলে পরিচয় দেয়। এবং ব্যবসায়ীর বিশ্বাসও অর্জন করে।
এরপর ৫ জুলাই তাঁকে একটি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে যুক্ত করে প্রতারকরা। মুম্বই অফিসের এক মেন্টর তাঁকে শেয়ার বাজারে ট্রেডিং সম্পর্কে অনেক বিষয় জানান। প্রতারকদের কথায়, ওই ব্যবসায়ী নিজের নামে এবং স্ত্রীর নামে মোট দু’টি অ্যাকাউন্ট ওপেন করেন। কেওয়াইসি দিয়ে অনলাইন পোর্টালে চুক্তিও হয়েছিল। তারপর ‘টম’ নামে একজন ফোন করে। যে নিজেকে ওয়াশিংটন ডিসির সার্ভিস ম্যানেজার বলে পরিচয় দেয়। এবং ব্যবসায়ীকে জানায়, সে অ্যাকাউন্ট হ্যান্ডেলার। অর্থাৎ, কোথায় বেশি রিটার্ন মিলবে, সে অপারেট করবে। এরপরই ব্যবসায়ী প্রথমে ২ কোটি টাকা বিনিয়োগ করেন। ভারতেই বিভিন্ন অ্যাকাউন্টে সেই টাকা স্থানান্তর করানো হয়।
বিনিয়োগ করা অর্থ থেকে কত রিটার্ন মিলছে, তা দেখার জন্য প্রতারকরা একটি ভুয়ো অ্যাপও বানিয়েছিল। তাতে ওই ব্যবসায়ী নিয়মিত রিটার্নের উপর লক্ষ রাখছিলেন। গত ১০ সেপ্টেম্বর তিনি লক্ষ করেন, তাঁর বিনিয়োগ করা ২ কোটি টাকা প্রায় ৪০ কোটিতে গিয়ে পৌঁছে গিয়েছে। কিন্তু, তাঁকে জানানো হয়, অ্যাকাউন্ট লক হয়ে গিয়েছে। ওই লক খোলার জন্য আরও প্রায় ২০ কোটি টাকা দিতে বলা হয়। ওই ব্যবসায়ী নিজের সঞ্চিত অর্থ এবং বন্ধু-আত্মীয়দের কাছ থেকে ধার করে ওই টাকা পেমেন্ট করে দেন। সব মিলিয়ে দু’দফায় তিনি ২১ কোটি ৫৫ লক্ষ টাকা দিয়ে ফেলেন।
এরপর তিনি ২০ কোটি টাকা তোলার চেষ্টা করেন। কিন্তু, তুলতে গিয়ে দেখেন, ক্যাপিটাল গেইনস ট্যাক্স বাবদ আরও ১২ কোটি টাকা দিতে বলছে! এরপর ওই ব্যবসায়ী মুনাফা বাদ দিয়ে বিনিয়োগ করা অর্থ তুলতে চান। কিন্তু, কোনও টাকাই তুলতে পারেননি। প্রতারকরা ফোন বন্ধ করে দেয়। তাঁকে হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ থেকেও রিমুভ করে দেওয়া হয়। তখনই টের পান, তিনি প্রতারণার শিকার!

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ