Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

সদ্যোজাতের মৃত্যুতে চাঞ্চল্য, তদন্তের আশ্বাস দিলেন সুপার

সদ্যোজাতের মৃত্যুতে চাঞ্চল্য, তদন্তের আশ্বাস দিলেন সুপার
  • ৩০ জুলাই, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, পুরুলিয়া: এক শিশুর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্য ছড়াল পুরুলিয়ায়। গত ২৩ জুলাই দেবেন মাহাত গভর্নমেন্ট মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে প্রসবের পর সদ্যজাত ওই শিশুটির মৃত্যু হয় বলে অভিযোগ। চিকিত্সায় গাফলতির অভিযোগ তুলে ২৯ জুলাই মঙ্গলবার হাসপাতালের সুপারের কাছে নির্দিষ্ট অভিযোগ জমা পড়েছে। অভিযোগ পাওয়ার পরেই চার সদস্যের একটি মেডিক্যাল টিম গঠন করে তদন্তের আশ্বাস দিয়েছেন সুপার। 

Advertisement

পুরুলিয়া শহরের ২১ নম্বর ওয়ার্ডের কপুরবাগানের বাসিন্দা বাসুদেব দাসের অভিযোগ, গত ২৩ জুলাই তাঁর আট মাসের সন্তান সম্ভবা স্ত্রী শিউলি সর্দারের প্রচণ্ড শ্বাসকষ্ট শুরু হয়। তিনি স্ত্রীকে পুরুলিয়া মেডিক্যালের জরুরি বিভাগে নিয়ে যান। সেখানে প্রসূতির শারীরিক অবস্থা বিবেচনা করে দুপুর ১২টা নাগাদ চিকিত্সকরা ভর্তির পরামর্শ দেন। বাসুদেববাবু বলেন, চিকিত্সকদের পরামর্শে আমি স্ত্রীকে হাসপাতালে ভর্তি করি। ঘণ্টা তিনেক পর নার্সরা আমাকে জানান, রোগীর সিজারিয়ান ডেলিভারি করতে হবে। আমি জিজ্ঞেস করি, আট মাসের গর্ভবতীকে সিজার করলে অসুবিধা হবে না তো? যদিও তাঁরা আমাকে আশ্বস্ত করেন, কোনও অসুবিধা হবে না। এটাই প্রসবের আদর্শ সময়।
প্রসূতির স্বামী বলেন, প্রসবের পরেই শিশুটিকে আইসিইউতে নিয়ে চলে যান চিকিত্সকেরা। পাঁচ ঘণ্টা পর শিশুটির মৃত্যু হয় বলে আমরা জানতে পারি। তাঁর অভিযোগ, শিশুটি ভূমিষ্ঠ হওয়ার হওয়ার পর থেকে একবারও আমাদের দেখতে দেওয়া হয়নি। এমনকী মাকেও দেখায়নি। ছেলে নাকি মেয়ে হয়েছে, সে তথ্যও জানায়নি। সন্তান কেমন আছে সেই তথ্যও চেপে গিয়েছেন স্বাস্থ্যকর্মীরা। বরং স্ত্রীকে বলেছে, শিশুটিকে বের করে নেওয়া হয়েছে বলেই তিনি বেঁচে গিয়েছেন। বাসুদেববাবু বলেন, আমাকে যদি বলত যে বাচ্চা বা মায়ের পরিস্থিতি ভালো নয়, তাহলে স্ত্রীকে অন্যত্র নিয়ে যেতে পারতাম। কিন্তু আমাকে সেই সুযোগ দেওয়া হয়নি। 
পাশাপাশি ওই প্রসূতির লাইগেশন অপারেশন করে দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। স্বাস্থ্যকর্মী বিশেষত নার্সদের ব্যবহার নিয়েও নালিশ জানিয়েছেন প্রসূতির স্বামী। এই ঘটনার তদন্ত চেয়ে ‘টিম অনেস্ট’ নামের একটি নাগরিক সংগঠন মেডিক্যালের সুপার এবং পুরুলিয়া পুরসভার চেয়ারম্যানের কাছে অভিযোগ জানিয়েছে। প্রসূতি বিভাগের মতো স্পর্শকাতর বিভাগের স্বাস্থ্যকর্মীরা কেন সংবেদনশীল হবেন না? কেনই বা পরিজনদের কাছে তথ্য গোপন করা হবে? সেই প্রশ্নও তুলেছে সংগঠনটি।    
যদিও পুরুলিয়া মেডিক্যালের সুপার সুকোমল বিষয়ী বলেন, আমি নিজে রিপোর্ট দেখেছি। লাইগেশনের অভিযোগটি সত্য নয়। এরকম কোনও অপারেশন করা হয়নি। এই ঘটনার তদন্তের আশ্বাস দিয়ে তিনি বলেন, চার সদস্যের একটি মেডিক্যাল টিম গঠন করা হয়েছে। ওই দলে প্রসূতি বিভাগের প্রধান, অতিরিক্ত মেডিক্যাল সুপারিনটেন্ডেন্ট, নার্সিং সুপারিনটেন্ডেন্ট এবং হাসপাতালেরই আর এক প্রসূতি চিকিত্সক রয়েছেন। রিপোর্ট হাতে এলেই জানা যাবে চিকিত্সায় গাফিলতি হয়েছে কি না। 
প্রসূতি বিভাগের এক চিকিত্সক জানাচ্ছেন, প্রসবের সময় অনেকক্ষেত্রে গর্ভবতী মহিলাদের খিঁচুনি সহ একাধিক সমস্যা দেখা দিতে পারে। অনেক সময় এমন পরিস্থিতি তৈরি হয় যখন শিশুর চেয়েও প্রসূতিকে বাঁচানো অবশ্যক হয়ে পড়ে। তবে এক্ষেত্রে কী হয়েছিল, তা তদন্ত হলেই স্পষ্ট হবে। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ