নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: তখন সকাল সাতটা। ভোর থেকেই তুমুল বৃষ্টি। ফলে অন্যান্য দিনের তুলনায় রাস্তা বেশ শুনশান। বালির নিবেদিতা সেতুর নীচেই পঞ্চাননতলায় রয়েছে একটি বড় ভ্যাট। সেখানে স্তূপ হয়ে জমে রয়েছে আবর্জনা। কিছুক্ষণ বাদেই পুরসভার বড় গাড়ি আসবে, সেগুলি তোলার জন্য। ভ্যাটের পাশ দিয়ে টোটো নিয়ে যাচ্ছিলেন চন্দন মল্লিক। আচমকা আবর্জনার স্তূপের ভিতর থেকে কানে এল কান্নার আওয়াজ। থমকে দাঁড়ান তিনি। টোটো থেকে নেমে এগিয়ে গিয়ে দেখেন, কিছু একটা নড়াচড়া করছে। নোংরা একখানা বড় প্লাস্টিক সরাতেই দেখা গেল, পড়ে রয়েছে কাপড়ে মোড়ানো একরত্তি শিশু। তখনও ধুকপুক করছে প্রাণ। শিশুটিকে কোলে তুলে টোটোচালক চিৎকার করে ডাকলেন অন্যান্যদের। সবাই মিলে ছুটলেন হাসপাতালে। প্রাণ বাঁচল সদ্যোজাতের। শিশুটি কন্যাসন্তান। কে বা কারা এই ঘৃণ্য ঘটনা ঘটাল, তার তদন্ত শুরু করেছে বালি থানার পুলিস।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বুধবার সাতসকালে টোটো নিয়ে যাওয়ার সময় চন্দনবাবুই প্রথম শিশুটিকে দেখতে পান। দীর্ঘক্ষণ ওই আবর্জনার স্তূপে পড়ে থাকায় সদ্যোজাতের শরীরকে পিঁপড়ে, পোকামাকড় ছেঁকে ধরেছিল। তাকে উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয় একটি নার্সিংহোমে নিয়ে যাওয়া হয়। এরপর সেখান থেকে পাঠানো হয় টি এল জয়সওয়াল হাসপাতালে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, শিশুটির বয়স মাত্র একদিন। জঞ্জালের মধ্যে পড়ে থাকার কারণে পিঁপড়ে কামড়েছে ওকে। তবে সমস্ত প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। সে এখন সম্পূর্ণ সুস্থ। বালি থানার পুলিস খবর পেয়ে চলে আসে ঘটনাস্থলে। তাঁরা ওই ভ্যাটটি খতিয়ে দেখেন। আশপাশের সিসি ক্যামেরার ফুটেজ খতিয়ে দেখছে পুলিস। প্রাথমিক তদন্ত পুলিসের অনুমান, প্রায় তিন-চার ঘণ্টা সেখানেই পড়েছিল শিশুটি। স্থানীয় বাসিন্দাদের ধারণা, কেউ বা কারা সম্ভবত ভোররাতে শিশুটিকে ওখানে ফেলে গিয়েছে।
টি এল জয়সওয়াল হাসপাতালের চাইল্ড কেয়ার ইউনিটে চিকিৎসা চলছে এই সদ্যোজাতের। জানা গিয়েছে, পরবর্তীকালে আইনি প্রক্রিয়া মেনেই শিশুটিকে হোমে পাঠিয়ে দেওয়া হবে। সদ্যোজাতকে দেখতে হাসপাতালে যান তৃণমূল যুব কংগ্রেসের হাওড়া জেলার সভাপতি কৈলাশ মিশ্র। আগামী দিনে শিশুটির চিকিৎসা থেকে শুরু করে তার দেখভাল, পড়াশোনা সহ যাবতীয় দায়িত্ব গ্রহণের আশ্বাস দিয়েছেন তিনি। কৈলাশবাবু বলেন, ‘আমাদের মুখ্যমন্ত্রী আজ মেয়েদের জন্য এত প্রকল্প তৈরি করছে। অথচ কিছু মানুষরূপী বর্বর এই ধরনের ঘৃণ্য কাজ করছে। এটা সমাজের লজ্জা। এদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হওয়া উচিত’। হাওড়া সিটি পুলিসের এক কর্তা বলেন, ‘ইতিমধ্যেই ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে। যারা এই কাজ করেছে, শীঘ্রই ধরা পড়বে।’