নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: রবিবার সাতসকালে আমবাগান থেকে এক সদ্যোজাত কন্যাসন্তান উদ্ধার হওয়ায় চাঞ্চল্য ছড়াল বসিরহাটের ধান্যকুড়িয়ায়। স্থানীয় মানুষ ও পুলিস ওই সদ্যোজাতকে উদ্ধার করে নিয়ে যায় বসিরহাট জেলা হাসপাতালে। সেখানেই তার চিকিৎসা চলছে।
নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: রবিবার সাতসকালে আমবাগান থেকে এক সদ্যোজাত কন্যাসন্তান উদ্ধার হওয়ায় চাঞ্চল্য ছড়াল বসিরহাটের ধান্যকুড়িয়ায়। স্থানীয় মানুষ ও পুলিস ওই সদ্যোজাতকে উদ্ধার করে নিয়ে যায় বসিরহাট জেলা হাসপাতালে। সেখানেই তার চিকিৎসা চলছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, মাটিয়ার ধান্যকুড়িয়ায় রয়েছে সাউ জমিদার বাড়ির বিশাল আমবাগান। এলাকার প্রবীণরা সকাল ও বিকেল এই আমবাগানে হাঁটতে আসেন। আর পাঁচটা দিনের মতো এদিন সকালেও কয়েকজন প্রাতর্ভ্রমণকারী এসেছিলেন এই আমবাগানে। তাঁরা লক্ষ্য করেন, বাগানের শেষ প্রান্তে দাঁড়িয়ে একটি কুকুর ডাকাডাকি করছে। প্রথমে কেউ সেদিকে গুরুত্ব না দেওয়ায় কুকুরের চিৎকার ক্রমে বাড়তে থাকে। কৌতূহলবশত তাঁরা কুকুরের কাছে গিয়ে দেখেন, তার সামনে একটি পুঁটুলি পড়ে রয়েছে। সেই পুঁটুলির কাপড় সরাতেই চোখ কপালে ওঠে প্রাতর্ভ্রমণকারীদের। দেখা যায়, তার মধ্যে রয়েছে ফুটফুটে এক সদ্যোজাত কন্যা। আঙুল নড়ছে, চোখের পাতা পড়ছে। সঙ্গে সঙ্গে খবর দেওয়া হয় থানায়। স্থানীয়দের কেউ কেউ আবার ওই শিশুকন্যাকে ‘দত্তক’ নিতে চান। কেউ আবার ওখানেই তার নামকরণ করে দেন।
এই খবর রটতেই ওই আমবাগানে জড়ো হয়ে যান স্থানীয় বাসিন্দারা। তাঁরাই চামচে করে ধীরে ধীরে জল খাওয়ান শিশুটিকে। শুকনো গলায় জল পড়তেই চনমনে হয়ে ওঠে শিশুটি। শুরু হয় হাত-পা নেড়ে খেলা। স্থানীয় লোকজনের কথায়, শিশুটির শরীর ও মুখে দাগ রয়েছে। কিন্তু কে বা কারা ওই সদ্যোজাতকে ফেলে চলে গিয়েছে, তা নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। অভিযুক্তদের দ্রুত চিহ্নিত করে কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। এদিকে, মাটিয়া থানার পুলিস জানিয়েছে, ফুটফুটে ওই কন্যাসন্তানকে উদ্ধার করে প্রথমে ধান্যকুড়িয়া হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে উপযুক্ত চিকিৎসার জন্য বসিরহাট হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে বিএমওএইচের অধীনে রয়েছে শিশুটি। খবর দেওয়া হয়েছে জেলা চাইল্ড ওয়েলফেয়ারে। এ নিয়ে মাটিয়ার বিএমওএইচ ডাঃ অপলা সরকারকে একাধিকবার ফোন বা মেসেজ করা হলেও তিনি উত্তর দেননি।