দেবারতি মুখোপাধ্যায়: বাংলা হোক বা ইংরেজি, যে কোনও নতুন বছর মানেই নতুন আশা। কিন্তু বাঙালির কাছে বাংলা নববর্ষ বা পয়লা বৈশাখ শুধুমাত্র নতুন বছরের সূচনা নয়, এটা এক দীর্ঘ ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতা। যা মিশে আছে ইতিহাস, সংস্কৃতি এবং সমাজের গভীরে। পশ্চিমবঙ্গের মাটিতে বাংলা নববর্ষ উদ্যাপনের রীতি একদিকে যেমন যুগ-যুগ ধরে বাঙালির নিজস্ব সংস্কৃতির পরিচায়ক, অন্যদিকে তেমনই এই উৎসবের আড়ালে আছে ইতিহাসের জটিল বাঁক এবং সামাজিক পরিবর্তনের নানা গল্প। এগুলোর কোনওটা মজার, কোনওটা আবার বিষাদের।
বাংলা সনের উৎপত্তির ইতিহাস অনেক পুরনো। যদিও বর্তমানে প্রচলিত বাংলা সনের প্রবর্তন সম্রাট আকবরের সময় থেকে শুরু হয়েছিল, কিন্তু এর শিকড় আরও গভীরে, সপ্তম শতাব্দীর হিন্দু রাজা শশাঙ্কের শক বর্ষপঞ্জির মধ্যে পাওয়া যায়। বাংলা সন তৈরি করা হয়েছিল হিজরি বর্ষপঞ্জি ও শক বর্ষপঞ্জির মিশ্রণে।
সম্রাট আকবরের আমলে বিভিন্ন অঞ্চলের খাজনা আদায় সহজতর করার জন্য এই বর্ষপঞ্জির প্রবর্তন করা হয়। সম্রাটের আদেশে রাজকীয় জ্যোতির্বিজ্ঞানী ফতুল্লাহ শিরাজি চান্দ্র ইসলামি বর্ষপঞ্জি ও সৌর হিন্দু বর্ষপঞ্জিকে একত্রিত করে একটি নতুন বর্ষপঞ্জি তৈরি করেন, যা ‘ফসলি সন’ নামে পরিচিত ছিল। এই বর্ষপঞ্জির যাত্রা শুরু হয় ১৪৭৯ শকাব্দ, ৯৬৩ হিজরি এবং ১৫৫৬ খ্রিস্টাব্দ থেকে। ওই বছর মহরম এবং ১ বৈশাখ একই দিনে পড়েছিল এবং সেখান থেকেই বাংলা সনের গণনা শুরু হয়। অনেক ঐতিহাসিকের মতে, এর আগে অগ্রহায়ণ মাসকে বছরের প্রথম মাস হিসেবে ধরা হতো। পরে বৈশাখ মাসকে বছরের প্রথম মাস হিসেবে গ্রহণ করা হয়। মজার বিষয় হল, বাংলা সনের দিনগুলোর নাম ইংরেজি ক্যালেন্ডারের মতোই সূর্য, চাঁদ এবং গ্রহের নামের ভিত্তিতে নির্ধারিত হয়েছে—যেমন রবি (সূর্য), সোম (চাঁদ), মঙ্গল-শনি (গ্রহ)।
অন্যদিকে, মাসের নামগুলো এসেছে প্রাচীন জ্যোতির্বিজ্ঞান বিষয়ক গ্রন্থ ‘সূর্যসিদ্ধান্ত’ অনুসারে নক্ষত্রের নাম থেকে। বিশাখা থেকে এসেছে বৈশাখ। বিশাখা একটি নক্ষত্রের নাম। মূলত বিশাখা যেদিন অস্ত যায় সেদিন বৈশাখ মাস শুরু হয় বলে এটির নাম বৈশাখ। জ্যৈষ্ঠা নক্ষত্র থেকে এসেছে জ্যৈষ্ঠ। এই নক্ষত্র যেদিন অস্ত যায় সেদিন এই মাস শুরু হওয়ার কারণে এই নাম। পূর্বাষাঢ়া নক্ষত্র থেকে এসেছে আষাঢ়। এই নক্ষত্র যেদিন অস্ত যায় সেদিন মাস শুরু হওয়ার কারণে এই নাম। শ্রাবণা বা শ্রবণ নক্ষত্র থেকে এসেছে শ্রাবণ। ভদ্রপদ বা ভাদ্রপদা নক্ষত্র থেকে এসেছে ভাদ্র। অশ্বিনী নক্ষত্র থেকে এসেছে আশ্বিন মাস। কার্তিক এসেছে কৃত্তিকা থেকে। কৃত্তিকাও একটি নক্ষত্র। এটি যেদিন অস্ত যায় সেদিন হতে কার্তিক মাস শুরু হয়। অগ্র অর্থ প্রথম এবং হায়ণ অর্থ বছর। আগে অগ্রহায়ণ বাংলা বছরের প্রথম মাস ছিল এজন্য এটির নাম অগ্রহায়ণ রাখা হয়েছিল। পূষ্যা নক্ষত্র থেকে এসেছে পৌষ। মঘা নক্ষত্র থেকে এসেছে মাঘ মাস। এরকমই ফাল্গুনী নক্ষত্র থেকে এসেছে ফাল্গুন মাস। চিত্রা নক্ষত্র থেকে এসেছে চৈত্র।
মুঘল ইতিহাস
পয়লা বৈশাখের ঐতিহাসিক শিকড় খুঁজতে গেলে আমাদের চলে যেতে হবে মুঘল আমলে। আকবরের রাজত্বকালে (১৫৫৬-১৬০৫ খ্রিস্টাব্দ) বাংলা সন গণনার সূচনা হয়েছিল মূলত কৃষি খাজনা সংগ্রহের সুবিধার্থে। বাংলা সন প্রবর্তনের মূল কারণ ছিল হিন্দু চন্দ্রপঞ্জিকা অনুযায়ী বছরের হিসাব রাখতে কৃষকেরা বিভ্রান্ত হচ্ছিলেন। সেই সমস্যা দূর করতেই সোলার বর্ষপঞ্জির ভিত্তিতে নতুন সনের প্রবর্তন করা হয়, যা পরিচিত হয় ‘ফসলি সন’ নামে। এই সনকে পরে ‘বাংলা সন’ রূপে গ্রহণ করা হয়।
প্রবাদ আছে যে, একবার সম্রাট আকবরের কাছে অনেক জমিদার অভিযোগ করলেন যে, খাজনা আদায়ের সময় গ্রামবাসীরা প্রায়শই চন্দ্র মাসের হিসাব দেখিয়ে খাজনা প্রদানে অক্ষমতার কথা জানায়। সম্রাট আকবর তার সভাসদদের নিয়ে এই সমস্যার সমাধান খুঁজতে বসেন। তখন বিখ্যাত জ্যোতির্বিদ ও রাজকীয় জ্যোতিষী আমির ফতেহউল্লাহ শিরাজি বুদ্ধি দেন, ‘জাহাঁপনা, বাংলার একটা আলাদা সন করলেই তো হয়!’ এভাবেই শুরু হয় বাংলা বছর।
প্রাক্ ব্রিটিশ যুগের পুণ্যাহ উৎসব
পুণ্যাহ ছিল ব্রিটিশ আমলের আগে বাংলার রাজস্ব আদায়ের বার্ষিক বন্দোবস্তের একটি উৎসব। এটা প্রাক-ব্রিটিশ যুগের একটি ব্যবস্থার অংশ। যেখানে সরকার জমিদার, তালুকদার, ইজারাদার এবং অন্যান্য রাজস্ব প্রদানকারী ব্যক্তিদের আমন্ত্রণ জানিয়ে বছরের নির্দিষ্ট দিনে এক বিশেষ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে পূর্ববর্তী বছরের রাজস্ব আদায় ও নতুন বছরের বন্দোবস্তের ব্যবস্থা গ্রহণ করত। একে অনেকটা ‘হালখাতা’র পূর্বপুরুষ বলা যেতে পারে। উনিশ শতকের মাঝামাঝি সময় থেকে পুণ্যাহ উৎসব বাংলা নববর্ষের সমার্থক হিসেবে প্রতি বছর বৈশাখ মাসের ১ তারিখে পালিত হতো। ১৯৫০ সালে চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের বিলোপের সঙ্গে সঙ্গেই পুণ্যাহ উৎসবের বিলুপ্তি ঘটে।
নবাব দরবারে পরিচালিত এই অনুষ্ঠানে নবাবকে সন্তুষ্ট করতে সক্ষম ব্যক্তিদের খিলাত বা সম্মানসূচক পোশাক প্রদান করা হতো। জমিদার ও ভূস্বামীরা তাদের প্রজাদের নিয়ে এই উৎসবে যোগ দিত এবং প্রজারা জমিদারের কাছারিতে গিয়ে তাদের বকেয়া রাজস্ব পরিশোধ করত ও নতুন বছরের বন্দোবস্ত গ্রহণ করত। এ উপলক্ষে নৃত্য, সঙ্গীত, যাত্রা, মেলা, গবাদি পশুর দৌড়, মোরগ লড়াই এবং বিভিন্ন প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হতো। মুঘল আমলে পুণ্যাহ উৎসবের নির্দিষ্ট কোনও তারিখ ছিল না। জমি থেকে প্রধান ফসল তোলার সময়কে এই উৎসবের জন্য নির্ধারণ করা হতো। মুর্শিদকুলি খান এই প্রথাকে নতুন রূপ দেন। তার রীতিতে চৈত্রের শেষে ফসল তোলার পর পুণ্যাহ উৎসব পালিত হতো এবং সংগৃহীত রাজস্ব দিল্লিতে প্রেরণ করা হতো।
ইংরেজদের দেওয়ানি লাভের পর ১৭৬৬ সালে প্রথম পুণ্যাহ উৎসব মুর্শিদাবাদ কোর্টের মতিঝিলে অনুষ্ঠিত হয়। লর্ড ক্লাইভ এই উৎসবের সভাপতিত্ব করেন এবং তিনি প্রতিবছর এটি পালনের জন্য বিশেষ গুরুত্ব দেন। তবে কোর্ট অব ডিরেক্টর্স ফোর্ট উইলিয়াম সরকারকে পুণ্যাহ উৎসব পালনের বিরুদ্ধে নির্দেশ দেয়।
পুণ্যাহ উৎসব প্রধানত দু’টি রূপে পালিত হতো—সদর ও মফস্সল। সদরে জমিদার ও ভূস্বামীরা বাংলার দেওয়ানের বাসভবনে অংশগ্রহণ করত। অন্যদিকে মফস্সলে জমিদারের কাছারিতে পুণ্যাহ অনুষ্ঠিত হতো, যেখানে জমির বন্দোবস্তের প্রক্রিয়া পরিচালিত হতো। খাস জমির ইজারাদার ও জোতদাররা পুণ্যাহ অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করে জমির বন্দোবস্তের কাজ সম্পন্ন করত।
এই উৎসবের মাধ্যমে রাজস্ব সংগ্রহের পাশাপাশি খাস জমির মওকুফের ব্যবস্থাও করা হতো। প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে যদি ফসলের উৎপাদন কম হলে, পুণ্যাহ উৎসবেই সেই বিষয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া হতো। জমিদাররা এই উৎসবকে জমকালোভাবে পালন করতেন, যা জমিদার ও প্রজাদের মধ্যে সামাজিক বৈষম্যের পরিচায়ক ছিল।
বর্ধমানের মহারাজার প্রিয় হাতি ‘রামপ্রসাদ’
বর্ধমানের মহারাজাদের নববর্ষ উদ্যাপনের গল্পটা বেশ মজার। একবার নববর্ষের দিনে পুণ্যাহ উৎসবের আয়োজন হচ্ছিল। হঠাৎ মহারাজার প্রিয় হাতি রামপ্রসাদ বিশাল হাঁড়ির মিষ্টির গন্ধ পেয়ে রাজবাড়ির রান্নাঘরে ঢুকে পড়ে। হাতির উপদ্রব সামাল দিতে না পেরে রাঁধুনিরা মজাচ্ছলে বলে বসেন, ‘বছরের শুরুতেই হাতি গিলেছে মিষ্টি! বছরটা ভালো যাবে।’ এই ঘটনার পর থেকে প্রতি নববর্ষে রামপ্রসাদকে মিষ্টি খাওয়ানোর রীতি চালু হয়।
কৃষ্ণচন্দ্রকে বাতিল মুদ্রা প্রদান
কৃষ্ণনগরের রাজা কৃষ্ণচন্দ্রের পুণ্যাহ উৎসবও বেশ খ্যাতি লাভ করেছিল। একবার এক ভিখারি পুণ্যাহ উৎসবে এসে প্রচুর খাজনা দেয় রাজাকে। সবাই অবাক হয়ে যায়। পরে জানা যায়, ভিখারি মূলত মজা করার জন্য পুরনো বাতিল মুদ্রা জমা করে দিয়েছিল। রাজা কৃষ্ণচন্দ্র হাসতে হাসতে বলেন, ‘পুরনোকে বিদায় দিয়ে নতুনকে গ্রহণের দিন তো আজ!’ সেই কথা এখনও কৃষ্ণনগরের মানুষের মুখে মুখে ফেরে।
রাজস্ব যখন কলা
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর যখন শিলাইদহে জমিদারি দেখাশোনা করতেন, তখন একবার পুণ্যাহ উৎসবে এক প্রজা খাজনার পরিবর্তে কবিকে কয়েকটা কলা উপহার দেয়। কারণ সে নতুন সনের দিনেই কলার চাষ করেছিল। রবীন্দ্রনাথ হাসিমুখে কলাগুলি গ্রহণ করেন এবং বলেন, ‘এই কলাগুলি তো নতুন বছরের নতুন ফল। নতুনের মূল্য কখনও কম নয়।’
রহস্যময় লাল কাপড়
উনিশ শতকে ব্যবসায়ীরা বাংলা নববর্ষে হালখাতা খোলার সময় নতুন খাতা লাল কাপড়ে মুড়ে রাখতেন। অনেকে বিশ্বাস করতেন, লাল রং নাকি দেবী লক্ষ্মীকে আকৃষ্ট করে এবং ব্যবসার মঙ্গল করে। কিন্তু মজার বিষয় হল, অনেক ব্যবসায়ী শুধু শোভা বাড়ানোর জন্যই লাল কাপড় ব্যবহার করতেন এবং সেটা যেন একপ্রকারের ব্যবসায়িক ফ্যাশন হয়ে দাঁড়িয়েছিল।
মিষ্টির বদলে মিষ্টির ছবি
সেকালের আরেকটা পুরনো প্রথা ছিল ক্রেতাদের মিষ্টির বাক্স উপহার দেওয়া। কিন্তু কিছু কৌশলী ব্যবসায়ী খরচ কমানোর উদ্দেশ্যে মিষ্টির বদলে শুধু পানের পাতা দিয়ে খাতা খুলিয়ে নিতেন। কখনও কখনও মিষ্টির বাক্সের মধ্যে শুধু সন্দেশের ছবি দেওয়া থাকত!
টক মিষ্টির খেলা
বিংশ শতকে কিছু ব্যবসায়ী হালখাতা অনুষ্ঠানে টক-মিষ্টির খেলা শুরু করেন। অর্থাৎ যারা তাদের দেনা শোধ করে খাতায় সই করত, তাদের মিষ্টি দেওয়া হতো। আর যারা দেনা বাকি রেখেছিল, তাদের দেওয়া হতো টক জিলাপি বা লেবুর শরবত!
বাবুদের পক্ষপাতিত্ব
উনিশ শতকের বাবু কালচারে বাংলা নববর্ষের দিন শুধু খাতা খোলা নয়, বিরাট আড়ম্বরে ভোজের আয়োজনও করা হতো। কিন্তু মজার ব্যাপার হল, অনেক বাবু নাকি বিশেষ লাল শাড়ি পরা মেয়েদেরই মিষ্টি খেতে দিতেন। আর বাকিরা কাঁচামিষ্টি বলে উপেক্ষিত হতো।
হালখাতায় ভরাডুবি
কিছু ব্যবসায়ী হালখাতার নাম করে শুধু খাতা খোলার উৎসবই করতেন, আদায়ের কোনও পরিকল্পনা থাকত না। উদ্দেশ্য ছিল ক্রেতাদের খুশি করা এবং পরের বছরের ব্যবসার উন্নতি ঘটানো। কিন্তু এরকম আয়োজন করতে গিয়ে অনেকেই ব্যবসায়ের মূল খাতার হিসাবই ভুলে যেতেন।
স্পেশাল ঢাক ঢোল আসন
উনিশ শতকের শেষের দিকে নববর্ষ উপলক্ষে কিছু জমিদার তাদের প্রভাব দেখানোর জন্য হালখাতা অনুষ্ঠানে আসা প্রজাদের ঢাক ঢোল সহযোগে অভ্যর্থনা করতেন। যারা বেশি দেনা পরিশোধ করত, তাদের বসার জন্য আলাদা আসনও দেওয়া হতো।
বইপাড়ার অভিনবত্ব
নববর্ষের অভিনবত্বে কলেজ স্ট্রিটও কম যায় না। বিংশ শতকের মাঝামাঝি সময়ে বই ব্যবসায়ীরাও হালখাতা প্রথা চালু করেছিলেন। কিন্তু তাদের উপহার ছিল বই বা কাগজের দিস্তা। একবার এক ব্যবসায়ী মিষ্টির বদলে ক্রেতাদের ‘টক গল্প’ নামে কিছু ছোট বই উপহার দেন।
এখন আসা যাক, নববর্ষ উদযাপন প্রসঙ্গে। আধুনিক নববর্ষ উদ্যাপনের খবর প্রথম পাওয়া যায় ১৯১৭ সালে। প্রথম মহাযুদ্ধে ব্রিটিশদের বিজয় কামনা করে সে বছর পয়লা বৈশাখে হোম কীর্তন ও পুজোর ব্যবস্থা করা হয়। এরপর ১৯৩৮ সালেও অনুরূপ কর্মকাণ্ডের উল্লেখ পাওয়া যায়।
আজকের বাঙালি ব্যবসায়ীদের জন্যও পয়লা বৈশাখ মানেই ‘হালখাতা’। বছরের পুরনো হিসাব-নিকাশ শেষ করে নতুন খাতা খোলার পরম্পরা যুগ যুগ ধরে চলে আসছে। আজকের আধুনিক নগর সভ্যতার মধ্যেও এই প্রথার গুরুত্ব কমেনি বরং তা নতুন রূপ ধারণ করেছে। আধুনিক যুগে ডিজিটাল বিপ্লবের ফলে ব্যবসার ধরন বদলে গেলেও পয়লা বৈশাখের গুরুত্ব কিন্তু কমেনি। অনলাইন প্ল্যাটফর্মেও এই সময় বিশেষ ছাড়ের ঘোষণা করা হয়, যার ফলে নববর্ষের আনন্দ আরও বিস্তৃত হয়। ই সেল, অনলাইন সেল রমরমিয়ে চলে এইসময়ে।
পয়লা বৈশাখ আসলে শুধু একটা উৎসব নয়, এটা বাঙালির ব্যবসায়িক দৃষ্টিভঙ্গির প্রতিফলন। বাঙালি যে ব্যবসা করতে পারে না, তাকে ভুল প্রমাণিত করে এই উৎসব। বাঙালি যতই বিশ্বনাগরিক হয়ে উঠুক, পয়লা বৈশাখ থাকুক তাদের অন্তরে।