তাপস ঘোষ, বহরমপুর: মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বেলডাঙার রেডিমেড গার্মেন্ট হাবের নাম দিয়েছিলেন সাজ বিতান। মুখ্যমন্ত্রীর নিজের হাতে লেখা সেই নাম এখনও ঝকঝক করছে। কিন্তু, মুখ্যমন্ত্রীর স্বপ্নের এই প্রকল্প শুরুর চার সপ্তাহের মধ্যেই মুখ থুবড়ে পড়েছিল। ঝাঁপ গুটিয়ে অ্যাডভান্স ফিরিয়ে নেন প্রায় ৯৫ শতাংশ ব্যবসায়ী। জঞ্জাল, আবর্জনায় ঢেকে যায় প্রায় সাত কোটি টাকা খরচে নির্মিত চারতলা ভবন। বর্তমান বেলডাঙা পুরবোর্ড সাজ বিতানকে ফের খাদের কিনারা থেকে ফিরিয়ে এনে দাঁড় করিয়েছে। বস্ত্র ব্যবসায়ী মহলে আলোড়ন পড়েছে। পুর কর্তৃপক্ষের দাবি, এখন হাটের দিন ৬০০-র বেশি ব্যবসায়ী সাজ বিতানে আসেন। ঈদের বাজারে ক্রেতাদের চাপ সামলাতে বস্ত্র ব্যবসায়ীদের হিমশিম খেতে হচ্ছে।
বেলডাঙা পুরসভার চেয়ারপার্সন অনুরাধা হাজরা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, দু’টো উদ্দেশ্য নিয়ে সাজ বিতানকে পুনরুজ্জীবিত করেছি। প্রথমত এই প্রকল্পের সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রীর আবেগ জড়িয়ে রয়েছে। দ্বিতীয়ত, বস্ত্র ব্যবসায়ীদের ন্যূনতম ভাড়ায় ঘর দিয়ে তাঁদের আয়ের রাস্তা দেখানো।
বেলডাঙায় গার্মেন্টস হাব তৈরির জন্য ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পদপ্তর থেকে ৬ কোটি ৮০ লক্ষ টাকা বরাদ্দ করা হয়। ২০১৭ সালে নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হয়। এরপরই লটারির মাধ্যমে চারতলা ভবনের মোট ৪৮০টি ঘর বিলি করা হয়। গ্রাউন্ড ফ্লোরের জন্য ব্যবসায়ীদের কাছে দেড় লক্ষ টাকা অ্যাডভান্স নেওয়া হয়। দ্বিতীয় তলার জন্য এক লক্ষ ২৫ হাজার টাকা, তৃতীয় তলের জন্য এক লক্ষ ও চতুর্থ তলার জন্য ৭৫ হাজার টাকা নেওয়া হয়েছিল। বর্তমান পুরবোর্ডের অভিযোগ, ঘরগুলি ব্যবসায়ীদের হাতে পড়ায় ২০১৯ সালের শেষে উদ্বোধনের চার সপ্তাহের মধ্যেই গার্মেন্ট হাব বন্ধ হয়ে যায়। এক এক করে ৯৫ শতাংশ ঘর মালিক অ্যাডভান্স ফিরিয়ে নেন। ২০২২ সালে পুরসভা গার্মেন্ট হাব পুনরুজ্জীবিত করার উদ্যোগ নেয়। ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আলোচনায় বসে তাঁদের মতামত নেওয়া হয়। মুর্শিদাবাদ জেলার বিভিন্ন প্রান্ত সহ নবদ্বীপ, ফুলিয়া, পলাশী, শান্তিপুরের ব্যবসায়ীদের কোনও অ্যাডভান্স ছাড়া ঘর দেওয়া হয়। ২০২৩ সালের পুজোর আগে খুলে দেওয়া হয় রেডিমেড গার্মেন্ট হাব। ১২ নম্বর জাতীয় সড়কের পাশে বেলডাঙা পুরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডে প্রতি সোমবার সাজ বিতানে হাট বসে। বস্ত্র ব্যবসায়ী নাজমুল হোসেন, কাওসার শেখ, মনোজ শেখদের দাবি, গার্মেন্ট হাব বস্ত্র ব্যবসায়ীদের উপার্জনের অন্যতম প্রতিষ্ঠান। এর সব কৃতিত্ব বেলডাঙা পুরবোর্ডের। বেলডাঙার বিধায়ক হাসানুরজ্জামান শেখ বলেন, বস্ত্র ব্যবসায়ীদের আয়ের পথ খুলে দিতেই এই উদ্যোগ।