নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: পোস্তায় বহুতল থেকে প্রেমিক ভিকি শর্মার ঝাঁপ দিয়ে মৃত্যুর মামলা নতুন দিকে মোড় নিল। ওই যুবক আত্মঘাতী হননি, তাঁকে খুনই করা হয়েছে। তথ্যপ্রমাণ হাতে আসার পরই তাঁর প্রেমিকা শিখা শর্মাকে বৃহস্পতিবার রাতে গ্রেপ্তার করেছে পোস্তা থানা। তাঁর বিরুদ্ধে খুনের অভিযোগ আনা হয়েছে। ঘটনার দিন শিখাদেবী আহত হয়েছিলেন। দীর্ঘদিন হাসপাতালে ভরতি ছিলেন। পারিপার্শ্বিক তথ্যপ্রমাণে শিখার বিরুদ্ধে খুনের অভিযোগ মিলেছে বলে জানা গিয়েছে।
২০২৫ সালের ডিসেম্বর মাসে পোস্তা এলাকায় বাড়ির মধ্যে শিখা শর্মাকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে পুলিশ। তাঁর শরীরে একাধিক আঘাত ছিল। ঝাঁপ দিয়ে আত্মঘাতী হন ভিকি শর্মা নামে এক যুবক। তদন্তে জানা যায়, শিখার স্বামী মারা যাওয়ার পর ভিকির সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক গড়ে ওঠে। ঘটনার দিন ভিকি প্রেমিকার বাড়িতে এসেছিলেন। শিখার শরীরে একাধিক ছুরির আঘাত থাকায় পুলিশ প্রথমে সন্দেহ করেছিল, ভিকি প্রেমিকাকে খুনের চেষ্টা করেছেন। তারপর নিজে আত্মঘাতী হয়েছেন। তরুণী সুস্থ হওয়ার পর তদন্তকারীরা জিজ্ঞাসাবাদ করে জানতে পারেন, ভিকির সঙ্গে ওইদিন তাঁর ঝামেলা হয়। দু’জনের মধ্যে ধস্তাধস্তিও হয়। এরপর ছুরি হাতে ভিকিকে দৌড় করান মহিলা। প্রেমিকার ওই রুদ্রমূর্তি দেখে পালাতে গিয়ে নীচে পড়ে যান ভিকি। তাতেই তাঁর মৃত্যু হয়। এরপর ছুরি দিয়ে নিজেই নিজেকে কোপান শিখা। প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ান ও পারিপার্শ্বিক সাক্ষ্য প্রমাণের ভিত্তিতে তদন্তকারীরা নিশ্চিত হন, ভিকিকে খুন করা হয়েছে। তাঁর প্রেমিকাই খুনের ঘটনায় জড়িত। এরপরই তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।