Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

মালদহ মেডিক্যাল বিতর্কে নতুন মোড়, আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে সরব মহিলা ইন্টার্ন, ভিডিও ভাইরাল

এক ইন্টার্নকে নিগ্রহের অভিযোগ। পাল্টা এক মহিলা ইন্টার্নের গায়ে এক পুরুষ ইন্টার্নের হাত দেওয়ার অভিযোগ নিয়ে নতুন মোড় নিল মালদহ মেডিক্যাল কলেজের সাম্প্রতিক অস্থিরতা।

মালদহ মেডিক্যাল বিতর্কে নতুন মোড়, আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে সরব মহিলা ইন্টার্ন, ভিডিও ভাইরাল
  • ২৬ আগস্ট, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, মালদহ: এক ইন্টার্নকে নিগ্রহের অভিযোগ। পাল্টা এক মহিলা ইন্টার্নের গায়ে এক পুরুষ ইন্টার্নের হাত দেওয়ার অভিযোগ নিয়ে নতুন মোড় নিল মালদহ মেডিক্যাল কলেজের সাম্প্রতিক অস্থিরতা। বিষয়টি নিয়ে সোমবার মেডিক্যালের অধ্যক্ষের কাছে বিজেপির ডেপুটেশন এবং তৃণমূলের পাল্টা প্রতিক্রিয়া নিয়ে নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্কও দানা বেঁধেছে। এনিয়ে ‘তৃণমূল-বিজেপি বোঝাপড়া’ হয়েছে দাবি করেছেন শুক্রবার বিকেল থেকে শনিবার রাত পর্যন্ত অধ্যক্ষকে ঘেরাওকারীরা। পাল্টা তাঁদের ‘অরাজনৈতিক’ আন্দোলনের পিছনে ‘অতিবাম’ শক্তির মদত দেওয়ার পাল্টা তত্ত্ব ভেসে উঠেছে।

Advertisement

সোমবার সকাল থেকেই এক মহিলা ইন্টার্নের ভিডিও-বক্তব্য (সত্যতা যাচাই করেনি ‘বর্তমান’) ভাইরাল হয়। ভিডিওয় ওই ইন্টার্ন দাবি করেন, তাঁকে ও সহপাঠী নবদ্বীপ শীলকে মিথ্যা অভিযোগে ফাঁসাচ্ছেন অপর এক ইন্টার্নের সহযোগীরা। যে ইন্টার্নকে নিগ্রহের অভিযোগ উঠেছে, তিনিই আসলে তাঁকে শারীরিকভাবে আঘাত করেন। শুধু তাই নয়, তাঁর চুল ছিঁড়ে নেওয়া ওই ইন্টার্নের পরিবারের সদস্যরা নবদ্বীপকে হুমকিও দিয়েছেন। 
ওই মহিলা ইন্টার্ন বলেন, হাসপাতালে আমার ডিউটি থাকলেও অধ্যক্ষের চেম্বারে অবস্থানকারীরা আমাকে দায়িত্ব পালন করতে দেননি। এমনকী হাসপাতালে ঢোকাই আমাদের কাছে আতঙ্ক হয়ে দাঁড়িয়েছে। আমি ডিউটি করতে পারছি না।
ওই ভিডিও দ্রুত ছড়িয়ে পড়তেই দক্ষিণ মালদহ জেলা বিজেপি’র সাধারণ সম্পাদক বিশ্বজিৎ রায়ের নেতৃত্বে ময়দানে নামেন কর্মীরা। মহিলা ইন্টার্নকে হেনস্তায় অভিযুক্তের ব্যক্তিগত পরিচয় তুলে আন্দোলন শুরু করে বিজেপি। তারা অধ্যক্ষ পার্থপ্রতিম মুখোপাধ্যায়কে ডেপুটেশন দেয়। বলা হয় ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ করতে হবে।
পাল্টা জেলা তৃণমূল সভাপতি আব্দুর রহিম বক্সি বলেন, মেডিক্যালে যে নিন্দনীয় ঘটনা ঘটেছে, তার তদন্তের জন্য অধ্যক্ষ ইতিমধ্যেই কমিটি গঠন করেছেন। মেডিক্যালে কোনওরকম অস্থিরতা চাই না। তবে, বিজেপি যে ভাষায় অধ্যক্ষকে ‘আলটিমেটাম’ দিয়েছে তারও তিনি কড়া নিন্দা করেন। বলেন, হাসপাতালের পরিষেবা বন্ধ করার চেষ্টা করলে মেডিক্যাল কর্তৃপক্ষ এবং প্রশাসন যথোপযুক্ত ব্যবস্থা নেবে।
আন্দোলনরত পড়ুয়াদের তরফে সৌম্যদীপ কাঞ্জি বলেন, থ্রেট কালচারের বিরুদ্ধে আমাদের আন্দোলনকে খাটো করতেই ইন্টার্নদের নিয়ে নোংরা রাজনীতি করছে বিজেপি। যে দু’জন ইন্টার্নের বিরুদ্ধে আমাদের অভিযোগ, তাঁরা তৃণমূলের ঘনিষ্ঠ। তাঁদের এখন মদত দিচ্ছে বিজেপি। এতেই স্পষ্ট, দুই দলের বোঝাপড়া রয়েছে। এদিকে, চিকিৎসকদের অপর একটি মহলের অনুমান, ঘেরাওকারী ইন্টার্নদের পিছনে ‘অতিবাম’ শক্তির ইন্ধন রয়েছে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ