Bartaman Logo
২৪ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

সরকারি চাকরির পরীক্ষায় আসছে নয়া ‘স্বচ্ছ’ নীতি

বাম ও তৃণমূল জমানা মিলিয়ে গত ৫০ বছরে রাজ্য সরকারি চাকরিতে ভূরিভূরি দুর্নীতির অভিযোগ সামনে এসেছে। বাংলায় প্রথম বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর এবার নয়া নিয়োগ নীতি লাগু হতে চলেছে রাজ্যে।

সরকারি চাকরির পরীক্ষায় আসছে নয়া ‘স্বচ্ছ’ নীতি
  • ২৪ মে, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: বাম ও তৃণমূল জমানা মিলিয়ে গত ৫০ বছরে রাজ্য সরকারি চাকরিতে ভূরিভূরি দুর্নীতির অভিযোগ সামনে এসেছে। বাংলায় প্রথম বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর এবার নয়া নিয়োগ নীতি লাগু হতে চলেছে রাজ্যে। শনিবার এ ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এদিন শিয়ালদহে কেন্দ্রীয় সরকারের চাকরি  বিলি সংক্রান্ত রোজগার মেলায় যোগ দিয়ে এই ঘোষণা করেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, শিক্ষক কিংবা পুর নিয়োগ সহ একাধিক দুর্নীতির ঘটনায় বাংলার নাম কলুষিত হয়েছে। তার ফলে রাজ্যের শিক্ষিত সমাজ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এমনকি রেল সহ বিভিন্ন কেন্দ্রীয় মন্ত্রক পশ্চিমবঙ্গে নিয়োগ পরীক্ষা নিতে অনীহা প্রকাশ করেছিল। সেই অন্ধকারময় অধ্যায় থেকে বাংলাকে বের করতে বদ্ধপরিকর রাজ্য সরকার। সেই সূত্রেই এবার রাজ্য সরকারি চাকরির পরীক্ষায় বিবিধ সংস্কার আনার পরিকল্পনার কথা জানান মুখ্যমন্ত্রী। রেলওয়ে রিক্রুটমেন্ট বোর্ড কিংবা সেনাবাহিনীর সদর্থক পরীক্ষা পদ্ধতি মেনে নয়া নীতি তৈরি হবে। আগামী ১৮ জুন থেকে বাজেট অধিবেশন শুরু হবে। এই সময় বিধানসভায় আইন করে রাজ্য সরকারি চাকরিতে নয়া নীতি কার্যকর হবে বলে এদিন দাবি করেন শুভেন্দুবাবু।

Advertisement

মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, আমি দায়িত্ব নেওয়ার পর আধিকারিকদের কাছে জানতে চেয়েছিলাম, এ রাজ্যে কীভাবে সরকারি পদে নিয়োগ হয়। তাঁরা আমায় জানিয়েছেন, ওএমআর শিটে লিখিত পরীক্ষার ভিত্তিতে হয়। উত্তরপত্রের সঙ্গে কার্বন কপি থাকে। কিন্তু সেই কপি খাতার সঙ্গেই থেকে যায়। পরীক্ষার্থীদের নিয়ে যেতে দেওয়া হয় না। বিগত সরকারের এই সিদ্ধান্তকে তুলোধোনা করেন মুখ্যমন্ত্রী। 
তাঁর অভিযোগ, স্বজনপোষন ও অসৎ উদ্দেশ্য চরিতার্থ করতেই কার্বন কপি পরীক্ষার্থীদের বাড়ি নিয়ে যেতে দেওয়া হত না। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি, চাকরির পরীক্ষায় বসা যুবক-যুবতীদের ওএমআর শিটের কার্বন কপি দিয়ে দেওয়া উচিত। সরকারি চাকরির পরীক্ষায় মৌখিক মূল্যায়নের নম্বর কমানোর পক্ষেও সওয়াল করেন ভবানীপুরের বিজেপি বিধায়ক। পাশাপাশি লিখিত পরীক্ষার নম্বর ও পরীক্ষার্থীর শিক্ষাগত যোগ্যতা-মেধার ভিত্তিতে নিয়োগে বাড়তি গুরুত্ব দেন মুখ্যমন্ত্রী। স্বচ্ছতার সঙ্গে গোটা প্রক্রিয়া শেষ হলে পরীক্ষার্থীদের প্রাপ্ত নম্বর নিয়ামক সংস্থা কিংবা বোর্ডের ওয়েবসাইটে দিয়ে দেওয়া হোক, এমনটাও চাইছেন শুভেন্দু।
এদিন কেন্দ্রের বিভিন্ন মন্ত্রকে ৫১ হাজারের বেশি চাকরির নিয়োগপত্র তুলে দেওয়া হয়। শিয়ালদহ ডিআরএম অফিসের বি সি রায় অডিটোরিয়ামের হাজির হয়ে মুখ্যমন্ত্রী এই নয়া নীতির কথা ঘোষণা করেন। তাঁর দাবি, বিগত সরকার সংবিধান প্রণেতা বি আর আম্বেদকরের সংরক্ষণ নীতিকে অমান্য করেছে। উল্লেখ্য, কেন্দ্র-রাজ্য সরকারি চাকরিতে ১০০ পয়েন্ট রোস্টার মেনে এসটি, এসসি, ওবিসি, বিশেষভাবে সক্ষম ও আর্থিকভাবে দূর্বল শ্রেণির জন্য নির্দিষ্ট পদ সংরক্ষিত রয়েছে। পশ্চিমবঙ্গে নয়া নিয়োগ নীতি কার্যকর হলে সংবিধান মেনেই তা হবে। আগামী ৬ জুন নবান্নে রাজ্যে সমস্ত সরকারি চাকরির নিয়ামক ও আয়োজক সংস্থাকে নিয়ে সম্মেলন আয়োজনের কথাও জানান মুখ্যমন্ত্রী।             

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ