নিজস্ব প্রতিনিধি, বরানগর: পরাধীন ভারতের রাজনৈতিক ইতিহাসে সোদপুর খাদি প্রতিষ্ঠান একটি বিশিষ্ট নাম। ‘মহাত্মা গান্ধীর দ্বিতীয় বাড়ি’ হিসেবে পরিচিত এই ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠানের সংস্কার করতে হেরিটেজ কমিশন ৩০ লক্ষ টাকা বরাদ্দ করেছিল। পানিহাটি পুরসভাকে দেওয়া সেই টাকা এখনও সম্পূর্ণ খরচ হয়নি। শুধু তাই নয়, পুরসভা নিয়োজিত ঠিকাদারের মাধ্যমে এই হেরিটেজ ভবন সংস্কারের কাজ নিয়েও প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছিল বিভিন্ন মহলে। এবার তাই এই ভবন সংস্কারের কাজ রাজ্য পূর্তদপ্তরকে দেওয়ার পরিকল্পনা হয়েছে। ৭৭ লক্ষ টাকার প্রকল্প তৈরি করছে হেরিটেজ কমিশন। চলতি মাসেই পূর্তদপ্তরের প্রিন্সিপাল সেক্রেটারি অন্তরা আচার্য সহ অন্যান্য প্রশাসনিক আধিকারিক সোদপুর খাদি প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন করে গিয়েছেন।
আচার্য প্রফুল্লচন্দ্র রায়ের সহযোগী ও মহাত্মা গান্ধীর বিশেষ স্নেহভাজন ছিলেন সতীশচন্দ্র দাশগুপ্ত। বেঙ্গল কেমিক্যালস ছেড়ে তিনি গান্ধীজির আদর্শে তৈরি করেন খাদি প্রতিষ্ঠান। ১৯২৫ সালে সোদপুরে জমি কিনে এই প্রতিষ্ঠানকে মহীরুহে পরিণত করেন তিনি। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মহাত্মা গান্ধী, মতিলাল নেহরু ছাড়াও বহু বিশিষ্ট ব্যক্তি হাজির ছিলেন। ১৯২৭ সাল থেকে বেশ কয়েকবার গান্ধীজি এখানে এসেছেন। তিনি বলতেন, ‘এই আশ্রম আমার দ্বিতীয় বাড়ি’। ১৯৩৯ সালে ত্রিপুরি কংগ্রেসের পর ২৭, ২৮ ও ২৯ এপ্রিল এই আশ্রমেই দেশের সব থেকে চর্চিত বৈঠকটি হয়েছিল। গান্ধীজি, নেতাজি, জওহরলাল নেহরু ছাড়াও তৎকালীন কংগ্রেসের তাবড় নেতারা হাজির ছিলেন। অনেক ইতিহাসবিদ বলেন, এই আশ্রমেই নেতাজির কংগ্রেস-ত্যাগের প্রেক্ষাপট রচিত হয়ে গিয়েছিল। শুধু রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডই নয়, এখানে গান্ধীজির ভাবাদর্শ অনুযায়ী দেশীয় শিল্পের বিকাশে চরকায় সুতো কাটা, খাদির কাপড় তৈরি, ধুপকাঠি, দুধ থেকে তৈরি ঘি সহ নানা সামগ্রী উৎপাদন ও বিক্রি করা হতো।
কিন্তু দেশ স্বাধীন হওয়ার পর ধীরে ধীরে সোদপুর খাদি প্রতিষ্ঠান রুগ্ন হতে শুরু করে। ২০০৮ সাল নাগাদ চরকায় সুতো কাটা সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়। ভগ্নপ্রায় অবস্থায় পড়ে থাকে ভবন। ২০২৪ সালে হেরিটেজ কমিশন ভবন সংস্কারে ৩০ লক্ষ টাকা বরাদ্দ করেছিল। প্রথম দফায় পুরসভা স্থানীয় ঠিকাদারকে দিয়ে প্রায় ১৭ লক্ষ টাকার কাজ করায়। কিন্তু ইতিমধ্যে নতুন রং নষ্ট হতে শুরু করেছে। তাই ফের নতুন প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। পানিহাটি পুরসভার চেয়ারম্যান সোমনাথ দে বলেন, ‘পানিহাটির গর্বের ইতিহাস রক্ষায় আমরা সদা সচেষ্ট।’