Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / হেলথ

হাসপাতালে নতুন আউটডোর টিকিট, বাদ বিশ্ববাংলা লোগো, এই প্রথম ১৫ ধরনের সম্ভাব্য অসুখের উল্লেখ

২ টাকার আউটডোর টিকিট বা ওপিডি পেশেন্ট কার্ড থেকে সরছে সবুজ রংয়ের বিশ্ব বাংলা লোগো। নতুন সরকারের অন্যান্য দপ্তরের মতোই ফিরছে অশোকস্তম্ভ। নয়া এই আউটডোর টিকিট স্বাস্থ্যদপ্তরের শীর্ষপর্যায়ের অনুমোদন পেয়েছে। এমনই জানা গিয়েছে দপ্তর সূত্রে।

হাসপাতালে নতুন আউটডোর  টিকিট, বাদ বিশ্ববাংলা লোগো, এই প্রথম ১৫ ধরনের সম্ভাব্য অসুখের উল্লেখ
  • ২৭ মে, ২০২৬ ০৪:০০

বিশ্বজিৎ দাস, কলকাতা: ২ টাকার আউটডোর টিকিট বা ওপিডি পেশেন্ট কার্ড থেকে সরছে সবুজ রংয়ের বিশ্ব বাংলা লোগো। নতুন সরকারের অন্যান্য দপ্তরের মতোই ফিরছে অশোকস্তম্ভ। নয়া এই আউটডোর টিকিট স্বাস্থ্যদপ্তরের শীর্ষপর্যায়ের অনুমোদন পেয়েছে। এমনই জানা গিয়েছে দপ্তর সূত্রে। 

Advertisement

সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, এই প্রথম আউটডোর টিকিটে চিকিৎসক এবং রোগীদের সুবিধার্থে ‘প্রবিশনাল ডায়াগনসিস’ অংশে ১৫ ধরনের সম্ভাব্য অসুখের কথা ছাপা থাকছে। চিকিৎসকদের ক্লিনিক্যাল নোট অংশে এই অসুখগুলির উল্লেখ থাকছে। এখন সারা বিশ্বেই চিকিৎসাশাস্ত্রে রোগের বিচারে অসুখকে দু’টি ভাগে ভাগ করা হয়েছে। একটি ‘কমিউনিকেবল ডিজিজ’ বা সংক্রামক অসুখ। অন্যটি ‘নন কমিউনিকেবল ডিজিজ’ বা অ-সংক্রামক অসুখ। কমিউনিকেবল অসুখের তালিকায় ১২টি সংক্রামক রোগের নাম লেখা থাকছে নয়া আউটডোর টিকিটে। সেগুলি হল— ডায়ারিয়া, আমাশা বা ডিসেন্ট্রি, অ্যাকিউট রেসপিরেটরি ইলনেস বা তীব্র শ্বাসকষ্ট, কাঁপুনির উপসর্গ থাকা অসুখ বা ফেব্রাইল ইলনেস, ডেঙ্গু, চিকুনগুনিয়া, এনটেরিক ফিভার, অজানা জ্বর, হেপাটাইটিস, চিকেন পক্স, মিসলস-রুবেলা, অ্যানথ্রাক্স। অন্যদিকে তিনটি প্রধান অ-সংক্রামক অসুখ যেমন হাইপারটেনশন বা উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস এবং সিওপিডি’র উল্লেখ থাকছে আউটডোর টিকিটে। চিকিৎসক যদি মনে করেন এই ১৫টির মধ্যে কোনওটাই রোগীর হয়নি, সেক্ষেত্রে প্রবিশনাল ডায়াগনসিস কলমে ‘আদার্স’ বলেও অপশন থাকছে। পাশাপাশি বলা হয়েছে, চিকিৎসক যেন সেখানে সুনির্দিষ্টভাবে রোগের উল্লেখ করেন। 
শেষ তিন দশকে সরকারি হাসপাতালের আউটডোর টিকিটের দিকে যদি তাকানো যায়, দেখা যাবে, বাম জমানায় দীর্ঘদিন পর্যন্ত হাতে লেখা আউটডোর টিকিট চালু ছিল। তাতে মোটামুটি চার-পাঁচটি বিষয় উল্লেখ করতে হত। রোগীর নাম, বয়স, পুং/মহিলা, রোগের নাম, তারিখ ও চিকিৎসার বিবরণ। শেষার্ধ্বে কম্পিউটারাজড টিকিট আসে। দু’পাতার টিকিটে গুচ্ছের তথ্য দিতে হতো। চিকিৎসকদের লেখার অংশে দু’টি বিষয় চলে আসে। ‘ক্লিনিক্যাল নোট’ আর ‘অ্যাডভাইজ’। তৃণমূল জমানায় কিছুদিন ওই ফরম্যাট চলে। তারপর চলে আসে বিশ্ববাংলা লোগো। বাদবাদি ফরম্যাট মোটামুটি একই থাকে। বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর বিশ্ববাংলা লোগো সরানোর পাশাপাশি উল্লেখযোগ্য ফারাক ক্লিনিক্যাল নোটে ‘প্রবিশনাল ডায়াগনসিস’ বা প্রাথমিক রোগনির্ণয় অংশ যুক্ত করা হয়েছে। 
কিন্তু কেন? দপ্তর সূত্রের খবর, গত কয়েক মাসে কয়েক লক্ষ সরকারি প্রেসক্রিপশন অডিট করে স্বাস্থ্যকর্তারা অসংখ্য ত্রুটি-বিচ্যুতি লক্ষ্য করেছেন। তার অন্যতম হল, রোগী দেখার পর প্রাথমিকভাবে চিকিৎসকের কী মনে হয়েছে, তা ‘প্রবিশনাল ডায়াগনসিস’-এ উল্লেখ না থাকা। এবার আর সেই ভুল হওয়ার জো থাকবে না।

সম্পর্কিত সংবাদ