অভিনব কায়দায় কলকাতা বন্দরে  নিষিদ্ধ পণ্য পাচারের ছক! কন্টেনার খুলতেই চক্ষু চড়কগাছ গোয়েন্দাদের
  • ২৮ অক্টোবর, ২০২৬ ১৩:৩১
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: জলপথে নেপালে বিভিন্ন পণ্য পাঠানোর আড়ালে চলছিল নিষিদ্ধ ই-সিগারেট পাচারের চেষ্টা। পণ্যগুলির চালানে কোথাও ‘ওয়াটার গ্লাস’, কোথাও বা ‘সিরামিক মগ’ এমনই পরিচয়ের আড়ালে লুকিয়ে রাখা হয়েছিল হাজার হাজার ই-সিগারেট। গোপন সূত্রে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে কলকাতার শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জি বন্দরে সেই পাচারের ছক ভেস্তে দিল ডিরেক্টরেট অফ রেভিনিউ ইন্টেলিজেন্স (ডিআরআই)। তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী প্রায় ৫৫ হাজার ই-সিগারেট বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। যার অনুমানিক বাজারমূল্য ১৩.৫০ কোটি টাকা। 

Advertisement

গত ২৪ অক্টোবর, ডিআরআইয়ের আধিকারিকরা নেপালগামী ট্রান্সশিপমেন্টের দুটি কন্টেনার আটক করেন। গোপন সূত্রের তথ্যের ভিত্তিতেই কন্টেনার দুটিতে তল্লাশি চালাতেই সামনে আসে পাচারের অভিনব কৌশল। ঘোষিত পণ্যের আড়ালে লুকিয়ে রাখা হয়েছিল বিভিন্ন ব্র্যান্ডের নিষিদ্ধ ই-সিগারেট। প্রথম কন্টেনার যেইটিতে ‘ওয়াটার গ্লাস’ বলে পাচার করা হচ্ছিল সেই কন্টেনার থেকে উদ্ধার হয় ৪০ হাজার ই-সিগারেট। অন্যদিকে, দ্বিতীয় কন্টেনারে ‘সিরামিক মগ’ হিসেবে ঘোষিত পণ্যের মধ্যে লুকিয়ে রাখা হয়েছিল আরও প্রায় ১৫ হাজার ই-সিগারেট। 

উল্লেখ্য,ভারতে  ই-সিগারেট এবং সমস্ত ধরনের ইলেকট্রনিক নিকোটিন ডেলিভারি সিস্টেম নিষিদ্ধ। ২০১৯ এর ইলেকট্রনিক সিগারেট নিষিদ্ধকরণ আইনে সমস্ত রকম ই-সিগারেটের উৎপাদন, আমদানি, রপ্তানি, পরিবহণ, বিক্রি সবকিছুর উপর নিষেধাজ্ঞা জারি রয়েছে। তবে নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও বিভিন্ন পথে এই ধরনের পণ্য পণ্য পাচারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে পাচারকারীদের। 

ডিআরআইয়ের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষে দেশের বিভিন্ন বন্দর, বিমানবন্দরে অভিযান চালিয়ে এখনও পর্যন্ত প্রায় ৩ লক্ষ ই-সিগারেট বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। বাজেয়াপ্ত পণ্যগুলির মোট মূল্য ১২০ কোটি টাকারও বেশি। মহারাষ্ট্র, গুজরাট, দিল্লি এবং পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন জায়গায় এই অভিযান চালানো হয়েছে।