সংবাদদাতা, কাটোয়া: শেষমেশ যাত্রীদের দাবি মেনে কাটোয়া-আহমদপুর শাখায় নতুন এক জোড়া ট্রেন দেওয়া হল। আগামী শুক্রবার থেকে মেমু ট্রেন চালানো হবে। মঙ্গলবার পূর্ব রেলের তরফে এ কথা বিজ্ঞপ্তি দিয়ে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। এতদিন ওই শাখায় মাত্র দু’জোড়া ট্রেনই ভরসা ছিল। এই শাখায় মোট তিন জোড়া ট্রেন হওয়ায় খুশির হাওয়া যাত্রী মহলে।
কাটোয়া স্টেশনের ম্যানেজার সুপ্রভাত ভট্টাচার্য বলেন, নতুন এক জোড়া মেমু ট্রেন কাটোয়া-আহমদপুর শাখায় চালু করা হচ্ছে। এতে যাত্রীদের সুবিধা হবে।
পূর্ব রেল সূত্রে জানা গিয়েছে, ১৯১৬ সালে ‘ম্যাকলিওড রাসেল কোম্পানি’ কাটোয়া থেকে আহমদপুর পর্যন্ত মোট ৫১ কিমি ন্যারোগেজ রেললাইন বসায়। এক বছর পর ওই লাইন দিয়ে ট্রেন যাতায়াত শুরু হয়। ২০১৩ সালে ৩৫৭ কোটি টাকা ব্যয়ে ন্যারোগেজ থেকে ব্রডগেজে রূপান্তরিত হয়। ২০১৮ সালের মে মাস থেকে ট্রেন চলাচল শুরু হয়। এতদিন ওই শাখায় দু’জোড়া ট্রেন যাতায়াত করত। কাটোয়া থেকে সকাল ৮টা ২০ মিনিটে একটি ট্রেন ছাড়ে। অন্যদিকে আহমদপুর থেকে সকাল ৯টা ৫৫ মিনিটে একটি ট্রেন ছাড়ে। তারপর সকাল ১০টা ৩২ মিনিটে একটি মেমু ট্রেন ছাড়ে, আর আহমদপুর থেকে সকাল ১১টা ৫৫ মিনিটে কাটোয়ার উদ্দ্যেশ্যে একটি ট্রেন ছাড়ে। সারাদিনে ওই শাখায় আর কোনও ট্রেন যাতায়াত না করায় যাত্রীরা দুর্ভোগে পড়তেন। এবার নতুন ট্রেনটি কাটোয়া থেকে সকাল ৬টা ৩৫ মিনিটে ছাড়বে। আর আহমদপুর থেকে সকাল ৮টা ৪৫ মিনিটে ছাড়বে।
প্রসঙ্গত, কয়েকদিন আগে পূর্ব রেলের জেনারেল ম্যানেজার কাটোয়া স্টেশনে অমৃত ভারত প্রকল্প খতিয়ে দেখতে এসেছিলেন। তখন যাত্রী সংগঠনের পক্ষ থেকে ওই শাখায় ট্রেন বাড়ানোর জন্য লিখিতভাবে আবেদন জানিয়েছিলেন।অন্যদিকে, কাটোয়া-বর্ধমান শাখাতেও ট্রেন বাড়ানোর দাবি যাত্রীদের। সারাদিনে এই শাখায় ছ’জোড়া ট্রেন চলাচল করে। যাত্রীদের পক্ষে তা যথেষ্ট নয়। এতে যাত্রীদের ভোগান্তি বাড়ছে। কাটোয়া থেকে বর্ধমান প্রতিদিন কয়েক হাজার মানুষ যাতায়াত করেন। অনেকে অফিসে যান। কাটোয়া থেকে সকাল ৮টা ৫০ মিনিটের পর আবার বিকাল ৪টে ১০ মিনিট নাগাদ ট্রেন ছাড়ে। আর বর্ধমান থেকে সকাল ৯টা ৩৫ মিনিটের পর আবার দুপুর ২টো আর সন্ধ্যে ৬টা ৩০ মিনিটে ট্রেন ছাড়ে। মাঝের সময়ে যাত্রীদের ব্যাপক চাপ থাকে। তাতে হয়রানি আরও বাড়ে। তাই যাত্রীদের দাবি, অফিস সময়ে ট্রেন আরও বাড়ানো দরকার।