নিজস্ব প্রতিনিধি, জলপাইগুড়ি: মুঠোভর্তি ওষুধ কিংবা পেইন কিলার নয়, নিজের রক্তেই সারবে হাঁটুর তীব্র যন্ত্রণা। এজন্য জলপাইগুড়ি মেডিকেলে এল অত্যাধুনিক সেন্ট্রিফিউজ মেশিন। ওই মেশিনের সাহায্যে রোগীর শরীরের রক্ত থেকে পৃথক করা হবে প্লাজমা। তারপর তা ইঞ্জেকশনের সাহায্যে প্রয়োগ করা হবে অস্টিও আর্থাইটিসে আক্রান্ত সংশ্লিষ্ট রোগীর হাঁটুতে। ডাক্তারি পরিভাষায় এটি আসলে প্লেটলেট রিচ প্লাজমা থেরাপি বা পিআরপি। জলপাইগুড়ি মেডিকেলের অ্যানাস্থেশিয়া বিভাগের প্রধান তথা হাসপাতালের পেইন ম্যানেজমেন্ট ক্লিনিকের দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসক শংকর রায় বলেন, আমরা সেন্ট্রিফিউজ মেশিন পেয়েছি। শীঘ্রই পিআরপি চালু করতে পারব বলে আশাবাদী।
হাঁটুর ব্যথা কমাতে ঠিক কীভাবে কাজ করে পিআরপি থেরাপি। চিকিৎসকরা বলছেন, বয়স বাড়লে বিশেষ করে মহিলাদের ক্ষেত্রে হাঁটুর কার্টিলেজে সাইনোভিয়াল ফ্লুইড তৈরি হওয়া বন্ধ হয়ে যায়। এতে কার্টিলেজের ডি-জেনারেশন অর্থাৎ তরুণাস্থির ক্ষয় দেখা দিতে থাকে। ফলে জয়েন্ট বা অস্থিসন্ধির ক্ষতি হয়। হাঁটুতে প্রদাহ দেখা দেয়। ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে যন্ত্রণা। একসময় হাঁটুর ব্যথায় কাতর হয়ে পড়েন রোগী। সিঁড়ি ভাঙতে পারেন না। হাঁটাচলা করতেও সমস্যা হয়। রক্তের প্লাজমার মধ্যে গ্রোথ ফ্যাক্টর থাকে। যার কারণে ইঞ্জেকশনের সাহায্যে রোগীর হাঁটুতে প্লেটলেট রিচ প্লাজমা থেরাপি দেওয়া হলে তা কার্টিলেজ রি-জেনারেট করার কাজে সাহায্য করে। এতে রোগীর যন্ত্রণার অনেকটাই উপশম হয়।
ডাঃ শংকর রায়ের দাবি, পিআরপি চিকিৎসায় তেমন কোনও পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নেই। ভয়েরও কিছু নেই। এজন্য রোগীকে হাসপাতালে ভর্তি থাকতে হয় না। ডে কেয়ার পরিষেবা। রোগীর দু’টি হাঁটুতেই যদি পিআরপি থেরাপি দিতে হয়, সেক্ষেত্রে ১২-১৪ মিলিলিটার প্লাজমা লাগে। এজন্য ৫০-১০০ মিলিলিটার রক্তের প্রয়োজন হয়। রক্ত সংগ্রহ করার পর সেন্ট্রিফিউজ মেশিনে তৈরি করা হয় প্লাজমা। গোটা প্রক্রিয়ার জন্য ঘণ্টা দু’য়েক সময় লাগতে পারে। এরপর রোগীর হাঁটু সাময়িক অবশ করে ইঞ্জেকশনের মাধ্যমে ওই প্লাজমা পুশ করা হয়ে থাকে। তিনি আরও বলেন, কোনও রোগীকে প্রয়োজনে ছ’মাস অন্তর পিআরপি দেওয়া যেতে পারে।
জলপাইগুড়ি মেডিকেলের সুপার ডাঃ কল্যাণ খাঁ বলেন, মার্চে আমরা পেইন ম্যানেজমেন্ট ক্লিনিক চালু করেছি। প্রচুর রোগী ওই ক্লিনিকে আসছেন। এবার অস্টিও আর্থাইটিসে আক্রান্ত রোগীদের যন্ত্রণার উপশম ঘটাতে ওই ক্লিনিকে পিআরপি অর্থাৎ প্লেটলেট রিচ প্লাজমা থেরাপি চালু হচ্ছে।
জলপাইগুড়ি মেডিকেলের অধীন সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে সপ্তাহের প্রতি মঙ্গলবার পেইন ম্যানেজমেন্ট ক্লিনিক চলছে। আউটডোরে রোগী দেখার পর যদি কারও ক্ষেত্রে প্রসিডিওর করার অর্থাৎ যন্ত্রণা সৃষ্টিকারী নার্ভ ব্লক বা পুড়িয়ে দেওয়ার প্রয়োজন হয়, তা করা হচ্ছে প্রতি বৃহস্পতিবার। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, আপাতত অস্টিও আর্থাইটিসে আক্রান্ত রোগীদের ক্ষেত্রেই পিআরপি থেরাপি দেওয়া হবে। যাঁরা কোমরের যন্ত্রণায় কাতর, তাঁদের ক্ষেত্রে রয়েছে অন্য চিকিৎসা পদ্ধতি।