নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: দিল্লি হাইকোর্টের বিচারপতি যশোবন্ত ভার্মার বাসভবন থেকে বস্তা বস্তা টাকা উদ্ধার সংক্রান্ত বিতর্ক আবার সামনে নিয়ে এসেছে বিচারপতিদের নিয়োগ পদ্ধতির স্বচ্ছতা নিয়ে দীর্ঘদিনের জল্পনা, চর্চা ও প্রশ্নকে। জল্পনা চলছে সরকার কি আবার বিচারপতি নিয়োগ পদ্ধতি সংক্রান্ত আইন নতুন করে আনার কথা ভাবছে? বিরোধী দলগুলির সঙ্গে আলোচনাও শুরু হয়েছে। রাজ্যসভার চেয়ারম্যান জগদীপ ধনকার মঙ্গলবারই সর্বদলীয় বৈঠক করেছেন। সেখানে প্রায় সব প্রতিনিধিই দলের অভ্যন্তরে আলোচনা করে অবস্থান জানানোর কথা বলেছেন। রাজ্যসভার চেয়ারম্যান নিজেই উত্থাপন করেছেন নাশনাল অ্যাপয়েন্টমেন্ট কমিশন আইনের প্রসঙ্গ। মঙ্গলবারের ওই সর্বদলীয় বৈঠকের পর বুধবার হঠাৎ সরকারপক্ষের সক্রিয়তা ও তৎপরতা দেখা যায়। রাজ্যসভার নেতা তথা বিজেপি সভাপতি জগৎ প্রকাশ নাড্ডা এদিন বিরোধীদের সঙ্গে আলাদাভাবে আলোচনার আগ্রহ প্রকাশ করেন। সেইমতোই রাজ্যসভায় কংগ্রেসের চিফ হুইপ জয়রাম রমেশের সঙ্গে তাঁর বৈঠক হয়েছে। যদিও বৈঠকে কী কথা হল, তা জানা যায়নি। আর তাতে জল্পনা আরও ঘনীভূত হয়েছে। নাড্ডা তৃণমূল কংগ্রেসের সঙ্গেও কথা বলতে চাইছিলেন। ডেরেক ও’ব্রায়ান বলেছেন, আমরা সংসদ চলাকালীন পৃথক আলোচনার পক্ষপাতী নয়। যা হবে প্রকাশ্যে হোক, সংসদে হোক। আলোচনা তো আমরাও চাইছি।
সবমিলিয়ে সরকারপক্ষের তৎপরতা থেকে মনে করা হচ্ছে, আবার বিচারপতি নিয়োগ সংক্রান্ত আইনের পরিকল্পনা আছে। প্রসঙ্গত, ২০১৪ সালেই সুপ্রিম কোর্ট এবং হাইকোর্টগুলিতে বিচারপতি নিয়োগে এতদিনের কলেজিয়াম ব্যবস্থা বদলে একটি কমিশন গঠনের সিদ্ধান্ত হয়েছিল। সংবিধান সংশোধন করে ওই আইন সংসদে পাশ করানো হয়। সরকারের বক্তব্য ছিল, বিচারপতিদের নিয়োগ থেকে বদলি সব বিচারপতিরাই করবেন, এই ব্যবস্থা গণতান্ত্রিক নয়। কিন্তু সুপ্রিম কোর্টে মামলা রুজু হওয়ার পর এই আইনকে অসাংবিধানিক আখ্যা দিয়ে রদ করা হয়। ফলে সেই উদ্যোগ তারপর ঠান্ডা ঘরে চলে গিয়েছে। জাস্টিস ভার্মার বাসভবন থেকে যেভাবে টাকার বান্ডিল পাওয়া গিয়েছে, তারপর আবার তাই বিচারবিভাগের দায়বদ্ধতা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। আর সেই কারণেই সংসদে ফের এই ইস্যু জোরদারভাবে স্থান করে নিয়েছে। সংসদে আলোচনার সম্ভাবনাও রয়েছে। এরইমধ্যে সরকার সব পক্ষের সঙ্গে আলোচনার কথা বলছে। এর থেকেই বোঝা যাচ্ছে, সরকারের কোনও পরিকল্পনা রয়েছে।
কিন্তু একক নয়। সরকার চাইছে সর্বদলীয় সিদ্ধান্ত হোক। আবার নতুন রূপে ওই আইন আনার চেষ্টা হলে আইনসভা বনাম বিচারবিভাগের মধ্যে পুনরায় সংঘাতের পরিবেশ তৈরি হতে পারে বলেও আশঙ্কা করা হচ্ছে। তাই সব পক্ষই যে সতর্ক সেটাও স্পষ্ট। কিন্তু আগ্রহ চরমে উঠেছে যে, আবার কি সরকার চেষ্টা করবে এই বিচারবিভাগীয় সংস্কার আনার?