বিখ্যাত কেক প্রস্তুতকারী সংস্থা। গ্রাম থেকে শহর—বিভিন্ন জায়গায় ফ্রাঞ্চাইজির দোকান দেখতে পাওয়া যায়। এবার সেই কেক প্রস্তুতকারী সংস্থার দোকান খোলা নিয়ে প্রতারণা চক্রের হদিশ মিলেছে। দফায় দফায় লক্ষাধিক টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে প্রতারকরা। সেই ঘটনার তদন্ত করতে গিয়েই নতুন ‘জামতাড়া’ গ্যাংয়ের হদিশ পেয়েছেন গোয়েন্দারা। বিহার রাজ্যের শেখপুরা জেলার পঞ্ছী এলাকা থেকেই গোটা চক্রটি নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে। রাজ্যের পাশাপাশি নদীয়া জেলাতেও এই চক্র নিজেদের জাল বিস্তার করেছে। ইতিমধ্যেই কৃষ্ণনগর পুলিস জেলায় এই নিয়ে আর্থিক প্রতারণার একাধিক মামলাও হয়েছে। বিভিন্ন থানার আধিকারিকদের নিয়ে কমিটি গঠন করে সেই ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে রাজ্য পুলিস। বিভিন্ন এলাকা থেকে ধরা পড়া প্রতারকদের নিজেদের হেফাজতে নিয়ে রাজ্যের থানাগুলো জিজ্ঞাসাবাদ করেছে। দেখা যাচ্ছে, ধৃতদের অধিকাংশই বিহারের শেখপুরা জেলার পঞ্ছী এলাকার বাসিন্দা। কেউ কলার, কেউ ডেটা কালেকশন, কেউ আবার আর্থিক লেনদেনের জন্য ব্যাঙ্কিং সেক্টর দেখাশোনা করে। রীতিমতো কর্পোরেট সিস্টেমের ধাঁচে এই প্রতারণা চক্রে কাজ করছে।
কৃষ্ণনগর পুলিস জেলার এক আধিকারিক বলেন, গোটা রাজ্যেই এই অপরাধের তদন্ত চলছে। কৃষ্ণনগর পুলিস জেলার পাশাপাশি অন্যান্য জায়গাতেই এই অপরাধ নিয়ে মামলা হয়েছে। বিভিন্ন থানার সঙ্গে আমরা সমন্বয় বজায় রাখছি। ইতিমধ্যেই বেশ কয়েকজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নেওয়া হয়েছিল। পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, কেক প্রস্তুতকারী সংস্থার ফ্রাঞ্চাইজি দেওয়ার প্রতারণায় কৃষ্ণনগর পুলিস জেলার সাইবার থানা এবং কোতোয়ালি থানায় কেস হয়েছে। সাইবার থানায় ৮ লক্ষ ১৫ হাজার টাকা এবং কোতোয়ালি থানায় ১৯ লক্ষ ৩০ হাজার টাকার প্রতারণা অভিযোগ দায়ের হয়েছে। সাইবার থানায় কয়েক সপ্তাহ আগে পঞ্ছী এলাকার বি টেক বিজয় মিস্ত্রী নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করে। ব্যবসায়ীদের থেকে টাকা হাতানোর জন্য বিজয় মিস্ত্রীর মোবাইল ফোনের নম্বর ব্যবহার করা হয়েছিল বলে পুলিস জানতে পেরেছে। সম্প্রতি ওই এলাকার আরও দু’জনকে সাইবার থানার পুলিস নিজেদের হেফাজতে নিয়েছে।
গোয়েন্দা সূত্রে জানা গিয়েছে, একটি ভুয়ো ওয়েবসাইট তৈরি করে আবেদন জমা নেয় প্রতারকরা। ফ্রাঞ্চাইজি নিতে ইচ্ছুক ব্যক্তি সেই ওয়েবসাইটে আবেদন করলেই যোগাযোগ করা হয় তাঁর সঙ্গে। প্রাথমিকভাবে সেই ওয়েবসাইট আসল মনে হলেও বাস্তবে তা প্রতারকদের দ্বারা নিয়ন্ত্রিত।