সুপ্রিয় নায়েক, ৮ সেপ্টেম্বর: আজ বিশ্ব ফিজিওথেরাপি দিবস। চলতি বছরে হৃদরোগ ও স্ট্রোকের ক্ষেত্রে ফিজিওথেরাপি, শারীরিক সক্রিয়তা এবং পুনর্বাসনকে বিশেষভাবে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। চলতি বছরের লক্ষ্য শুধু রোগ সম্পর্কে সচেতনতা তৈরি নয়, বরং মানুষকে বোঝানো—চিকিৎসার পাশাপাশি সুস্থ ও সক্রিয় জীবনে ফিরে আসাটাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। এই কারণেই পশ্চিমবঙ্গ জুড়ে সেপ্টেম্বরের বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে ইন্ডিয়ান অ্যাসোসিয়েশন অব ফিজিওথেরাপিস্টস (আইএপি)-এর পক্ষ থেকে। প্রতিটি জেলায় আইএপি-এর বিভিন্ন জেলা শাখায় সংশ্লিষ্ট ফিজিওথেরাপিস্টদের উদ্যোগে সেপ্টেম্বর মাসজুড়ে আলোচনা সভা, স্বাস্থ্য সচেতনতা শিবির, রোগী ও পরিবারের সদস্যদের নিয়ে বিশেষ অনুষ্ঠান, শারীরিক সক্রিয়তা সম্পর্কে প্রচার—এমন বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে ফিজিওথেরাপি ও পুনর্বাসনের প্রয়োজনীয়তার কথা।
বিশেষ করে স্ট্রোকের পর রোগীর হাত-পায়ের দুর্বলতা, ভারসাম্যের সমস্যা, হাঁটার অসুবিধা, পেশির নিয়ন্ত্রণ কমে যাওয়া কিংবা দৈনন্দিন কাজ করার সক্ষমতা হারিয়ে যাওয়ার কারণে একজন রোগীকে দীর্ঘ সময় পুনর্বাসনের প্রয়োজন হতে পারে। এখানে ফিজিওথেরাপির লক্ষ্য শুধু শরীরের নড়াচড়া বাড়ানো নয়। লক্ষ্য হল মানুষটিকে যতটা সম্ভব স্বাধীন করে তোলা।
নিজের বিছানা থেকে ওঠা, দাঁড়ানো, হাঁটা, সিঁড়ি ব্যবহার করা, নিজের পোশাক পরা—একসময় যেগুলি ছিল স্বাভাবিক কাজ, স্ট্রোকের পরে সেগুলিই হয়ে উঠতে পারে বড় চ্যালেঞ্জ। পরিকল্পিত পুনর্বাসন সেই ছোট ছোট সক্ষমতাগুলিকে ধীরে ধীরে ফিরিয়ে আনার পথ তৈরি করে।
আবার হৃদরোগের চিকিৎসার পর অনেকেই শারীরিক কার্যকলাপ নিয়ে ভয় বা অনিশ্চয়তায় ভোগেন। কিন্তু চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী পরিকল্পিত কার্ডিয়াক রিহ্যাবিলিটেশন রোগীকে নিরাপদভাবে সক্রিয় জীবনে ফিরতে সাহায্য করতে পারে। শারীরিক সক্ষমতা বৃদ্ধি, সহনশক্তি উন্নত করা এবং দৈনন্দিন কাজের প্রতি আত্মবিশ্বাস ফিরিয়ে আনার ক্ষেত্রে পুনর্বাসনের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ।
অর্থাৎ আধুনিক চিকিৎসাব্যবস্থায় লক্ষ্য শুধু রোগীকে বাঁচানো নয়— রোগীকে বাঁচার মতো জীবন ফিরিয়ে দেওয়া।
এবারের বিশ্ব ফিজিওথেরাপি দিবসের কর্মসূচিতে যুক্ত হয়েছে একটি বিশেষ উদ্যোগ—‘মশাল রান’।
আইএপি-এর রাজ্য শাখার পক্ষ থেকে সহ সভাপতি কৌশিক মল্লিক বলেন, ভারতের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ফিজিওথেরাপিস্টরা হাতে তুলে নেবেন প্রতীকী মশাল। দেশের এক অঞ্চল থেকে অন্য অঞ্চলে সেই মশাল এগিয়ে যাবে দিল্লির দিকে।
শেষ গন্তব্য নয়াদিল্লির যশোভূমি কনভেনশন সেন্টার। ২৬ ও ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ সেখানে অনুষ্ঠিত হবে আন্তর্জাতিক সম্মেলন। বিশ্বের প্রায় ৭০টি দেশের ফিজিওথেরাপিস্ট, বিশেষজ্ঞ, শিক্ষাবিদ ও গবেষকদের অংশগ্রহণে এই সম্মেলন হয়ে উঠবে জ্ঞান, অভিজ্ঞতা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার একটি গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক মঞ্চ।