সংবাদদাতা, উলুবেড়িয়া: ‘ভো কাট্টা’। বিশ্বকর্মা পুজোর আগে সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত শহর ও গ্রামাঞ্চলে এই চিৎকার শোনা যেত নতুন প্রজন্মের গলায়। ঘুড়ি কেটে গেলে তা ধরতে পাড়ার এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে ছুটে বেড়াত শিশু ও কিশোরের দল। সেই ছবি এখন অতীত। মোবাইলে গেমের নেশায় ঘুড়ি ওড়ানোর প্রতি আকর্ষণ হারিয়েছে শৈশব। বিশ্বকর্মা পুজোর আগে আর সেভাবে আকাশে দেখা যাচ্ছে না রং-বেরঙের ঘুড়ি। যাঁরা ঘুড়ি বিক্রি করেন, তাঁদের ব্যবসায় মন্দা নেমে এসেছে। ফলে আগামী দিনে ঘুড়ি বিক্রি করে কতটা উপার্জন হবে, তা নিয়ে সংশয়ে ঘুড়ি বিক্রেতারা।
পেটকাটি, চাঁদিয়াল, মোমবাতি, ময়ূরপঙ্খী, হাফ চাপরাশ— বিশ্বকর্মা পুজোর আগে থেকেই এইসব ঘুড়ি কিনতে সকাল থেকে কচিকাঁচাদের ভিড় লেগে থাকত দোকানে। তারা ঘুড়ি, লাটাই, সুতো কিনে বাড়ি ফিরত। পরে পাড়ার বন্ধুদের নিয়ে চলত সুতোয় মাঞ্জা দেওয়ার কাজ। শেষমেশ অপেক্ষা বিশ্বকর্মা পুজোর। তার দু’-একদিন আগে থেকেই শুরু হয়ে যেত ঘুড়ির লড়াই। সকাল থেকে বিকেল— আকাশজুড়ে থাকত বিভিন্ন সাইজের রং-বেরঙের ঘুড়ি। কখনও কখনও শিশু, কিশোরদের ‘ভো কাট্টা’ চিৎকার জানান দিত বিশ্বকর্মা পুজো আসছে। অতীতের সেই ছবি এখন অনেকটাই ফিকে হয়ে গিয়েছে। ঘুড়ি বিক্রেতাদের মতে, আগে বিশ্বকর্মা পুজোর বেশ কয়েকদিন আগে থেকেই দোকানে কচিকাঁচাদের ভিড় লেগে থাকত। গত কয়েক বছর ধরে সেভাবে আর ঘুড়ি বিক্রি হয় না। নতুন প্রজন্ম ঘুড়ি ওড়ানোর পরিবর্তে মোবাইলে গেম খেলায় বেশি আগ্রহী।
উলুবেড়িয়ার ঘুড়ি ব্যবসায়ী কামারুল ইসলাম বলেন, আগে এই সময় প্রতিদিন গড়ে এক হাজার ঘুড়ি বিক্রি হতো। এখন সেই সংখ্যা কমে দাঁড়িয়েছে ১০০ থেকে ২০০। মোবাইলে গেম খেলার প্রতি যেমন নতুন প্রজন্মের আগ্রহ বেড়েছে, তেমনই আবহাওয়ার খামখেয়ালিপনার কারণে অনেকে ঘুড়ি ওড়াতে চাইছে না। যেভাবে ঘুড়ি বিক্রি কমছে, তাতে আগামী দিনে আমাদের অন্য ব্যবসার কথা চিন্তা করতে হবে।