নিজস্ব প্রতিনিধি, চুঁচুড়া: ‘হিবিসকাস রোজা চাইনেনসিস এল. সিভি. মমতা দিদি’। এটি একটি জবাফুলের নাম। হাইব্রিড এই জবা উৎপন্ন হয়েছে সিঙ্গুরের মাটিতে। নামকরণ, বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নামে।
নিজস্ব প্রতিনিধি, চুঁচুড়া: ‘হিবিসকাস রোজা চাইনেনসিস এল. সিভি. মমতা দিদি’। এটি একটি জবাফুলের নাম। হাইব্রিড এই জবা উৎপন্ন হয়েছে সিঙ্গুরের মাটিতে। নামকরণ, বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নামে।
মুখ্যমন্ত্রী বহু কিছুর নামকরণ করেছেন। সেগুলি ব্যাপক জনপ্রিয়। এবার মমতার লড়াকু জীবন ও সফল প্রশাসনিক ভূমিকাকে সম্মান জানালেন এক যুবক। হুগলির সিঙ্গুরের মধুবাটির বাসিন্দা দীপ চক্রবর্তী নয়া প্রজাতির জবা ফুলটির নামকরণ করেছেন জননেত্রীর নামেই। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জীবনের অন্যতম অধ্যায় রচিত হয়েছিল সিঙ্গুরের পটভূমিতে। এবার একটি ফুলের হাত ধরে সিঙ্গুরের সঙ্গে নতুন করে জুড়লেন জননেত্রী। বর্ণময় ফুলটি বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে দিতে চান দীপ।
বিশ্বে জবা সহ নানা ফুলকে হাইব্রিড করা এখন চালু একটি বিষয়। জবাফুল বেশিমাত্রায় হাইব্রিড পদ্ধতিতে তৈরি হয়। এর ফলে বিশ্বব্যাপী তৈরি হয়েছে হিবিসকাস সোসাইটি বা জবা সমাজ। দীপবাবু সেই সোসাইটির সক্রিয় সদস্য। ইতিমধ্যেই তিনি প্রায় ৫০টি নয়া ভ্যারাইটির জবা তৈরি করে ফেলেছেন। গোটা বিশ্বে তা প্রচারও পেয়েছে। এই ব্যক্তির বাগানেই হাইব্রিড পদ্ধতিতে তৈরি হয়েছে, ‘হিবিসকাস রোজা চাইনেনসিস এল. সিভি. মমতা দিদি’ ।
এ ফুলের শরীর মাখন সাদা। তার মধ্যে ছিটিয়ে আছে গোলাপী বর্ণচ্ছটা। পরাগদণ্ডের কেন্দ্রীয় অঞ্চল রক্তলাল। পাপড়ির প্রসারিত অংশের কোণার দিকে গোলাপী ও হলুদের ছটা। দীপবাবুর দাবি, ‘মুখ্যমন্ত্রী মমতার ভাবমূর্তি ও তাঁর সাফল্যের ছটা এবং মেজাজের বর্ণময়তার সঙ্গে সঠিকভাবেই খাপ খেয়ে যায় ওই ফুলের রংবাহার। তিনি যেমন কঠোর তেমনই নমনীয়। প্রতিবাদী এবং প্রশাসক। বন্ধুবৎসল এবং মমতাময়ী। তিনি শিল্পী এবং শিল্পপ্রেমী। সুকোমল বৃত্তির সঙ্গে চরিত্রের কাঠিন্যই তাঁর সম্পদ। আমার তৈরি জবার রং সেই বর্ণময়তার সঙ্গে সাযুজ্য রাখে।’ তিনি জানান, বিশ্বে যাঁরা জবা নিয়ে কাজ করেন তাঁরা সকলেই নতুন ও জবাকে ‘দিদি’ নামে চিনবেন। যতদিন জবাফুল নিয়ে পরীক্ষানিরীক্ষা চলবে, চর্চা হবে ‘মমতা দিদি’ নিয়ে।
‘হিবিসকাস রোজা চাইনেনসিস এল. সিভি. মমতা দিদি’ ফুলটির তৈরি রহস্য বেশ জটিল। ‘নিওন লাইট’ ও ‘মোরিয়া মেমরি অব জুলাই’ নামে দু’টি জবাফুল থেকে তৈরি মমতা দিদি। নিওন বেঙ্গালুরুতে তৈরি হয়েছে। মোরিয়ার সৃষ্টি ফ্রান্সে। এই দু’টি দেশি-বিদেশি জবার পরাগমিলন ঘটিয়ে তৈরি ‘মমতা দিদি’। এই বর্ণময় ‘মমতা দিদি’ এখন সিঙ্গুর থেকে পাড়ি দিয়ে অন্যত্র যেতে তৈরি। গোটা বিশ্বে পাপড়ি মেলার অপেক্ষায় রং ছড়াচ্ছে।-নিজস্ব চিত্র