নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: কুম্ভ মেলায় যাওয়ার জন্য দিল্লি স্টেশনে ট্রেনে ওঠার হুড়োহুড়িতে পদপিষ্ট হয়ে মৃত্যুর ঘটনা থেকে শিক্ষা নিল রেল। পরবর্তী সময়ে এই ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে এক গুচ্ছ নির্দেশ জারি করেছে তারা। এর মধ্যে অন্যতম হল আপদকালীন পরিস্থিতিতে দ্রুত যাত্রী নিষ্ক্রমণের বিকল্প পথ প্রস্তুত রাখা। সেই সূত্রে শিয়ালদহ রেল স্টেশনে যাত্রীদের ঢোকা-বেরনোর জন্য চালু হচ্ছে নয়া পথ। রেলের পরিসংখ্যান বলছে, দৈনিক ১৫ থেকে ১৮ লক্ষ যাত্রী শিয়ালদহ স্টেশন দিয়ে যাতায়াত করে। লোকাল ও দূরপাল্লা মিলিয়ে প্রতিদিন এই বিপুল সংখ্যক যাত্রী শিয়ালদহ স্টেশনের পরিষেবা নেন। যাত্রী সংখ্যার নিরিখে দেশের অন্যতম ব্যস্ত এই স্টেশনে ঢোকা-বেরনোর একটি বিকল্প পথ অত্যন্ত জরুরি ছিল বলেই মনে করছে রেলকর্তারা। তাই স্টেশনের ২১ নম্বর প্ল্যাটফর্মের কাছে শিয়ালদহ পার্সেলের সন্নিকটে তৈরি হয়েছে নতুন পথ। বিকল্প এই রাস্তা দিয়ে শিয়ালদহ সাউথ কিংবা মেইন শাখার ট্রেন ধরতে অতি দ্রুত পৌঁছে যেতে পারবেন যাত্রীরা। সেই সঙ্গে কোনও আপদকালীন পরিস্থিতিতে স্টেশন থেকে বেরনোর আরও একটি রাস্তা খোলা থাকবে।
নতুন এই পথ খুলে গেলে বেলেঘাটা, শ্যামবাজার, সল্টলেক সহ শহরের বিভিন্ন এলাকা থেকে শিয়ালদহ স্টেশনে আসা-যাওয়া অনেকটাই সহজ হয়ে যাবে বলে আশাবাদী রেলকর্তারা। এখন এসব এলাকার মানুষজন সাধারণত এপিসি রোড হয়ে এনআরএস হাসপাতালের পাশ দিয়ে দীর্ঘ পথ হেঁটে শিয়ালদহ স্টেশনে পৌঁছন। নয়া পথ তাই বিশাল সংখ্যক যাত্রীর জন্য বাড়তি স্বাচ্ছন্দ্য এনে দেবে বলেই মনে করা হচ্ছে। রেল সূত্রে জানা গিয়েছে, নতুন এই রাস্তাটির বেশ কিছু অবস্থানগত সুবিধা রয়েছে। ফলে যে কোনও পরিস্থিতিতে স্টেশন থেকে হাজার হাজার যাত্রীকে নিরাপদে বার করে নিয়ে যাওয়া অনেক সহজ হবে। যাত্রীরা এখন সরাসরি ওয়েস্ট ক্যানাল রোড হয়ে স্টেশনে ঢুকে পড়তে পারবেন। শিয়ালদহের ডিভিশনাল রেলওয়ে ম্যানেজার (ডিআরএম) দীপক নিগম বলেন, ‘স্টেশনের সার্বিক মানোন্নয়নে নবনির্মিত পথটি উল্লেখযোগ্য ভূমিকা নেবে। যাত্রী স্বাচ্ছন্দ্যই ভারতীয় রেলের অগ্রাধিকার। তাই ভিড় বাঁচিয়ে বা ব্যস্ত সময়ে হুড়োহুড়ি এড়িয়ে স্টেশনে ঢুকতে বা বেরতে প্রভুত সুবিধা পাবেন যাত্রীরা।’ শিয়ালদহ ডিভিশনের কর্তাদের আরও আশা, ট্রেন ধরার তাড়ায় বিভিন্ন সময় যে ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটে, এই নতুন পথ শিয়ালদহ স্টেশনের সঙ্গে জুড়ে যাওয়ায় তাও কমবে।