Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

শালবনীতে বিদ্যুৎ উৎপাদনকেন্দ্র তৈরির উদ্যোগ জিন্দালদের, কর্মসংস্থানের আশায় বাসিন্দারা

শালবনীতে বিদ্যুৎ উৎপাদনকেন্দ্র তৈরির উদ্যোগ জিন্দালদের, কর্মসংস্থানের আশায় বাসিন্দারা
  • ২৪ এপ্রিল, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, মেদিনীপুর: শিল্পায়নের স্বপ্ন দেখাতে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এসেছিলেন। তাঁর দেখানো পথে কর্মসংস্থানের নতুন আশায় বুক বাঁধছেন শালবনীর মানুষ। তাই কার্যত আন্দোলন ভুলে এলাকার বেকার যুবক-যুবতীদের লিস্ট তৈরির উদ্যোগ নিচ্ছেন জমিহারা কমিটির সদস্যরা। শালবনীতে পাওয়ার প্ল্যান্ট তৈরি হলে জিন্দাল কর্তৃপক্ষের হাতে সেই তালিকা তুলে দেওয়া হবে। স্থানীয় বাসিন্দাদের কথায়, শালবনীর বিভিন্ন গ্রামে বেকার যুবক-যুবতী রয়েছে। যাঁরা পলিটেকনিক, ইঞ্জিনিয়ারিং, আইটিআই সহ বিভিন্ন বিষয়ে পড়াশোনা করেও চাকরি পাননি। তবে পাওয়ার প্ল্যান্ট তৈরির খবর আসতেই তাঁরা কর্মসংস্থানের আশা করছেন। একইসঙ্গে শালবনীতে জিন্দাল গোষ্ঠীর উদ্যোগে একটি স্কিল ট্রেনিং সেন্টার তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। শুধু পাওয়ার প্ল্যান্টে নয়, জিন্দালদের উদ্যোগে ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্ক তৈরি হলে কর্মসংস্থানের পরিমাণ লাফিয়ে বাড়বে। জেলাশাসক খুরশিদ আলি কাদরি বলেন, শালবনীতে পাওয়ার প্লান্ট তৈরি হলে নিশ্চিতভাবে কর্মসংস্থান বাড়বে। এতে জেলার তথা রাজ্যের অর্থনীতি বদলে যাবে। জেলা প্রশাসন সব দিক থেকে সহযোগিতা করবে। শালবনী জমিদাতা কমিটির সম্পাদক পরিষ্কার মাহাত বলেন, যেকোনও এলাকায় কারখানা তৈরি হলে এলাকার অর্থনীতি বদলে যায়। জিন্দালরা একটিমাত্র সিমেন্ট কারখানা তৈরি করেছেন। সেখানে এলাকার বেশকিছু মানুষ কাজ পেয়েছেন। নতুন পাওয়ার প্লান্ট তৈরি হলে প্রচুর মানুষ কাজ পাবেন বলে আশাবাদী। তাই আমরা এলাকার বেকার যুবক-যুবতীদের তালিকা তৈরি করব। পাওয়ার প্লান্ট তৈরি হলে সেই তালিকা কোম্পানির হাতে তুলে দেওয়া হবে। এনিয়ে সংগঠনের অন্দরে বৈঠক হবে। প্রসঙ্গত, শালবনী এলাকার মানুষ শিল্পায়নের স্বপ্ন দেখা শুরু করেন বাম আমলে। 

Advertisement

কিন্তু সেই স্বপ্ন আর বাস্তবে রূপায়িত হয়নি। তবে বর্তমানে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সেই স্বপ্ন বাস্তবে রূপ দেওয়ার আপ্রাণ চেষ্টা করছেন। জানা গিয়েছে, ২০০৭ সাল জিন্দালদের হাত ধরে বৃহত্তম ইস্পাত কারখানা তৈরির পরিকল্পনা করা হয়েছিল। স্থানীয় যুবক-যুবতীদের কর্মসংস্থান হবে বলেও আশাবাদী ছিলেন একাধিক গ্রামের মানুষ। কুলফেনী, আসনাশুলি, গাইঘাট সহ প্রায় ৩০টি গ্রামের মানুষ জমিদান করেছিলেন। জানা গিয়েছে, জিন্দালরা সরকারি, রায়ত, পাট্টা জমি মিলিয়ে প্রায় ৪ হাজার ৩০০ একর জমি অধিগ্রহণ করে। কিন্তু ২০০৮ সালে তৎকালীন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের কনভয়ে মাওবাদীদের আক্রমণের জেরে বন্ধ হয় ইস্পাত কারখানা তৈরি। এরপর অধিগ্রহণ করা জমিতে কারখানা তৈরির দাবি জানাতে শুরু করে স্থানীয় বাসিন্দারা। ২০১৬ সাল নাগাদ জিন্দাল গোষ্ঠীর কর্তারা অধিগৃহীত জমির কিছু অংশে একটি সিমেন্ট কারখানা তৈরি করেন। স্থানীয় বাসিন্দাদের কর্মসংস্থানও হয়। তবে এতদিন প্রায় ৮০ শতাংশ জমি পড়েই ছিল। এবার সেই জমিতেই হবে পাওয়ার প্লান্ট। প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, ভবিষ্যতে চাহিদার কথা মাথায় রেখে শালবনীতে ৮০০ মেগা ওয়াট করে দুটি পাওয়ার প্লান্ট হচ্ছে। এই প্রকল্পের জন্য জিন্দালরা খরচ করছেন ১৬ হাজার কোটি টাকার বেশি। এছাড়াও তাঁরা অনেকগুলো ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্কও করবেন। এই প্রকল্পের মাধ্যমে কয়েক হাজার মানুষের কর্মসংস্থান হবে। গত সোমবার সেই প্রকল্পের শিলান্যাস করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। শালবনী এলাকার বাসিন্দা স্বপন দাস বলেন, পাওয়ার প্ল্যান্ট, ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্ক তৈরি হলে এলাকার ভোল বদলে যাবে। প্রতিটি গ্রামেই বেকার যুবক-যুবতীর সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। তাঁদের চাকরির দরকার।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ