Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

ভূকম্পের নয়া মানচিত্রে বাংলার বিপদ বাড়ল! আশঙ্কা বিশেষজ্ঞদের

দেশের মধ্যে ভূমিকম্প প্রবণতার নিরিখে নতুন মানচিত্র তৈরি করেছে ব্যুরো অব ইন্ডিয়ান স্ট্যান্ডার্ড (বিআইএস)।

ভূকম্পের নয়া মানচিত্রে বাংলার বিপদ বাড়ল! আশঙ্কা বিশেষজ্ঞদের
  • ১ ডিসেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: দেশের মধ্যে ভূমিকম্প প্রবণতার নিরিখে নতুন মানচিত্র তৈরি করেছে ব্যুরো অব ইন্ডিয়ান স্ট্যান্ডার্ড (বিআইএস)। নতুন যে মানচিত্র তৈরি হয়েছে তাতে পশ্চিমবঙ্গে ভূমিকম্প হওয়ার আশঙ্কা আরও বেড়ে  যাওয়ার দিকে ইঙ্গিত করছে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন। ২০০০ সালে বিআইএস যে ‘সিসমিক জোনেশন ম্যাপ’ তৈরি করেছিল তাতে কলকাতাসহ দক্ষিণবঙ্গের বেশিরভাগ অংশ ৩ নম্বর জোনে পড়েছিল। এবার  পশ্চিমবঙ্গের কোনও জায়গা ৩ নম্বর জোনে নেই। যে নতুন সংশোধিত সিসমিক ম্যাপ তৈরি করা হয়েছে তাতে কলকাতাসহ দক্ষিণবঙ্গকে ৪ নম্বর জোনে রাখা হয়েছে। উত্তরবঙ্গের একটা বড় অংশ রয়েছে ৫ নম্বরে। সবথেকে বিপজ্জনক ৬ নম্বর জোনের মধ্যেও রয়েছে দার্জিলিংয়ের পাহাড়ি এলাকা। খড়্গপুর আইআইটি জিয়োলজি বিভাগের প্রাক্তন অধ্যাপক বিশিষ্ট ভূমিকম্প বিশেষজ্ঞ শংকরকুমার নাথ (এখন বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য) মনে করেন, নতুন যে মানচিত্র তৈরি হয়েছে তাতে পশ্চিমবঙ্গে ভূমিকম্পের বিপদ বেড়ে গেল। আমাদের সতর্কতামূলক ব্যবস্থার দিকে আরও নজর দিতে হবে। বিশেষ করে বহুতল বাড়ি, সেতু, উড়ালপথ প্রভৃতি নির্মাণে ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা রাখতে হবে। 

Advertisement

ভূমিকম্প প্রবণতার নিরিখে এবার গোটা দেশকে ৬টি জোনে ভাগ করেছে বিআইএস। পূর্ব ও পশ্চিম হিমালয় লাগোয়া দেশের পুরো অংশকে ভূমিকম্পের দিক থেকে সর্বাধিক বিপজ্জনক ৬ নম্বর জোনের অর্ন্তভুক্ত করা হয়েছে। দার্জিলিং সিকিমসহ গোটা উত্তর-পূর্ব ভারত, জম্মু ও কাশ্মীর, হিমাচলপ্রদেশ ও উত্তরাখণ্ডের সঙ্গে দেশের পশ্চিম প্রান্তে গুজরাতের একটা অংশ (ভুজ) ৬ নম্বর জোনে স্থান পেয়েছে। জিএসআইয়ের অবসরপ্রাপ্ত ডিরেক্টর শিখেন্দ্র দে মনে করেন, এবার ভূমিকম্প জোনের ম্যাপ অনেক বিজ্ঞানসম্মতভাবে তৈরি করা হয়েছে। এর আগের যে ম্যাপটি ছিল তা মূলত অতীতে হওয়া ভূমিকম্পগুলির ইতিহাস ও মাটির চরিত্রের উপর ভিত্তি করে করা হয়েছিল। এবার ভূমিকম্প হওয়ার মতো পরিস্থিতি কোথাও কতটা আছে তার বিজ্ঞানসম্মত পর্যালোচনাও করে নতুন ম্যাপ তৈরি করা হয়েছে। দুটি জোনের সীমান্ত এলাকায় অবস্থিত শহর এলাকাগুলিকে নতুন জোনে অধিকতর বিপজ্জনক জোনে নিয়ে আসা হয়েছে। ভূমিকম্পে শহর এলাকায় যেহেতু বিশেষ ক্ষয়ক্ষতি হয়, তাই এটা করা হয়েছে। নতুন ম্যাপে পশ্চিমবঙ্গে ভূমিকম্পের  বিপদের আশঙ্কা অনেকটাই থাকছে বলে তিনি জানিয়েছেন। 
২০০০ সালে বিআইএস যে ভূমিকম্পের ম্যাপ তৈরি করেছিল তাতে গোটা দেশকে চারটি জোনে (২, ৩, ৪ এবং ৫) ভাগ করা হয়েছিল। সবথেকে বিপজ্জনক ৫ নম্বর জোনে জলপাইগুড়ি ও কোচবিহার জেলার একটা অংশ ছিল। এর পরবর্তী বিপজ্জনক অংশ ৪ নম্বর জোনে ছিল—জলপাইগু‌঩ড়ি ও কোচবিহার জেলার বাকি অংশ এবং  দার্জিলিং, মালদহ, দুই দিনাজপুর ও  দুই ২৪ পরগনা জেলা। কলকাতাসহ দক্ষিণবঙ্গের বাকি অংশ ছিল ৩ নম্বর জোনে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রাজ্যজুড়ে ভূগর্ভে ভূমিকম্প সৃষ্টি হওয়ার অনুকূল পরিস্থিতি রয়েছে। তাছাড়া হিমালয় বা হিমালয় লাগোয়া অতিমাত্রায় ভূমিকম্পপ্রবণ এলাকায় কোনও বড় মাত্রার কম্পন সৃষ্টি হলে তার জোরালো প্রভাব রাজ্যে পড়ার আশঙ্কা আছে। ভূমিকম্পের উৎসস্থল (এপিসেন্টার) হওয়ার অনুকূল পরিস্থিতি থাকা বেশ কয়েকটি ফল্ট বা চ্যুতির অবস্থান  রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় ভূগর্ভে রয়েছে বলে বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন। এর মধ্যে অন্যতম হল গড়ময়না-খণ্ডঘোষ ফল্ট, পিংলা ফল্ট, রাজমহল ফল্ট, জঙ্গিপুর-গাইবান্ধা ফল্ট, মালদহ-কিষেনগঞ্জ ফল্ট প্রভৃতি। সুন্দরবন এলাকা থেকে কলকাতা হয়ে বাংলাদেশের ময়মনসিংহ পর্যন্ত যে ‘ইয়োসিন হিঞ্জ জোন’ রয়েছে সেটাও যেকোনও সময় শক্তিশালী ভূমিকম্পের এপিসেন্টার হতে পারে। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ