নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: কথায় বলে ‘যা রটে, তার কিছু তো বটে।’ মোহন বাগান ক্লাব রাজনীতিতেও তার অন্যথা হয়নি। গত কয়েকদিন ধরে ময়দানে কান পাতলেই শোনা যাচ্ছিল, গঙ্গাপাড়ের ক্লাবে নির্বাচন হচ্ছে না। বরং যুযুধান দুই শিবিরের মিলেমিশে যাওয়ার প্রবল সম্ভাবনা। নির্বাচনের আগে সোমবারই ছিল মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিন। সৃঞ্জয় বসু ও দেবাশিস দত্ত গোষ্ঠীর তরফে মিলিতভাবে ২২ জন সদস্যের নাম ইলেকশন বোর্ডের কাছে জমা দেওয়া হয়। স্ক্রুটিনির পর চূড়ান্ত ঘোষণা।
সব ঠিকঠাক চললে মোহন বাগান সচিব পদে সৃঞ্জয় বসুর প্রত্যাবর্তন স্রেফ সময়ের অপেক্ষা। ক্লাবের সংবিধান অনুযায়ী সভাপতির নির্বাচন হয় না। বরং নতুন কমিটির প্রথম বৈঠকে সভাপতি বেছে নেওয়া হয়। এক্ষেত্রে চেয়ারে বসতে চলেছেন দেবাশিস দত্ত। সহ-সচিব পদে মনোনয়ন পত্র জমা দিয়েছেন প্রাক্তন ফুটবলার সত্যজিৎ চ্যাটার্জি। পাশাপাশি ফুটবল সচিব পদে টিকে যাওয়ার সম্ভাবনা প্রবল স্বপন ব্যানার্জির। কোষাধ্যক্ষ পদে মনোনয়ন জমা দেন সন্দীপন ব্যানার্জি। যুব ফুটবলের দায়িত্ব পেতে পারেন শিলটন পাল। বদল আসছে কার্যকরী সমিতিতেও। পাশাপাশি সহ-সভাপতি হিসাবেও বেশ কয়েকটি নাম ভাসছে। এক্ষেত্রে প্রাক্তন ফুটবলার মানস ভট্টাচার্য, অরূপ রায়, শৌমিক বসু, কুণাল ঘোষ, উত্তম সাহাদের নাম নিয়ে জোর জল্পনা।
এদিন দুপুরের পরেই ভিড় জমতে থাকে ক্লাব তাঁবুতে। পৌনে পাঁচটা নাগাদ জয়ধ্বনির মধ্য দিয়ে প্রাক্তন বিচারপতি অসীম কুমার রায়ের কাছে মনোনয়ন পেশ করেন কর্তারা। গত কয়েক মাসের যুদ্ধ বিরতির অবসান। মালা, মিষ্টিমুখে দু’পক্ষেই যুদ্ধজয়ের আমেজ। পাশাপাশি চেয়ারে বসে সাংবাদিক বৈঠকও করলেন দেবাশিস ও সৃঞ্জয়। রাতারাতি পালাবদলের রহস্য ঠিক কী? দেবাশিসের যুক্তি, ‘সৃঞ্জয়ের সঙ্গে পারিবারিক সম্পর্ক। মোহন বাগানের স্বার্থে আলোচনার মাধ্যমে আমরা একসঙ্গে পথ চলার অঙ্গীকার করেছি।’ অন্যদিকে সৃঞ্জয় জানালেন, ‘আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে সব ক্ষেত্রেই দূরত্ব মেটানো যায়। ফুটবল টিমের মতো সেরা ম্যানেজমেন্ট সমর্থকদের উপহার দিতে চাই।’