সংবাদদাতা, পতিরাম ও গঙ্গারামপুর: একইদিনে জোড়া সুখবর দক্ষিণ দিনাজপুর জেলায়। বাণগড় পর্যটন কেন্দ্রের কাজ শুরুর পাশাপাশি বালুরঘাট থেকে হাওড়াগামী ট্রেনে এলএইচবি কোচের উদ্বোধন করলেন মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার।
সংবাদদাতা, পতিরাম ও গঙ্গারামপুর: একইদিনে জোড়া সুখবর দক্ষিণ দিনাজপুর জেলায়। বাণগড় পর্যটন কেন্দ্রের কাজ শুরুর পাশাপাশি বালুরঘাট থেকে হাওড়াগামী ট্রেনে এলএইচবি কোচের উদ্বোধন করলেন মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার।
রবিবার সন্ধ্যায় ওই কোচের উদ্বোধন করেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী তথা বালুরঘাটের সাংসদ সুকান্ত। সঙ্গে ছিলেন উত্তর-পূর্ব সীমান্ত রেলের কাটিহারের ডিআরএম সুরেন্দ্র কুমার, তপনের বিধায়ক বুধরাই টুডু সহ অন্যরা। ঝাঁ চকচকে কোচ পেয়ে খুশি রেলযাত্রীরা।
দুই অনুষ্ঠানে রাজ্যের ক্রেতা সুরক্ষা মন্ত্রী বিপ্লব মিত্রকে আমন্ত্রণ জানানো হলেও এদিন তাঁকে দেখা যায়নি। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত বলেন, বালুরঘাট রেল স্টেশনে নানা কাজ হচ্ছে। বালুরঘাট-হাওড়া এক্সপ্রেসে পুরনো কোচ ছিল। এবার তা বদলে অত্যাধুনিক ঝাঁ চকচকে এলএইচবি কোচ দেওয়া হচ্ছে। আমি চেষ্টা করছি, আগামীতে আরও রেলের কাজ করার।
রেল সূত্রে খবর, বালুরঘাট-হাওড়া ট্রেনটি অনেক পুরনো। একসময় দু’দিন চললেও এখন শনি ও রবিবার বাদে সপ্তাহে পাঁচদিন ট্রেনটি বালুরঘাট থেকে কলকাতার উদ্দেশে রওনা দেয়। রাত পৌনে নয়টায় বালুরঘাট থেকে ছাড়ে। কলকাতা পৌঁছয় ভোরে। কলকাতা থেকে ৭ টা ৫০ মিনিটে ছেড়ে বিকেল পাঁচটার পর বালুরঘাটে এসে পৌঁছয় ট্রেনটি। ট্রেনের বগি নিয়ে বিস্তর অভিযোগ ছিল যাত্রীদের। এবার সেগুলি বদলে এলএইচবি কোচ দেওয়া হচ্ছে।
এদিকে, এদিনই বাণগড় পর্যটন কেন্দ্রে ৩ কোটি বরাদ্দে কাজের সূচনা করলেন সুকান্ত। অস্থায়ী মঞ্চ করে বাণগড়ের পতিত জমি ঘেরার কাজের সূচনা অনুষ্ঠানে জেলা ও মালদহের বিজেপির জনপ্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। আগামী এক বছরের মধ্যে ফেন্সিং ও বাণগড় এলাকায় লাইট, শৌচালয়ের কাজ হবে। প্রথম ধাপে ৩ কোটি টাকা বরাদ্দ হলেও বাকি প্রায় ৪৫ কোটি টাকার প্রজেক্ট রিপোর্ট এএসআইয়ের দপ্তরে জমা করেছেন গঙ্গারামপুরের বিধায়ক সত্যেন রায়।
এদিনের অনুষ্ঠানে থাকার জন্য সত্যেন, রাজ্যের মন্ত্রী বিপ্লবকে আমন্ত্রণ করলেও তিনি আসেননি। বিপ্লবের প্রতিক্রিয়া, আমাকে ব্যক্তিগতভাবে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। সরকারিভাবে কিছু জানানো হয়নি। তাছাড়া আমার অন্য জায়গায় কর্মসূচি ছিল।
এএসআই’র অধীনে বাণগড়ে প্রায় ৬৫০ একর জমি রয়েছে। বর্তমানে বাণগড়ে খনন করা পরিখার পাশেই পতিত জমিতে দেদার চাষাবাদ চলে বলে অভিযোগ। ২০০৯-’১০ সালের পর আর খনন করে বাণগড়ের ইতিহাস উদ্ধার করেনি ভারত সরকারের এই সংস্থা। বহু বছর আগের পাল ও সেন যুগের ইতিহাস খুঁজে পাওয়া গিয়েছে বাণগড়ে। এছাড়াও বাণগড় নিয়ে নানা কাহিনি প্রচলিত জেলাবাসীর মধ্যে।