Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

‘বিএলও বলছি, ওটিপি বলুন জলদি’! ‘ছবি বদলাতে আধার নম্বর দিন’, এসআইআর পর্বে প্রতারণার নয়া ফাঁদ

ফাঁদ -১: ‘আমি বিডিও অফিস থেকে বলছি। আপনার ফোনের ওটিপি ঩গিয়েছে, জলদি বলুন। নাহলে এসআইআর থেকে নাম বাদ চলে যাবে।’

‘বিএলও বলছি, ওটিপি বলুন জলদি’! ‘ছবি বদলাতে আধার নম্বর দিন’, এসআইআর পর্বে প্রতারণার নয়া ফাঁদ
  • ১৭ নভেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত, কলকাতা ও বিধাননগর: ফাঁদ -১: ‘আমি বিডিও অফিস থেকে বলছি। আপনার ফোনের ওটিপি ঩গিয়েছে, জলদি বলুন। নাহলে এসআইআর থেকে নাম বাদ চলে যাবে।’ ভীত-সন্ত্রস্ত হয়ে পড়ছেন মানুষ। কিছু না ভেবেই করছেন তা শেয়ার। আর তাতেই প্রতারকদের কেল্লাফতে। নিমেষে টাকা গায়েব।

Advertisement

ফাঁদ –২: এসআইআর ফর্মে ছবি আপডেট না হলে ভোটার তালিকায় নাম উঠবে না। হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরে ছবি আর আধার নম্বর পাঠান। তাহলেই এসআইআর তালিকায় আপনার ছবি আপডেট করে দেওয়া হবে। নাহলে নাম বাদ। আতংকিত হয়ে ছবি, আধার শেয়ার করলেই গায়েব হতে পারে টাকা। 
রাজ্যে এখন চর্চায় এসআইআর। কীভাবে ফর্ম ফিল-আপ, ছবি দেওয়া আবশ্যিক কী? এসব নিয়ে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে একাধিক বিভ্রান্তিতে ভুগছে আম জনতা। সেই বিভ্রান্তি থেকে আতংক জন্মাচ্ছে সাধারণ মানুষের মধ্যে। এই সুযোগকে পুরোদমে কাজে লাগাতে এবার আসরে নেমেছে প্রতারকের দল। বারাসতের কদম্বগাছি ও অশোকনগরে ইতিমধ্যেই এনিয়ে অভিযোগ পেয়েছে বারাসত জেলা পুলিশ। একইসঙ্গে সচেতনতার বার্তা দিচ্ছে রাজ্য পুলিশ। ফর্ম পূরণের সময় ভোটারের মোবাইল নম্বর দিতে হয়। এই প্রক্রিয়াকেই হাতিয়ার করেছে প্রতারকরা। বলা হচ্ছে, আপনার এসআইআর ফর্মের নম্বর পেলাম। আর ভোটার কার্ডের জন্য প্রসেস করতে ওটিপি লাগবে। আমি বিডিও অফিস থেকে বলছি। অনেকে প্রতারক আবার একধাপ এগিয়ে বলছে, আমি আপনার এলাকার বিএলও। ফোনে তাদের একটাই কথা মোবাইলে ওটিপি এসেছে? সঙ্গে সঙ্গে বলুন। অনেকেই ঘাবড়ে গিয়ে বলে দিচ্ছেন। সেখানেই বিপদের শুরু। প্রতারণা চক্রের লোকজন ওটিপি ব্যবহার করে ভোটারদের ব্যক্তিগত তথ্য বদলে দিচ্ছে। আর অ্যাকাউন্টে থাকা টাকাও নিমেষে গায়েব হচ্ছে। পুলিশের দাবি, ‘এসআইআর ফর্মের জন্য ফোনে কখনও ওটিপি চাওয়া হয় না। অচেনা নম্বর থেকে ফোন এলে সতর্ক হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে’।
অন্যদিকে, প্রতারণার উদ্দেশ্যে আরও এক ধরনের ফাঁদ পাতছে প্রতারকরা। ফর্মের ছবি আপডেটের নাম করে ছবি আর আধার নম্বর চাওয়া হচ্ছে। কিন্তু, এসআইআরের সঙ্গে আধার নম্বরের কোনও সম্পর্ক নেই। তাহলে কেন আধারের নম্বর চাওয়া হচ্ছে। সাইবার বিভাগের আধিকারিকরা বলছেন, ‘আধার এনাবেল্ড পেমেন্ট সিস্টেম’-এর মাধ্যমে টাকা হাতানোর ছক কষছে প্রতারকরা। তাই আধার নম্বর শেয়ারের কোনও প্রয়োজন নেই বলেই জানাচ্ছেন উর্দিধারীরা। 
কীভাবে হচ্ছে এই প্রতারণা? পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ডার্কওয়েব থেকে প্রতারকদের হাতে চলে এসেছে বহু গ্রাহকের আধার কার্ডের নম্বর। বর্তমানে, দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ‘আধার অ্যানাবেল্ড পেমেন্ট সিস্টেম’ (এইপিএস) রয়েছে। যেখানে আধার কার্ডের নম্বর দিয়ে টাকা তোলা যায়। প্রতারকরা, টাকা তোলার জন্য সেই আধার নম্বর ইনপুট করছে। কিন্তু, ওটিপি যাচ্ছে গ্রাহকের মোবাইলে। তাই এসআইআরের নাম ভাঙিয়ে সেই ওটিপি আদায় করছে। ওটিপি দিয়ে দিলে প্রতারকরা সহজেই টাকা তুলে নেবে। তবে, এক্ষেত্রে লক্ষ লক্ষ টাকা তুলতে পারবে না। কারণ, এই ধরনের ব্যবস্থায় একবারে ৯৯৯৯ টাকা তোলা যায়। ইতিমধ্যেই রাজ্যের কয়েকটি জায়গা থেকে এই ধরনের খবর এসেছে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ