হিউস্টন: কানসাস সিটির মিসৌরি নদীর কোল ঘেঁষা ট্রেনিং ফেসিলিটি। সবুজের সমারোহে চারপাশ বেশ শান্ত। কিন্তু শুক্রবার সকাল থেকেই অন্য ছবি। নদীর পাড়ে হাঁটার জন্য ট্রেইল কমলা জার্সিতে ভরে গিয়েছে। এবং সমানে স্লোগান উঠছে ‘হুপ হল্যান্ড হুপ’। বাংলায় অর্থ, চলো হল্যান্ড চলো। জাপান ম্যাচে নেদারল্যান্ডসের হোঁচটের পর এভাবেই প্রিয় দলকে উজ্জীবিত করছেন সমর্থকরা। তবে ডাচ কোচ রোনাল্ড কোম্যানের সেদিকে নজর নেই। তিনি ব্যস্ত সুইডেন বধের নীল নকশা বানাতে। তাই কখনও মাঝমাঠের ভরসা ফ্র্যাঙ্কি ডে জংকের সঙ্গে পরামর্শ করছেন তো পরক্ষণেই কডি গাকপো, মেম্ফিস ডিপেদের ভুল ধরিয়ে দিচ্ছেন হেড স্যার। লক্ষ্য একটাই — যেনতেনপ্রকারেণ হিউস্টন স্টেডিয়ামে গ্রুপ শীর্ষে থাকা সুইডেনের বিরুদ্ধে জয়।
সুইডিশরাও অবশ্য ছেড়ে দেওয়ার পাত্র নয়। প্রথম ম্যাচে তিউনিসিয়াকে ৫-১ ব্যবধানে হারিয়ে রীতিমতো হুমকি দিচ্ছে গ্রাহাম পটার-ব্রিগেড। এই দলের সঙ্গে ১৯৯৪ বিশ্বকাপের সুইডেনের সাদৃশ্য পাচ্ছেন অনেকে। ৩২ বছর আগে আমেরিকার মাটিতেই ফুটবল বিশ্বকে চমকে দিয়েছিল সুইডিশ বাহিনী। টমাস ব্রোলিন, মার্টিন ডাহলিনের যুগলবন্দিতে তৃতীয় স্থানে মেগা আসর শেষ করে তারা। ভাগ্য সহায় থাকলে চ্যাম্পিয়নও হতে পারত সুইডেন। চলতি বিশ্বকাপেও একই ছবি, শুধু নামগুলি বদলেছে। গ্রাহাম পটারের দলের ব্রোলিন-ডাহলিন হলেন ইশাক ও গয়েকেরেস। শনিবার এই দুই স্ট্রাইকারকে রুখতে না পারলে নেদারল্যান্ডসের কপালে দুঃখ রয়েছে। তবে ডাচ কোচ কোম্যানও ধুরন্ধর। জাপানের বিরুদ্ধে দু’বার লিড নিয়েও তাঁর দল জিততে পারেনি ঠিকই। সুইডেনের বিরুদ্ধে কোনোরকম ভুল করতে নারাজ তিনি।
কোম্যান সাধারণত ৪-৩-৩ ফর্মেশনে দল সাজান। তাঁর দলের নিউক্লিয়াস তরুণ মিডিও ফ্র্যাঙ্কি ডে জং। বার্সার এই তারকাই পুরো খেলা ছড়িয়ে দিলে জীবন্ত হয়ে ওঠে ডাচ অ্যাটাক। তখন কডি গাকপো, ডিপেরা রীতিমতো ভয়ঙ্কর। তাই সুইডেনের কোচ পটার নিশ্চিতভাবে ফ্র্যাঙ্কিকে কড়া মার্কিংয়ে রাখতে চাইবেন। অবশ্য ডে জং ছাড়াও মাঝামাঠে টিজানি রেইন্ডার্স, গ্রাভেনবার্খের মতো ফর্মে থাকা মিডিও আছেন। তবে আক্রমণভাগে মেম্ফিস ডিপে এখনও পুরোপুরি সুস্থ নন। তাই সুইডেনের বিরুদ্ধেও পরিবর্ত হিসেবে দেখা যেতে পারে। পক্ষান্তরে, সুইডেনের কোচ পটার ৩-১-৪-২ চলতি আসরের সবচেয়ে ইন্টারেস্টিং ফর্মেশনে। ফর্মে থাকা দুই স্ট্রাইকার ইশাক ও গয়েকেরেসকে একসঙ্গে রাখার ব্লু-প্রিন্ট তৈরি করেছেন তিনি। তাই ভার্জিল ফন ডিকদের সতর্ক থাকতে হবে। পরিসংখ্যান বলছে, অতীতে এই দু’দল মোট ২৫ বার মুখোমুখি হয়েছে। তারমধ্যে ডাচরা জিতেছে ১১বার আর সুইডেন ৮বার। তাই খাতায় কলমে অবশ্যই নেদারল্যান্ডস এগিয়ে। তবে হিউস্টনের মাঠে চমক দিতে তৈরি সুইডিশরা।