টরন্টো: ‘ফুটবল খেলা বেশ সহজ। ৯০ মিনিট বল দখলের লড়াই করে ২২ জন ফুটবলার। শেষ পর্যন্ত অবশ্য জেতে জার্মানিই।’ ইংল্যান্ডের প্র্যাক্তন স্ট্রাইকার গ্যারি লিনেকার মন্দ বলেননি। জিততে ভালোবাসে সবাই। কিন্তু জার্মানরা অন্য ধাতুতে গড়া। প্রবল জাত্যাভিমান তাদের শিরায়, ধমনীতে প্রবাহমান। শেষ মিনিট পর্যন্ত নাছোড়বান্দা লড়ায়ইয়ের পেটেন্ট জার্মান ভল্টে সুরক্ষিত। ফুটবল মাঠে বেকেনবাওয়ারের দেশ নির্মম। প্রতিপক্ষের উপর সপাসপ চাবুক চালিয়েও ক্লান্তিহীন। আক্রমণের রোলার চালিয়ে তুবড়ে মুচড়ে দিতে চায় জার্মানরা। যা বাকিদের জন্যও অদৃশ্য বার্তা বয়ে আনে, ওহে সাবধান। জার্মানরা আসছে। ম্যাচের আগেই মানসিক যুদ্ধ জেতার প্রেসার ট্যাকটিক্স। কুরাসাও ম্যাচের কথা ধরা যাক। বিরতির আগেই ম্যাচ পকেটে। অন্য কোনো দল হলে বল পজেশনে সময় কাটাত। জার্মানরা থামল সাত গোলের মালা পরিয়ে। হোক না অপেক্ষাকৃত দুর্বল প্রতিদ্বন্দ্বী। সাত গোল আসলে অন্যদের বুকে কাঁপুনি ধরানো।
শনিবার রাতে ফের মাঠে নামছে জুলিয়ান নাগেলসম্যানের দল। ভারতীয় সময় রাত দেড়টায় চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের সামনে আইভরি কোস্ট। তবে ম্যাচের আগে বেশ চাঞ্চল্য জার্মান শিবিরে। নর্থ ক্যারোলিনার ওয়েস্ট ফরেস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ে বেস ক্যাম্প সাজিয়েছেন নাগেলসম্যান। এদিন বিষাক্ত কপারহেড সাপের দেখা মেলে ঘাসের জঙ্গলে। পরে তা উদ্ধার করা হয়। জার্মান অধিনায়ক কিমিচ বলেছেন, ‘প্রতিপক্ষ নিয়ে আলাদা পরিকল্পনা থাকেই। কিন্তু ঘাসের ভিতর কি আছে জানা সম্ভব নয়। শুনেছি, এই ধরনের সাপ খুবই বিষাক্ত। কামড়ালে রক্ষা নেই।’ এটুকু বিড়ম্বনা বাদে নাগেলসম্যানের শিবির বরফ জলে চোবানো শশার মতো ঠান্ডা। ফোকাসে শুধু আইভরি কোস্ট। প্রতিপক্ষ রক্ষণের শ্যেপ দ্রুত ভাঙাই একমাত্র লক্ষ্য। জার্মান মিডিয়ায় বায়ার্নের কোর গ্রুপ নিয়ে জোর চর্চা। ন্যুয়ের, জোসুয়া কিমিচ, গোরেটস্কা , জোনাথন টা, মুসিয়ালা, পাবলোভিচরা একসঙ্গে প্রচুর ম্যাচ খেলেছেন। জাতীয় দলেও এই সেট ব্যবহার করছেন নাগেলসম্যান। শ্লটারবেক পাশাপাশি রোবটের মতো অপারেট করেন। নিঃশব্দ ওঠানামায় জ্যামিতির মাপ। কিমিচ সেকেন্ড বল উইন করায় দক্ষ। নাথানিয়াল ব্রাউন উইং ব্যাক কম, বরং উইং হাফের ভূমিকায় সাবলীল বেশি। ক্রমাগত ওভারল্যাপে এসে চাপ বাড়ান। আলেকজান্ডার পাবলোভিচ, লেরয় সানের দিকে নজর রাখতে হবে। স্ট্রাইকার হাভার্টের ঠিক পিছনে জামাল মুসিয়ালাকে খেলিয়েছেন নাগেলসম্যান। প্রথম ম্যাচে ঢেউয়ের মতো আক্রমণে দিশাহারা কুরাসাও।
ঠিক সময়ে ছন্দ পেতে জার্মানদের জুড়ি নেই। তবে মুদ্রার অন্য পিঠও আছে। বিশ্বকাপে প্রথম অভিষেক ঘটেছে কুরাসাওদের। হাঁটি হাঁটি পা পা থেকে সাবালক হতে ঢের দেরি। তাই বড় ব্যবধানে জিতলেও জার্মানির আসল পরীক্ষা এখনো শুরুই হয়নি। প্রতি-আক্রমণের বিরুদ্ধে নাগেলসম্যানের ডিফেন্স পরীক্ষিত নয়। শক্তিধর প্রতিপক্ষ এত জায়গা দেবে না। নক-আউটের জন্য নাগেলসম্যান কি অস্ত্র লুকিয়ে রাখবেন?