


তেহরান: ইজরায়েল-আমেরিকার যৌথ সামরিক অভিযানে ক্ষতবিক্ষত ইরান। হামলায় ইতিমধ্যে প্রাণ হারিয়েছেন তেহরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেই। তাহলে কি শিয়া কট্টরপন্থী শাসনের পতন এখন শুধুই সময়ের অপেক্ষা? ফের মসনদে বসবে পেহলভি রাজবংশ? বর্তমানে পশ্চিম এশিয়ার আকাশে-বাতাসে এই প্রশ্নই ঘুরপাক খাচ্ছে। তবে এই কাজ যে মোটেই সহজ হবে না, তা স্পষ্ট করে দিয়েছে বিশেষজ্ঞ মহল। প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকরা জানিয়েছেন, যুদ্ধে জয় নিশ্চিত করতে ইরানের বহু শীর্ষস্থানীয় নেতাকে সরাতে হবে। শীঘ্রই এই কাজ শেষ না করলে বড়োসড়ো ক্ষতির মুখে পড়তে পারে আমেরিকা ও ইজরায়েল।
শনিবার সকালে ইরানজুড়ে হামলা চালায় ইজরায়েল ও আমেরিকা। এই বিশেষ অভিযানের নাম ‘অপারেশন লায়ন্স রোর’। মার্কিন আগ্রাসনের পোশাকি নাম ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’। ইজরায়েলি সংবাদমাধ্যমের দাবি, ইতিমধ্যে খামেনেই সহ ছ’জন শীর্ষ স্থানীয় নেতার মৃত্যু হয়েছে। তালিকায় থাকা বাকি সদস্যদের হত্যার মরিয়া চেষ্টা চালাচ্ছে মোসাদ ও সিআইএ। শীর্ষ নেতাদের পাশাপাশি সেখানে রয়েছেন ইরানের বেশ কয়েকজন সেনা কমান্ডার। খামেনেইয়ের পরেই হিটলিস্টে রয়েছেন ইরানের প্রসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। দীর্ঘদিন ধরে হামাস-হুথি সহ প্যালেস্তাইনপন্থী বিদ্রোহীদের মদত দিয়েছেন তিনি। রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন সহ বহু রাষ্ট্রনেতার সঙ্গেও তাঁর ভালো সম্পর্ক রয়েছে। শনিবারের অভিযানে পেজেশকিয়ানকে হত্যার ছক কষেছিল তেল আভিভ ও ওয়াশিংটন। সেইমতো তাঁর বাসভবন ও সদর দপ্তরে হামলা চালানো হয়। তবে সেই সময় সেখানে না থাকায় প্রাণে বেঁচে যান ইরানের প্রেসিডেন্ট।
পেজেশকিয়ানের পর যৌথ বাহিনীর অন্যতম পথের কাঁটা মহম্মদ বাঘের কালিবাফ। বর্তমানে ইরানি পার্লামেন্টের স্পিকার পদে রয়েছেন তিনি। যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে শিয়া ফৌজের কমান্ডরদের ডেপুটি হিসাবেও কাজ করেছেন তিনি। খামেনেইয়ের মৃত্যুর পরেই আমেরিকা ও ইজরায়েলকে চরম হুঁশিয়ারি দেন কালিবাফ। ভিডিয়ো বার্তায় তিনি বলেন, ‘এর জন্য আমেরিকা ও ইরান দায়ী। তোমরা আমাদের লাল রেখায় পা দিয়েছ। এবার মূল্য দিতে হবে। এমন হামলা চালাব যে ক্ষমার জন্য ভিক্ষা চাইতে হবে।’ কালিবাফ ছাড়াও আমেরিকার চিন্তার অন্যতম কারণ সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিওরিটি কাউন্সিলের সচিব আলি লারিজানি। গত জুনে ইজরায়েলের সঙ্গে যুদ্ধের সময় দেশ চালানোর দায়িত্ব ছিল তাঁর উপর। শনিবার খামেনেইয়ের সঙ্গে বৈঠকে করছিলেন তিনি। তখনই হামলা চালায় দুই দেশের যৌথ বাহিনী। খামেনেইয়ের মৃত্যু হলেও প্রাণে বেঁচে যান লারিজানি। এছাড়াও রয়েছেন খামেনেই-পুত্র মোজতবা, আব্বাস আরাঘচি ও সাদেক লারিজানি। আরাঘচি বর্তমানে ইরানের বিদেশমন্ত্রীর পদে রয়েছেন। অন্যদিকে এক্সপিডিয়েন্সি ডিসার্নমেন্ট কাউন্সিলের চেয়ারম্যানের দায়িত্বে রয়েছেন লারিজানি।
হামলা চালানোর আগে বারবার ইরানের বিক্ষোভকারীদের পাশে থাকার বার্তা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। বিশেষজ্ঞদের মতে, ট্রাম্প ভাবছেন যে আইআরজিসি ও ইরানের সেনার বহু সদস্য বিদ্রোহ ঘোষণা করবেন। যার ফলে সহজেই ভেঙে পড়বে শিয়া শাসন। তবে এমনটা নাও হতে পারে। বিশেষজ্ঞ ত্রিতা পারসির কথায়, ‘আমার মনে হয়, খামেনেইয়ের মৃত্যুর জন্য আগে থেকেই প্রস্তুত ছিল তেহরান। ইরান সহজে যুদ্ধ থামাতে চাইবে না। আমেরিকাকে বড়োসড়ো আর্থিক ক্ষতিতে ফেলাই ওদের লক্ষ্য।’ একই কথা বলেছেন করিম সাদজাদপুর। তাঁর বক্তব্য, ‘এই পরিস্থিতিতে একজোট হয়ে উত্তর কোরিয়ার থেকেও বেশি নৃশংস হয়ে উঠতে পারে এই প্রশাসন। ওরা হয় মারবে, নয় মরবে।’