


নিজস্ব প্রতিনিধি, বিধাননগর: স্বাধীনতা আন্দোলনের মহানায়ক নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর অন্তর্ধান রহস্য আজও অপ্রকাশিত। তাইহোকু বিমান দুর্ঘটনায় নেতাজির মৃত্যু নিয়ে বির্তক চলছেই। পরিবারের একটা অংশ স্বীকার করে নিলেও অনেকেই তা মানতে নারাজ। এবার সেই বিতর্কিত অধ্যায়কে প্রমাণ করে দিতে প্রকাশ করা হল ১৯৫৬ সালের তাইওয়ান সরকারের রিপোর্ট! লন্ডন থেকে সংগ্রহ করা দুই গবেষকের সেই রিপোর্ট প্রকাশ করলেন নেতাজির মেজদাদা শরৎচন্দ্র বসুর বড় ছেলে অশোকনাথ বসুর উত্তরসূরিরা। বৃহস্পতিবার সেই রিপোর্ট প্রকাশ করে জানানো হয়, বিমান দুর্ঘটনায় নেতাজির মৃত্যু হয়নি!
গবেষক ও লেখক সৈকত নিয়োগী ও সৌমব্রত দাশগুপ্তের উদ্যোগে তাইওয়ান সরকারের রিপোর্ট কলকাতায় আনা হয়েছে। এদিন কলকাতা প্রেস ক্লাবে নেতাজির দুই নাতনি তথা অশোকনাথবাবুর মেয়ে জয়ন্তী রক্ষিত, তপতী ঘোষ এবং নেতাজির নাতি তথা অশোকনাথবাবুর ছেলে আর্য বসুর ওই রিপোর্ট প্রকাশ করা হয়। রিপোর্টের কপি বিলিও করা হয় এদিন। সেখানে দুই তরুণ গবেষক ছাড়াও বিচারক বিপ্লব রায় উপস্থিত ছিলেন। গবেষক সৌম্যব্রত দাশগুপ্ত বলেন, ‘বর্তমান পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ও প্রখ্যাত সাংবাদিক বরুণ সেনগুপ্তের লেখা পড়েই তাইওয়ান রিপোর্টের কথা প্রথম জেনেছিলাম। কিন্তু, রিপোর্টটি তখন আমরা হাতে পাইনি। পরে ওই রিপোর্ট পাওয়ার পর আমরা দেখলাম, বরুণবাবুসহ যাঁরা বিমান দুর্ঘটনায় নেতাজির মৃত্যুকে মানতেন না, তাঁরাই সঠিক।’
গবেষক সৈকত নিয়োগী বলেন, ‘নিয়ম মেনে লন্ডনের ন্যাশনাল আর্কাইভে গিয়ে আমি তাইওয়ান সরকারের রিপোর্টটি সংগ্রহ করি। ১৯৫৬ সালের রিপোর্ট। অথচ, সেই সময় ভারত সরকার, সেই রিপোর্ট প্রকাশ করেনি। এতে পরিষ্কার বলা আছে, যে হাসপাতালে নেতাজির মৃত্যু হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছিল, তাইওয়ান সরকার নিজেরা দাবি করছে, মৃত্যুর সঠিক তথ্যই তাতে নেই! এছাড়াও বহু প্রামাণ্য বিষয়ের উল্লেখ রয়েছে তাতে। তা থেকে আমরা একেবারে নিশ্চিত যে, বিমান দুর্ঘটনায় নেতাজির মৃত্যু হয়নি। অর্থাৎ, যাঁর মৃত্যুই হল না, তাঁর চিতাভস্ম কী করে রাখা আছে!’
নেতাজির নাতনি জয়ন্তী রক্ষিত বলেন, ‘বিমান দুর্ঘটনায় নেতাজির মৃত্যুর খবর, আমরা কোনওদিনই বিশ্বাস করিনি। তাইওয়ানের এই রিপোর্ট সেই বিশ্বাসেই সিলমোহর দিল। তাই চিতাভস্মও যে তাঁর নয়, এটা পরিষ্কার। বিচারক বিপ্লব রায় বলেন, ‘বিমান দুর্ঘটনার খবরটি যে সঠিক ছিল না, তাইওয়ান সরকারের এই রিপোর্টই তার প্রমাণ।’