সত্যজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়, বারুইপুর: জয়নগর-মজিলপুর প্রাচীন শহর। জায়গাটি স্বাধীনতা আন্দোলনের সময় আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছিল। মজিলপুর ব্যায়াম সমিতি ছিল বিপ্লবীদের গোপন আস্তানা। সমিতির সদস্যরা মানুষের জন্য প্রাণ দিতে প্রস্তুত থাকতেন। ১৯৩১ সালের ১৮ অক্টোবর দুর্গাপুজোর অষ্টমীর দিন প্রতিষ্ঠা হয়েছিল সমিতির। সেদিন এসেছিলেন নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু। জয়নগর থানার মোড়ে গাড়ি থেকে নেমেছিলেন। সেখান থেকে এক কিলোমিটার দূরত্বের পথ কুচকাওয়াজ সহযোগে তাঁকে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল সমিতির ঘরে। সেই ঐতিহাসিক ব্যায়াম সমিতির আজ চিহ্নমাত্র নেই। মজিলপুরের বোস পাড়ায় নেতাজির স্মৃতি রাখতে একটি মূর্তি বসানো হয়েছিল। সেটি রয়েছে শুধু। নেতাজির জন্মদিবসে জায়গাটি সাজিয়ে তোলে জয়নগর-মজিলপুর পুরসভা।
জয়নগর-মজিলপুর পুরসভার পাঁচ নম্বর ওয়ার্ডে রয়েছে বোস পাড়া। এই এলাকার এক প্রবীণ ব্যক্তি হলেন লালমোহন ভট্টাচার্য। তিনি প্রাক্তন কাউন্সিলার। তিনি বলেন, ‘এই ব্যায়াম সমিতিতে প্রতিদিন বিপ্লবীদের কর্মকাণ্ড চলত। কানাইলাল ভট্টাচার্য, তিনকড়ি দাস, সুনীল চট্টোপাধ্যায় রজনীকান্ত ভট্টাচার্য, সৌরেন দত্ত, অনিল চট্টোপাধ্যায়ের মতো বিপ্লবীরা আসতেন। বারুইপুর থেকে আসতেন সাতকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়। সমিতিতে নারীবাহিনীও ছিল। এখানকার ছেলে-মেয়েরা গ্রামের যে কোনও বিপদে ঝাঁপিয়ে পড়তেন। লাঠিচর্চায় দক্ষ ছিলেন ছেলেরা। জমিদারের লাঠিয়ালরা পর্যন্ত ভয় পেত তাঁদের।’ লালমোহনবাবু জানান, সে সময় নেতাজির আগমন ঘিরে শোরগোল পড়ে গিয়েছিল। সন্ধ্যা থেকে গভীর রাত পর্যন্ত মাদুরে বসে সমিতির সদস্যদের সঙ্গে আলোচনা চালিয়েছিলেন নেতাজি। নেতাজির কাছ থেকে গোপন পরামর্শ পেয়ে এই এলাকার বিপ্লবীরা উদ্বুদ্ধ হয়েছিলেন। প্রসঙ্গত নেতাজির বাবা জানকীনাথ বসু জয়নগর ইন্সটিউটশনের প্রধান শিক্ষক ছিলেন। তিনি থাকতেন দত্ত বাড়িতে। বোস পাড়ায় যেখানে সমিতির ঘর ছিল সেখানে আজ শুধু বাড়িঘরদোর। ২০১৭ সালের ২৩ জানুয়ারি পুরসভার চেয়ারম্যান সুজিত সরখেল একটি স্মারক স্তম্ভের উপর নেতাজির মূর্তি স্থাপন করেছিলেন। আর স্মারক স্তম্ভটি জয়নগর-মজিলপুর নেতাজি জন্মশতবর্ষ কমিটির দ্বারা ১৯৯৮ সালের ২৩ জানুয়ারি প্রতিষ্ঠা হয়েছিল।